শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

একশ'আটষট্টি বিয়োগ এক...

আজ আকাশ ছিলো ঘণ নীল
তোমার বিষাদ যন্ত্রণায়
আজ সময় কেটেছে ক্ষুরধার
তোমার কন্ঠের প্রতীক্ষায়
আজ হৃদয় জল থই থই
তোমায় দেখার আকাঙ্খায়
আজ চাঁদ ঘেরা মেঘ গাঢ়তম
তোমার গড়া অচেনা বলয়

সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০১৪

স্ক্রিবলস...

৩১১২১৩
হতবিহ্বল চোখে মৃত্যুর দিকে তাকিয়ে থাকতো একটি কালো কাক। নগরের কুয়াশাপ্রপাতের ভিতরেও ঋজু হয়ে থাকা দোলনচাঁপাগুলো কোনো স্বপ্ন আঁকতে পারেনি কাকটার স্বচ্ছ চোখে। সাঁ সাঁ ছুটে যেতে থাকা সময়ের গাড়িটা ছিনিয়ে নিয়েছে একের পর এক রঙধনু ঠিকরানো পালক; তারপরও, বোকা কাকটা একের পর এক জমিয়ে রেখেছে দোলনচাঁপার পাপড়ি। যদি তুমি আসো, যদি কথা বলো একটু হেসে...
বইয়ের ভাঁজে থাকা সাদা দোলনচাঁপারা দিনে দিনে বাদামী হয়ে আসে। বছর সরে যায় রেশম স্পর্শে...
কাকটা বসে থাকে কার্ণিশে, এগিয়ে আসা মৃত্যু দেখে আগ্রহী চোখে...

৬১১৪
সিল্যুয়েট মানুষগুলোর চোখের ভাষা কেউ পড়তে পারেনা
আলো আর অন্ধকারে ঢেকে যায় গ্রে টোনের বিষণ্ণতা...

১৩১১৪
কিছু সময় উড়ে যাক উত্তুরে বাতাসে
বেঁচে ওঠার গান লেখা হোক মরা ঘাসের প্রান্তরে
পরিযায়ী বালিহাঁস খুঁজে নিক শান্ত দিঘীর জল
আলো জ্বলে উঠুক দিগন্ত থেকে দিগন্তে...

১৭১১৪
ভাবলেই...
কুয়াশা জড়িয়ে ধরে সুর্য, সবুজ গাছ আর অট্টালিকার জানালা
নগরের পথ গুলো নদী হয়, জলভরা চোখ
শৈত্য প্রবাহের আঁচড়ে ক্ষতবিক্ষত...

১৯১১৪ (৯৫৫)
দরজা খুলে দাও প্রিয়তমা,
রোদ জমেছে কুয়াশার চাদরে চাদরে;
ফেলে আসা পথের ক্লান্তি ছুঁড়ে ফেলে দাও প্রতিদিনের উচ্ছিষ্টে...
জানালা খুলে দাও প্রিয়তমা,
জালিকাটা আলো পড়ুক ঘরের জমিনে;
গ্লাস ভরে পান করো নতুন সময়ের অমৃত...

১৯১১৪(২৩৫৩)
সকালের কুয়াশা ভেঙ্গে গেলে, ব্যাস্ত জুতোর দল নেমে পড়ে নগরের গহীনে। ধুলোর পরত জমতে থাকে অব্যবহৃত ওভারব্রীজ কার্ণিশে আর অনেকের মনে। নিরানন্দ সময় বয়ে চলে ধীরে, বিকেলে, চায়ের কাপের দিকে...

২২১১৪
মরা জোছনার ছলছল চোখ...

২৫১১৪
মূলত, দুজনেই সেখানে বসে ছিলো নিজেদের সবটুকু একাকীত্ব নিয়ে...

৪২১৪
ভুলে যাওয়া সময়ের শৈত্য প্রবাহে জীবন উড়িয়ে দিয়ে সে জানতে চাইলো ভালো আছোতো?

