সাহিত্যচর্চা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সাহিত্যচর্চা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৬

গ্রাফাইট রাত্রির শুরুতে...

অপেক্ষার পথগুলো বিভ্রান্ত কুয়াশাময়...

এলোমেলো নর্দান হাওয়া
গাল রেখে নাগরিক জানালায়
খুঁজে ফেরে রাতের আশ্রয়...

দিনমান বয়ে চলা দ্বিধা
আর বিবিধ স্মৃতির দোলাচলে থাকা
দেয়ালবন্দী চোখের জমিনে ক্লান্তি...


গাঢ় হয়ে এলে গ্রাফাইট রাত
নিষ্পাপ ঘুম জমে বিবিধ নৈশব্দের আবডালে...

রবিবার, ৬ মার্চ, ২০১৬

আবারো তোমাকেই, শ্রীময়ী... (১)

প্রিয় শ্রীময়ী,

জানতে চাইবোনা কেমন আছো। জানি, হাসিমুখের আড়ালে।কান্না লুকিয়ে বেশ আছো এমন অভিনয় করে যাচ্ছো এখনও...

কখনো কাকতাড়ুয়া দেখেছো শ্রীময়ী? হাড়িপনা মুখে দেঁতোহাসি ঝুলিয়ে রেখেই দিগন্তে চোখ রাখে একাকী। কখনো নিজের ছায়া দেখে নিঃসঙ্গতা ভুলে থাকে, কখনো কালপেঁচা বা ফিঙের দ্বিধাবিভক্ত লেজ দেখে অনিশ্চয়তায় ভুগে...

শ্রীময়ী, যেদিন সব হিসেব-নিকেশ চুকিয়ে দিলে। ভেবেছিলাম সাময়িক উষ্মার মেঘ কেটে যাবে সহসাই। কালবোশেখি শেষে গোধূলি যেমন সাজে, তেমনই হয়ে উঠবে সমগ্র চরাচর...

আমি যেমন জানি, তুমিও তেমনি জানো শ্রীময়ী। আমাদের অহংবোধ অত্যন্ত চড়া সুরে বাঁধা। পৃথিবী ভেঙেচুড়ে গেলেও আমাদের কষ্ট কাউকে দেখাবার চাইতে মৃত্যুই বরং আলিঙ্গন করবো আমরা দুজনে, ভালবেসেই...

সর্বান্তকরণ দিয়ে চাই খুব ভালো থেকো তুমি। আমার মতো নিঃসঙ্গ কাকতাড়ুয়া না হয়ে বরং জোড়া শালিকের জীবন হোক তোমার...

ইতি,
তোমারই "কোনোসময়ের" আমি...

বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৫

বিদায় শ্রীময়ী...

প্রিয়তম শ্রীময়ী,

তোমায় ভাবলেই নিষ্কলুষ...

সারাদিনের পর যখন তোমাকে দেখতাম, এক লহমায় সব অন্ধকার দূর হয়ে যেতো। একটু হাসলে সরলতার বিচ্ছুরণ হ'তো। দুর্ভাগা আমি, নিজে হাতে সেই মরূদ্যান ধ্বংস করে দিয়েছি...

কখনো চাইনি, আমার কারণে তোমার মনে একটুও ছায়া জমুক। কি ভাগ্য আমার দেখো, তোমার মনের মেঘ বাড়িয়েই গেছি না চাইতেই। বারবার। তুমি কষ্ট পেলেও সহ্য করে গিয়েছো আমার অপরিণামদর্শিতা। পৌণঃপূণিক সুযোগ দিয়েছো আমাকে শুধরাবার...

ডুবে গিয়েছিলাম শ্রীময়ী...
তোমাতে...
এখনো ডুবেই আছি...
ডুবে থাকবোও...
সারাটাজীবন...

সবাই বলে সময় সব ক্ষত সারিয়ে তুলে। হয়তো কথাটা সত্যিও। কিন্তু ক্ষত যত গভীর হয়, তার দাগ ততটাই গভীর রয়ে যায়...