৯২১৪
ভাবনার দরজা জানালা গুলো সব বন্ধ করে দিলাম। আজ থেকে আর সাঁঝবাতি দেবোনা কোথাও, মনের কোনো ঘরে...

১০২১৪
অলিভ এন্ড মিন্ট লিভস...
জ্বরগ্রস্ত শহর থমকে থাকে সন্ধ্যায়, ফ্লাইওভারের কোন ঘেঁষে;
তিরতির করে ছুটে চলে ঘড়ির কাঁটা, গোধুলী থেকে রাতের দিকে;
ধুলো - ধোঁয়া - কফির ঘ্রাণে টপিংস।

১১২১৪
কিছু সময়, খুন হয়ে যাক ছুরির ধারালো চুমুতে
কিছু রাত, ঘুম হয়ে যাক স্বপ্ন পাখির সুরেতে
কিছু ভুল, তুলে রাখা যাক স্মৃতির হলদেটে বইয়েতে
কিছু গান, ভেসে চলে যাক অধরা মেঘলা আকাশে
কিছু দুঃখ, ঝরে পড়ে যাক বৃষ্টি নামের নদীতে...

১৫২১৪
ভেজা পথ জুড়ে প্রতিফলনের লাল রঙ...

১৮২১৪
ইউক্যালিপটাস গন্ধী বৃষ্টি সকাল...

১৯২১৪
কিন্তু পার্সিফনি বাঁচতে পারেনি! ও ভালোবাসতো ইকারুস কে, ভেবেছিলো চৌদ্দ তলার উপর থেকে লাফিয়ে পড়লে ইকারুস উড়ে আসবে বাঁচাতে। ইকারুস আর আসেনি, তার মোমের ডানা গলে গিয়েছিলো অনেক আগেই...

২৫২১৪
একটা কালচে জড়ুল নিশ্চিন্তে স্পর্শ করেছিলো তার ঠোঁট...

২৭২১৪ (১২২৮)
আয়না ভেঙে গেলে কাঁচের টুকরোতে
পারদের ছোপ, ঝিলিমিলি আলো আর রক্তচক্ষুর উপাখ্যান...

২৭২১৪ (১৬২৯)
ডেথ অফ দ্য গার্ডেনার
_________________

ভোরহীন রাতের শহরে
বাসা বেঁধেছিল একাকী বোগেনভিলিয়া।

নিয়নের আলো আর ধোঁয়া ধুলায় প্রতিদিন
ম্লান থেকে ম্লানতর চোখ।

অনিবার্য অসুখেরা হাতছানি দেয় ঝলমলে শপিংমল
আর টেলিভিশনের রঙচঙে পর্দা থেকে, অবিরাম।

সময়ের ভালবাসাহীন পদচিহ্ন আকা হয় টবের শুষ্ক মাটিতে
বোগেনভিলিয়ার খয়েরী পাতায় পাতায়...


৬৩১৪
গলিত ডানা নিয়ে বালুকাবেলায় মৃত্যুবিছানায় শুয়ে ইকারুসের কি পার্সিফোনির কথা মনে পড়ছিলো? কে জানে! সব কথা সবসময় জানতে হয়না। বরং ল্যাবিরিন্থের দেয়ালে দেয়ালে ইকারুস যা লিখেছিলো; বয়ে যাওয়া আসা এক জীবন ধরে, সেগুলোতে মন দেই...

৭৩১৪
জানো? ইউক্যালিপটাস গাছগুলো এখনো বেড়ে ওঠে, মুকুল আসে আমের বাগানে!

৯৩১৪
পৃথিবী মূলতঃ বিষমবাহু ট্রাপিজিয়াম আকৃতির...

১২৩১৪ (১২১৬)
মাছরাঙা সন্ধ্যা ঝুপ করে ডুব দিলো রাতের পুকুরে...

১২৩১৪ (২৩১৫)
চাঁদকে সবসময় বিদায় দিতে হয়, শুধু বুড়ো পৃথিবীটা থেকে যায় সমস্ত অস্তিত্ত্ব জুড়ে...

১৪৩১৪
কালো নদীটার ওপারে
চুপ করে বসে থাকে পাখিগন্ধী বটগাছটা...


১৬৩১৪
বুকপকেটে কয়েক টুকরো জোছনা রাখতে চেয়েছিলাম,
অমাবস্যায় চুপি চুপি দেখবো বলে।
আজো আকাশ ভরে চাঁদ ভেসে থাকে,
শুধু দু'চোখের জানালায় কোন জোছনা আসেনা,
ঝিঁঝিঁ ডাকেনা নাগরিক নৈশব্দে...


১৭৩১৪
সব দুঃখ শুষে নিয়ে শূন্যশব্দ হই...

১৮৩১৪
অন্য রোদ ওঠে অন্য শহরের কার্ণিশে
এই শহরে কৃষ্ণপক্ষের হতভম্ব জোছনা...


১৯৩১৪
হরিদ্রা বিকেল গুলির শেষে অলস সন্ধ্যা নামে নগরে
হুহু চৈতালি বাতাসে কৃষ্ণপক্ষের জোছনার ঘ্রাণ ছড়ায়
নাগরিক অপেরা গায়িকার সুরমগ্ন এসফল্টে
লেখা হয় অনির্বাচিত অধ্যায় আর ঈর্ষার সোনালী যুগলবন্দী...


২০৩১৪
সম্ভাবনার দুয়ার গুলো বন্ধ করি নিজহাতে,
ধরে রাখি খেয়ালি জোছনা।
পুকুরে পাথর ছুঁড়ে নিস্তরঙ্গ দিন যাপন
সনির্বন্ধ নির্লিপ্তি আঁকা চোখের গল্প জুড়ে..


২১৩১৪
ফিরে এসো আইসিস এই নশ্বর পৃথিবীর বুকে
জীবনের অনন্ত আগুনে পুড়ে চিরজীবি হও আরেকবার
আকাশে উড়িয়ে দাও মেঘকালো চুল
ওসিরিস আবার অন্ধ হোক তোমার ভালোবাসায়।
ফিরে এসো আইসিস... ফিরে এসো...


২৭৩১৪
টানা দুপুর বসে রয় কাঠের বেঞ্চিতে, অপেক্ষায়;
মন খারাপের রোদগুলো এদিক ওদিক ছড়িয়ে থাকে,
পাতার আলিঙ্গনে।
ভুলে যেতে চাওয়া মুখগুলো সহসাই সামনে চলে আসে
আঁধারের পর্দা সরিয়ে;
সেখানে মিশে থাকে চকলেট কালো সন্ধ্যা
আর বিকেলের দুঃখবিলাস...


২৯৩১৪
চৈতালি বাতাসে বিষাদের ঘ্রাণ
রাতজাগা ঝিঝিদের ঝাঁক আচমকা নিশ্চুপ..


৩০৩১৪
সমবেত দ্বিধাগ্রস্ততার পর ধুলোঝড়ের রাস্তা
স্খলিত পদক্ষেপ থাকে এলোমেলো চিন্তার বিপ্রতীপে
ঝলকে ওঠা কংক্রীট আলোয় আঁকা অতীতের ছবি
আর অনিবার্য বৃষ্টির ঘনঘোর...


৩৪১৪
তারপর,
বৃষ্টি নামে নগরের তৃষ্ণার্ত এসফল্ট জুড়ে,
নদীর আয়না ফুটে ওঠে।
চৈতালী তারার দল হারিয়ে যায় ঝোড়ো বাতাসের ওড়নায়
পথ,
লেখা হয় অবাক রাতের আহ্বানে...


৬৩১৪
ছাদে উঠলেই আমার লাফ দিতে ইচ্ছে হয়
তির তির করে কাঁপন ধরে পিঠের অদৃশ্য পালকে...