ভবিষ্যৎ জানিনা শ্রীময়ী। তাই তোমাকে আবারো কখনও লিখবোনা সেই প্রতিজ্ঞা করছিনা। আপাতত হয়তো ফিরে যাবো নিজের বৃত্তে। কখনো কখনো ভালোবাসার মানুষটাকে চলে যেতে দেওয়াটাও আসলে তাকে ভালোবেসে যাওয়া...

শুভেচ্ছা নিও শ্রীময়ী। নতুন একটা বছরের। আর...

বিদায়...

ইতি,
তোমারই আমি

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০১৫

শ্রীময়ী, তোমাকে... [১৫]


প্রিয়তম শ্রীময়ী,

কেমন আছো তুমি? কতদিন লিখিনা তোমায়! উঁহু, ভুলেও ভেবোনা যে ভুলে গিয়েছি। তোমাকে ভুলে যাওয়া মানেতো নিজেকেই ভুলে যাওয়া...

সময়ের মোর্স কোডে আটকে যাওয়া সময়টাকে নিয়ে হেঁটে চলি দুজনেই। ডট ড্যাশ ডট ডট ড্যাশ ড্যাশ ড্যাশ ডট ডট ডট ড্যাশ ডট...

তুমি ওপারে দাঁড়িয়ে বুঝেও না বোঝার ভাণে, এঁকে রাখো দুর্বোধ্য গ্রাফিতি। আমি এপারে অনুবাদ করি হায়ারোগ্লিফ...

জানো শ্রীময়ী, তুমি পাশে আছো জেনে চোখ বুঁজে পাড়ি দিই অনিশ্চয়তার হিমালয়। নিশ্চিত জানি পেরোতে পারবোনা, তবুও...

উপেক্ষার আলিঙ্গনে জোছনারা মরে যেতে থাকে নৈমিত্তিক রাতের প্রহরে। আবার সকাল হলেই পূর্ণ চাঁদের আসা যাওয়া...

পাখিমাত্রই অভিমানি...

আস্থা রেখো শ্রীময়ী, আমাদের যুক্তিহীন স্বপ্নের উপর। স্বপ্নেরা সত্যি হয় ওঠে আস্থার আবরণে...

ইতি,
তোমারই আমি...

মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৪

শ্রীময়ী, তোমাকে... [৭]

শ্রীময়ী,

অস্থিরতার সাতরঙা মেঘেরা জমেছিলো তোমার বুকের ভেতর। দুপুরের গনগনে সূর্য্যকে ছাপিয়ে, তারা ছায়া ফেলেছিলো তোমার চারপাশে...

এইসব ক্লান্ত বিকেল আর ঘুমচুমু সন্ধ্যার পর রাত নামে শীতার্ত শহরে...

ঘরে ফেরা পাখিদেরও সামাজিকতায় বাঁধা পড়তে হয় কখনো কখনো। অপেক্ষারা একঘেয়ে টুপটাপ শব্দময়। আর ভারী হয়ে আসা চোখের পাতায় জমা হয় বিবিধ বিষণ্ণতার ছায়া...

নীল সাদা স্ট্রাইপ চাদরে এলিয়ে পড়া চুল স্পর্শ করতে করতে করতে নানান চিন্তার ছায়া দেখি মায়াভরা মুখের মানচিত্রে। ছুঁয়ে দিতেই উবে যায় চিন্তার কালো দাগ, আর ঘুমন্ত ঠোঁটের কার্ণিশে বসে প্রশান্তির পাখিরা...

ওখানে রাত গাঢ় হতে থাকে অপ্রাপ্তির নানান আলো আঁধারী মেখে, এখানেও...

ইতি,
তোমারই আমি...

রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৪

শ্রীময়ী, তোমাকে... [৩]


প্রিয় শ্রীময়ী,

ভুলে যাওনি জানি। বৃষ্টিগুলো বাঁধনছাড়া হয়। হাজার হাজার বছর ধরে। আমরা বসে থাকি পাশাপাশি। সেখানে গান লেখে পাহাড়ে জন্ম নেয়া মেঘ। মরাল গ্রীবার রাজহাঁসগুলো এলোমেলো তাকায়...

মনে আছে তোমার? ছন্নছাড়া মেঘগুলো জমেছিলো তোমার চোখের কোল ঘেঁষে? একা বসে ছিলে। অভিমানহত...

তারও আগে, নিকষ রাতের আঁধার চিরে নেমে এসেছিলো একফালি আলো। কিভাবে যেনো বুঝে গিয়েছিলে; পথ দেখাবার নয়, এই আলো কেড়ে নেবার জন্যই এসেছে। তীরের ফলার মত...

বিকেলের সোনা রোদ ছিলোনা সেদিন। আদিগন্ত জলের মাঝে দু'জন দাঁড়িয়ে ছিলাম। তোমার মন জুড়ে আতঙ্ক ছিলো। তোমার মন জুড়ে ছিলো পতনের সমূহ শঙ্কা। দুরকমেরই...

আসলেই কি তুমি পড়েছো? জানিনা। তবে এমন জানি, বিশাল এক গহ্বরের আহ্বানে আমি ঝাঁপ দিয়েছি কিছু না জেনেই। হয়তো তুমিও পা হড়কেছো কিছুটা। জানিনা। আমি কিছুই জানিনা।

ওখানে এখন কত রাত শ্রীময়ী? এখানে কেবল ভোর হলো। সূর্যদেব জাগলেন ঘুম থেকে। ব্যাস্ত বাতাস পড়িমড়ি ছুটেছে সময়ের অমোঘ চাবুকের শব্দে...

ঘুমে কিংবা জাগরণে, ভালো থেকো শ্রীময়ী। এখানে আমি অপেক্ষা করি দু'জনের সময়ের তরঙ্গ মেপে...

ইতি,
তোমারই আমি...

_________
দ্বিতীয়...

রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

অসমাপ্ত শূন্যতা...

টুকরো কাগজে
লিখছো সহজে
ফেলে আসা প্রিয় ফুল
শুনতে চেয়েছি
দুঃখ নিয়েছি
কিছুই ছিলোনা ভুল

বোঝোনা আমাকে
এই পথ বাঁকে
ফুটেছে নতুন জারুল
রয়েছি তাকিয়ে
দু'চোখ শুকিয়ে
ছুঁতে চেয়ে ওই চুল

বিকেল ফুরায়
গোধুলি আকাশে
ব্যস্ত পাখির দল
ফিরে আসে ঘরে
রোদ ওম ছেড়ে
শেষ করে কোলাহল

মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০১৪

চন্দ্রলোপাকে...

চন্দ্রলোপা,

স্মৃতির ঝাঁপি খুলি মাঝে মাঝে। কত কি সাজানো আছে থরেথরে...

খোয়া বের হওয়া সেই পুরোনো রাস্তাটার কথা মনে আছে তোমার? সেইযে, তোমার সাথে প্রথম একা একা দুজনে দেখা করেছিলাম যে রাস্তায়। জানো রাস্তাটা এখনো একরকমই আছে, হয়তো অন্য কেউ প্রথম দেখা করে সেখানে...

সেই বাসাটার কথা মনে আছে, যার তেতলায় তোমরা থাকতে? এক বৃষ্টি দুপুরে তোমাকে দেখেছিলাম জানালা ধরে বৃষ্টি মাখতে। গতপরশু গেছিলাম বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে। ভাবতে পারো, কতগুলো বছর পার হয়ে গেছে এরিমাঝে! সেই বাসাটা কিন্তু একই রকম রয়ে গেছে...