১২৪১৪
রোদার্ত দুপুরের কবিতা গুলোয় কোনো ভুমিকা লেখা থাকেনা
অনুচ্চারে বিবিধ ছবি আঁকা থাকে কাঁচের ক্যানভাসে...


১৪৪১৪
মঞ্চের অন্ধকারে হয়তো পড়ে কোনো জমকালো স্পটলাইট
তবলার বোল ভেসে আসে আলতো বাতাসের সাথে।

এখানে,
এই বদ্ধ ঘরের আঁধারে,
এলোমেলো পায়ে হেঁটে যায় কেউ
হাতড়ে ফেরে ফেলে আসা স্মৃতির ছন্দ।

ধা ধিন ধিন ধা...
না তিন তিন না...
ধা ধিন ধিন ধা...
না তিন তিন না...

রাতগুলো দীর্ঘ হয়ে এলে
কুলুঙ্গীর ধুলোমাখা ঘুঙুরে হাত বোলায় খোঁড়া নর্তক...


১৭৪১৪
ঋজু পাহাড়টাও কখনো কখনো চায় একপশলা বৃষ্টি তাকে কর্দমাক্ত করুক...

১৮৪১৪
আমার চাবিগুলোও যেনো মানুষের মন,
সময়ের সাথে সাথে বদলায়...


১৯৪১৪
রোদের ছাউনিতে ঢাকা পড়েছে শহর
রাগত নিঃশ্বাস ফেলে ছুটে চলেছে যন্ত্র ও মানুষ
গাছগুলো ম্রিয়মাণ, ঘাসগুলো মৃতপ্রায়...


২৩৪১৪
কোনো এপিটাফ লেখা হয়নি কোথাও
দেয়া হয়নি কোনো দিকচিহ্ন
তবু, রোদ ঝলসানো মৃত নগরে
পথের খোঁজে হন্যে হয় কিছু পথভোলা নদী

মৃত নগরের কেয়ারটেকার বসে থাকে ঝাপসা পুকুরপাড়ে
আকাঙ্খিত বৃষ্টির প্রতীক্ষায়...


২৬৪১৪
হারিয়ে যাওয়া শহরের দরজায় বৃষ্টি কড়া নাড়ে
ধুলোঝড়ে হারিয়ে যায় শুষ্ক রাস্তার নদী
চিৎকার করে সোঁদা গন্ধ ছড়ায় শুষ্ক সময়ের ক্লজিট...


৪৫১৪
নিশুতি রাতে জেগে ওঠে
পুরোনো খাতায় আঁকা বেড়ালেরা
ধোঁয়াশা ঢাকা শুঁড়িখানায় বাজে মৃত্যুর গান
কৃষ্ণচুড়ার লাল রঙ
নেমে আসে ওয়াইন গ্লাসের আহ্বানে।

ভোর হলে, ঝকঝকে রোদে ভেসে যায় রাজপথ
ভুলে গিয়ে গতরাতের স্মৃতি...


৬৫১৪
পাতাগুলো উল্টে রাখি
রাতের প্রহর।
ভোরের কমলা আলো
পুড়িয়ে দেয় সাজানো কথা গুলো...


৯৫১৪
অস্থির রাতের বারান্দায় পড়ে থাকে মীথমগ্ন জোছনা
আর, সিন্দুকের আনাচে কানাচে জমে প্যান্ডোরার ছায়া...


১৬৫১৪
এইসব গনগনে এসফল্ট
চড়ুইএর ছায়াময় অবসাদ
হুডতোলা রিক্সার টুনটুন

রোদেপোড়া শহর মুলত এমনই হয়...


২৬৫১৪
আমরা গল্প লিখি
স্বপ্ন ও বাস্তবতার
যখন সময় অস্ত যায়
গোধুলীর রঙ মেখে
আমাদের গল্পগুলো
হার মানে ধুলো জমা দুপুরের রোদে
অনন্ত সকাল আঁকে ঘামে ভেজা স্মৃতি
তুমি ঘর বাঁধো
লালমেঘ আর পাড়াগাঁয়ের উঠোনে
বিকল হারমোনিকার সুরে...


৩৬১৪ (০০৫৯)
উঠবার সিঁড়িপথ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতম হয়
নামার বেলা, এক কদম...


৩৬১৪ (১২৯)
দেয়ালগুলো তৈরী হচ্ছে ঘণকালো মেঘ দিয়ে।
কেটে যাক মেঘ, ভেঙে যাক দেয়াল...


৫৬১৪
নাহয় হয়েছে কিছুটা ভুল
মনে নেই রাতের বিবিধ আলাপন
দু'পায়ে জমেছে অনেক ধুলো
নানান হাসি কথার মাঝ থেকে
আকাশের দূর দিগন্তে, মেঘের আনাগোনা...


১৬৬১৪
নিজেকে হারাতে হ'লে খুঁজে পেতে হয় বারবার...

৩০৬১৪
একটা গল্প লিখবো ভেবে,
পার করে দিচ্ছি এক একটা ভোর
গল্পটায় লেখা থাকবে
পাখিদের সুর, সুর্যোদয়ের গান, বৃষ্টির ছন্দ
আর
আমাদের অর্ধজীবনের টুকরো টুকরো রঙ...


৩৭১৪
ভীষণ নীল রঙ
ছড়িয়ে ছিলো আকাশের পরতে পরতে...


১৩৭১৪

তোমার বিষাদে গাঢ় নীল রঙ, অনিচ্ছায়।
তুমি
নীলাম্বরী হও সকল হাসি গান ভুলে
হাওয়ামগ্ন নদী, হাঁপিয়ে ওঠো পরাধীনতার বাঁধনে।
পেঁজাতুলো স্মৃতিমেঘ
ঘিরে ঘিরে থাকে চাঁদের সমতল জুড়ে।
সময়
অনিবার্যতা ছড়ায়,
যেখানে দুঃখবোধ মিশে থাকে বুঝবার কিংবা বুঝাবার ভুলে...

মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০১৪

চন্দ্রলোপাকে...

চন্দ্রলোপা,

স্মৃতির ঝাঁপি খুলি মাঝে মাঝে। কত কি সাজানো আছে থরেথরে...

খোয়া বের হওয়া সেই পুরোনো রাস্তাটার কথা মনে আছে তোমার? সেইযে, তোমার সাথে প্রথম একা একা দুজনে দেখা করেছিলাম যে রাস্তায়। জানো রাস্তাটা এখনো একরকমই আছে, হয়তো অন্য কেউ প্রথম দেখা করে সেখানে...

সেই বাসাটার কথা মনে আছে, যার তেতলায় তোমরা থাকতে? এক বৃষ্টি দুপুরে তোমাকে দেখেছিলাম জানালা ধরে বৃষ্টি মাখতে। গতপরশু গেছিলাম বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে। ভাবতে পারো, কতগুলো বছর পার হয়ে গেছে এরিমাঝে! সেই বাসাটা কিন্তু একই রকম রয়ে গেছে...

তোমার কলেজের যাত্রী ছাউনীর পাশের ঝালমুড়ি মামা এখন বুড়ো হয়ে গেছেন। হাতে পায়ে বয়সের ভাঁজ। আমাকে চিনতেই পারলেন না উনি। মনে আছে, আমাদের দেখলেই দু'টো ঠোঙা এগিয়ে দিতেন; তোমারটায় ঝাল কম লেবু বেশী আর আমারটায় পেঁয়াজ ছাড়া কড়া ঝাল?

এখনো ওখানে গেলেই পথগুলো ধরে হেঁটে বেড়াই, হঠাৎ হয়তো তোমাকে পেয়ে যাবো বলে। এত সময় চলে গেলো, মেনে নিতে পারিনা তুমি আর নেই আমার প্রিয়তম শহরে। মেনে নিতে পারিনা আমাকে না বলেই রিক্ত করে চলে গিয়েছিলে ষোলটা বছর আগে, এই মাসে...