তোমার কলেজের যাত্রী ছাউনীর পাশের ঝালমুড়ি মামা এখন বুড়ো হয়ে গেছেন। হাতে পায়ে বয়সের ভাঁজ। আমাকে চিনতেই পারলেন না উনি। মনে আছে, আমাদের দেখলেই দু'টো ঠোঙা এগিয়ে দিতেন; তোমারটায় ঝাল কম লেবু বেশী আর আমারটায় পেঁয়াজ ছাড়া কড়া ঝাল?

এখনো ওখানে গেলেই পথগুলো ধরে হেঁটে বেড়াই, হঠাৎ হয়তো তোমাকে পেয়ে যাবো বলে। এত সময় চলে গেলো, মেনে নিতে পারিনা তুমি আর নেই আমার প্রিয়তম শহরে। মেনে নিতে পারিনা আমাকে না বলেই রিক্ত করে চলে গিয়েছিলে ষোলটা বছর আগে, এই মাসে...

ভালো থেকো চন্দ্রলোপা। অনেক ভালো থেকো। যেখানেই থাকো...

ইতি,
আলফেসানী

শনিবার, ১০ মে, ২০১৪

মে মেমোরীস



গ্রীষ্মকালীন দুপুরগুলো একাকী ছড়িয়ে থাকে সদর রাস্তায়
বিষণ্ণ রোদ আর বিভ্রান্ত কোকিলের ডাকে

ঝিলিমিলি মরীচিকা কেঁপে কেঁপে গ্রাস করে সকালের স্নিগ্ধতা
উদাসী ফেরিওয়ালার ছন্দবদ্ধ সুরের আহ্বানে
বিভ্রম লেখা হতে থাকে বিকেলের নোটবুকে

কিশোরী চাঁদ জাগে ধীরলয়ে, ওপাশের পলাশ বাগান ছুঁয়ে
এপাশে উচ্ছিষ্ট সিগারেট স্তুপ বেড়ে চলে বিবিধ আলাপচারিতায়

নারকোল পাতায় নিঃসঙ্গতার গান লেখা শেষে
শান্ত হয়ে ওঠে উদ্দাম হাওয়ার দল

অস্থির রাতের বারান্দায় পড়ে থাকে মীথমগ্ন জোছনা
আর, সিন্দুকের আনাচে কানাচে জমে প্যান্ডোরার ছায়া...

রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৪

শ্রীময়ী, তোমাকে...

শ্রীময়ী,
পত্রের শুরুতে হৃদয় নিঃসৃত ভালোবাসা জেনো। পর সমাচার এই যে, অকাল বর্ষা নেমেছে আমার শহরে এবং মনে। তুমি কি শুনেছো সেই বৃষ্টির শব্দ, চৈতালি বাতাস কি বৃষ্টির ঘ্রাণ বয়ে নিয়েছে তোমার ঘরে?

জানো, সেই কৃষ্ণচুড়া গাছটায় এবার আর নতুন পাতা আসেনি। কসমস ফুলগুলি মরে যাবার পর, নতুন কোনো বুনোফুলও ফোটেনি আমাদের সহজিয়া বাগানে।

অপুদের বিদেশী কুকুরটা খুব বেশী বুড়ো হয়ে গেছে আজকাল, সাদা পশমগুলোয় কেমন যেনো তামাটে আভা। চোখেও দেখেনা ভালোমত। শুধু আমি কাছে গেলে ভুকভুক করে কেমন জানি দুঃখের ডাক ডাকে।

বহ্নিশিখার কথা মনে আছে তো? ওদের বাগানে এখন নয়তলা বিল্ডিং। পুরোনো যেই লিচু গাছটায় আমরা দোলনা টাঙাতাম ফি বছর, সেটাও কাটা হয়ে গেছে অনেকদিন হ'লো। হয়তো কারো বাসায় দরজা হয়ে রয়ে গেছে স্মৃতিচিহ্ন কিংবা কারো চুলোয় অঙার।

শ্রীময়ী, তুমি মরে গিয়ে বেঁচে গেছো। আমি বেঁচে থেকে মরে যাই প্রতিদিন। প্রতিটা স্মৃতি আমায় কুঁড়ে কুঁড়ে খায় অষ্টপ্রহর।

হয়তো দেখা হবে মরে গিয়ে বেঁচে উঠবার পর, ততদিন ভালো থেকো শ্রীময়ী...