ভালো থেকো চন্দ্রলোপা। অনেক ভালো থেকো। যেখানেই থাকো...

ইতি,
আলফেসানী

শনিবার, ১০ মে, ২০১৪

মে মেমোরীস



গ্রীষ্মকালীন দুপুরগুলো একাকী ছড়িয়ে থাকে সদর রাস্তায়
বিষণ্ণ রোদ আর বিভ্রান্ত কোকিলের ডাকে

ঝিলিমিলি মরীচিকা কেঁপে কেঁপে গ্রাস করে সকালের স্নিগ্ধতা
উদাসী ফেরিওয়ালার ছন্দবদ্ধ সুরের আহ্বানে
বিভ্রম লেখা হতে থাকে বিকেলের নোটবুকে

কিশোরী চাঁদ জাগে ধীরলয়ে, ওপাশের পলাশ বাগান ছুঁয়ে
এপাশে উচ্ছিষ্ট সিগারেট স্তুপ বেড়ে চলে বিবিধ আলাপচারিতায়

নারকোল পাতায় নিঃসঙ্গতার গান লেখা শেষে
শান্ত হয়ে ওঠে উদ্দাম হাওয়ার দল

অস্থির রাতের বারান্দায় পড়ে থাকে মীথমগ্ন জোছনা
আর, সিন্দুকের আনাচে কানাচে জমে প্যান্ডোরার ছায়া...

বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৪

আত্মমগ্ন কথামালা ২৮

মূলত লোনলীনেস নিয়া কথাবার্তা কইতে চাইতেসি।

আমার বন্ধুবান্ধবগো কথা শুনার লাইগা একটা স্ট্যান্ডবাই লিসেনার রইছে। সেইটা হইতেসি আমি। গর্ব করতেছিনা, কিন্তু আমি আসলেই খুব ভালো লিসেনার। কতজনের কথা শুনলাম এই জীবনে...
গত দুই বছরের কথাই যদি ধরি, তাইলে লিস্টি করলে একগাদা লোক হইবো।
যেমনঃ- ভা**দা, মৌ**,  দি*, তা**, সু*, জে**,নো*, তু*, রী*, পা*, অ**, সা*...
কিন্তু মজা হইলো আমার কথা গুলা শুনার মতো কেউ নাই। আমি কি বলতে চাই, আমার দুঃখগুলা কেমনতর শুননের টাইম কারোই নাই।

এমন না, যে আমি একেবারে আমার 'হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল' টাইপের হইয়া আছি। কিন্তু তারপরেওতো, কিছু সময় আসে যখন নিজেরে ওপেন বই বানাইতে ইচ্ছা হয়! সেই ইচ্ছাটা আসলে ইচ্ছা হিসাবেই রইয়া যায়...

ওই মেয়েটার (জে) পরে কারো দিকে চোখ তুইলা তাকাই নাই। যখনই তাকাইতে গেলাম, আরেকজনের তারে ভালো লাইগা গেলো। শালার স্যাক্রিফাইস করা শুরু করসি সেই ইন্টার থিকা, সেইটা এখন বাদ যাইবো কেন? সো, স্যাক্রিফাইস...

আইজকা কিঞ্চিত পান করনের পর যখন আরেকজনের (যার ফোন নং ডিলিট কইরা দিসি) সাথে কথা কইতে ইচ্ছা হইতেছিলো, তখন পা* রে ফোন দিয়া সা*র ফোনং চাইলাম, সে বুঝলোই না :)

আমিই শালার পিস অফ শিট। সেদিন পা* রে যৌক্তিক কারণে ঝাড়ি দেওয়ার পরেও সে আমার মেয়েরে ফোন দিয়া/চ্যটিং এ কিছু একটা বলছে। মেয়ে আমারে কয় তুমি এইটা ঠিক করোনাই। আমি বালটা যা ই করি সবই ভুল হইয়া যায়...