ইতি,
তোমারই আমি

শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

তিন টুকরো...

*
শহরের রাস্তায় প্যারেডে ব্যস্ত ঘোরগ্রস্ত মেঘের দল...

*
মেঘের আড়াল নিয়ে চলে ফিরে বেড়াচ্ছে সবাই। আঁকছে শীতল ছবি, ফোনে কিংবা মনের ক্যানভাসে। যে যার নিজস্বঃতায় বুঁদ। এরিমধ্যে টুপটাপ সময় ঝরে যাচ্ছে ঘড়ি থেকে। হঠাৎ জানালা দিয়ে হুড়মুড় বাতাসের সাথে উড়ে এলো স্মৃতির ধুলো। কেউ হলো স্মৃতিকাতর আর কেউ অসহ্য নির্লিপ্ততায় ঝেড়ে ফেলে নিলো ধুলোর পরত...

*
একটা রোদেলা সকাল ছিলো জানালায়। কিছু জালিকাটা আলো ছিলো মেঝেতে ছড়ানো। কেন, কে জানে... আলোরা ছিটকে সরে গেলো বৃষ্টি বিষাদে। সারাদিন টিপটিপ, ঝিরঝির... বিকেলও বিষণ্ণ হলো ভেজা শরীর নিয়ে। সন্ধ্যা নামলো রঙীন ছাতা মাথায়। রাতের রাস্তা নদী হলো লাল-নীল-সবুজ-হলুদ আলোর প্রতিফলনে...


রবিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৪

স্ক্রিবলস...

২৫০৯১৩
সাদাকালো আকাশের অশ্রু মেখে বিষণ্ণ হয় কাশদল...

২৭০৯১৩
বৃষ্টি থেমে এলে স্থবির নগর
কাদা মাখা পথে বিহ্বল ইঁদুরের পাল...

২৮০৯১৩
ফুলার রোডে সন্ধ্যা নামে...
রঙীন অন্ধকার...
চোখের কোনের অশ্রু আর এলোমেলো কথামালা
বার বার হারিয়ে যেতে থাকে রিকশার ঘন্টায়...
তুই...
ভালো থাকিস রঙীন অন্ধকার রাতে
ঘুমন্ত বালিশের আদরে...


০৪১০১৩
শহর ভরা মেঘের গুঁড়ো,
আকাশ ভরা মেঘ
দুপুর জুড়ে সাঁঝের মায়া,
অবাক দিনের শেষ..


০৯১০১৩
ভুলে যাবার চেষ্টা আসলে তোমারই স্মৃতিচারণ..

১২১০১৩
অনিবার্য সকাল হেঁটে আসে,
মৃদুপায়ে;
আধা জোছনার নাগরিক পথ ধরে...


১৯১০১৩
রাত কিভাবে কালো হয়?

২০১০১৩
পাঁচিল ভাবলেই তোমার চোখ।
মেলে ধরা হাতের পাতায় লালচে আলো।
এসফল্ট, কালো ধোঁয়া আর ধুলো ওড়া বাতাসের পটভুমিতে দৃঢ় সংবদ্ধ চিবুক।

পাঁচিল ভাবলেই পায়ে দলে যাওয়া রোদ।
ড্রেনে পড়ে থাকা শুকনো পাতা।
ওভারব্রীজের জলাকীর্ণ সিঁড়িতে খানিকটা চাঁদ।

পাঁচিল ভাবলেই আমার অস্থিরতা এবং ভুল।


২৩১০১৩
দেয়ালে দেয়ালে ছায়া দিয়ে আঁকা গল্পগুলো সব পাখি হয়ে যায় কৃষ্ণপক্ষের রাতে...