আজকে ভয়াবহ লোনলী এবং মন খারাপ, নইলে এই লেখাটা বেরইতো না...

নিজেরেই বুঝাই, তুমি শালা একটা লোনলী বোকাচু*। কোনোদিনই তোমার এই লোনলিনেস কাটবোনা। তারপরেও কেন যে অন্যদের আপন মনে কইরা ফেলি এইটা একটা বিরাট রহস্য...

রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৪

শ্রীময়ী, তোমাকে...

শ্রীময়ী,
পত্রের শুরুতে হৃদয় নিঃসৃত ভালোবাসা জেনো। পর সমাচার এই যে, অকাল বর্ষা নেমেছে আমার শহরে এবং মনে। তুমি কি শুনেছো সেই বৃষ্টির শব্দ, চৈতালি বাতাস কি বৃষ্টির ঘ্রাণ বয়ে নিয়েছে তোমার ঘরে?

জানো, সেই কৃষ্ণচুড়া গাছটায় এবার আর নতুন পাতা আসেনি। কসমস ফুলগুলি মরে যাবার পর, নতুন কোনো বুনোফুলও ফোটেনি আমাদের সহজিয়া বাগানে।

অপুদের বিদেশী কুকুরটা খুব বেশী বুড়ো হয়ে গেছে আজকাল, সাদা পশমগুলোয় কেমন যেনো তামাটে আভা। চোখেও দেখেনা ভালোমত। শুধু আমি কাছে গেলে ভুকভুক করে কেমন জানি দুঃখের ডাক ডাকে।

বহ্নিশিখার কথা মনে আছে তো? ওদের বাগানে এখন নয়তলা বিল্ডিং। পুরোনো যেই লিচু গাছটায় আমরা দোলনা টাঙাতাম ফি বছর, সেটাও কাটা হয়ে গেছে অনেকদিন হ'লো। হয়তো কারো বাসায় দরজা হয়ে রয়ে গেছে স্মৃতিচিহ্ন কিংবা কারো চুলোয় অঙার।

শ্রীময়ী, তুমি মরে গিয়ে বেঁচে গেছো। আমি বেঁচে থেকে মরে যাই প্রতিদিন। প্রতিটা স্মৃতি আমায় কুঁড়ে কুঁড়ে খায় অষ্টপ্রহর।

হয়তো দেখা হবে মরে গিয়ে বেঁচে উঠবার পর, ততদিন ভালো থেকো শ্রীময়ী...

ইতি,
তোমারই আমি

শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৪

তিন টুকরো...

*
শহরের রাস্তায় প্যারেডে ব্যস্ত ঘোরগ্রস্ত মেঘের দল...

*
মেঘের আড়াল নিয়ে চলে ফিরে বেড়াচ্ছে সবাই। আঁকছে শীতল ছবি, ফোনে কিংবা মনের ক্যানভাসে। যে যার নিজস্বঃতায় বুঁদ। এরিমধ্যে টুপটাপ সময় ঝরে যাচ্ছে ঘড়ি থেকে। হঠাৎ জানালা দিয়ে হুড়মুড় বাতাসের সাথে উড়ে এলো স্মৃতির ধুলো। কেউ হলো স্মৃতিকাতর আর কেউ অসহ্য নির্লিপ্ততায় ঝেড়ে ফেলে নিলো ধুলোর পরত...

*
একটা রোদেলা সকাল ছিলো জানালায়। কিছু জালিকাটা আলো ছিলো মেঝেতে ছড়ানো। কেন, কে জানে... আলোরা ছিটকে সরে গেলো বৃষ্টি বিষাদে। সারাদিন টিপটিপ, ঝিরঝির... বিকেলও বিষণ্ণ হলো ভেজা শরীর নিয়ে। সন্ধ্যা নামলো রঙীন ছাতা মাথায়। রাতের রাস্তা নদী হলো লাল-নীল-সবুজ-হলুদ আলোর প্রতিফলনে...