২৪১০১৩
বিচ্ছিন্ন ফুলের দল ছায়া ফেলে চোখ, মন এবং আরোপিত সহজিয়া আচরণ
স্তিমিত আলো হঠাৎ ঝালর দোলায় স্মৃতির পথে পথে...


২৭১০১৩
বলছিলাম হ্যালুসিনেসনের কথা। যেখানে পাখা বদলে নিতে উইপোকারা আসে সিঁড়িঘরের আলো আঁধারে...

০৪১১১৩
দিনদিন ইউনিকর্ন হয়ে উঠি মানুষ ভরা শহরে...

১১১১১৩
আধা চাঁদের জোছনা আর নারকোল পাতায় মর্মর
ভুলিয়ে দেয় সব স্মৃতি।
আকাশের রঙ খসে পড়ে অবিন্যস্ত ভাবনায়।
তুমি তুমি বলে চিৎকার করে ওঠে সমগ্র চরাচর।
আসো।
পাশে বসো বিষণ্ণ চোখ।
দ্রৌপদী জন্ম শেষে,
আমার আলিঙ্গনে পূর্ণ চাঁদ হয়ে ওঠো প্রাগৈতিহাসিক সময়ের মেঘ...


১৩১১১৩
আমার শহরে শীতার্ত জোছনা নামে হলদে পাতার টানে। ভীড়ের ফুটপাথে ডানা মুড়ে বসে থাকে মীথ। কুকুরের দল বারবার ছুঁয়ে যায় স্বর্গভ্রষ্ট কন্যার শরীর। হাসির মুখোশে লুকানো তিরতিরে অশ্রুবিন্দু চমকায় মাঝে মাঝে...

১৬১১১৩
ভেবেছিলাম, বিকেলের রোদ খেলবে মৃদু নীল শাড়িতে
ভেবেছিলাম, আলতো কাজল থাকবে চোখের কার্ণিশে
ভেবেছিলাম, রক্তাভ টিপে সাজবে কপালের জমিন
ভেবেছিলাম, নাকফুলে ঝলকাবে দুরন্ত হাসি
ভেবেছিলাম, বাতাসে ভাসবে ভায়োলিন আর বাঁশির যুগলবন্দী
ভেবেছিলাম, আকাশে থাকবে চতুর্দশী চাঁদ
ভেবেছিলাম...


২৭১১১৩
সময় চলে যায় না, আমরাই বরং সময়কে ফেলে চলে যাই না ফেরার পথে...

২৭১১১৩
আমার দু'হাতে রেশম কোমল বাতাস ধরেছি
আমার দু'চোখে জলের স্পর্শ পেয়েছি
আমি জানি কতটা কষ্ট পেলে হৃদয় ভেঙেচুড়ে যায়
আমি জানিনা কোথায় গেলে সুখ পাওয়া যায়...


০৯১২১৩
hostile
_______
সময়ের সাথে সাথে হস্টাইল হয়ে উঠি
কারণ,
শহরে বিবিধ হস্টিলিটি নড়েচড়ে বেড়ায়
নড়েচড়ে বেড়ায় একাধিক দু'মুখো সাপ...


১৬১২১৩
কাছে আসতে পাশে বসতে হয়না...

২২১২১৩
ঘিরে থাকা কুয়াশারা অস্থির হ'লে;
বৃষ্টি নামে পৌষী কৃষ্ণপক্ষের রাতে।
আমাদের ওম ভরা লেপের দল গ্ল্যামার হারায়।
নির্ঘুম অন্ধকার সাড়া দেয় দেয়ালঘড়ির ছন্দে।
আর সময় হেঁটে চলে শ্লথ পায়ে,
বিষণ্ণ ভোরের গান গেয়ে...

রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

স্ক্রিবলস...

২০০৮১৩

ঈর্ষাকাতর রাতের শুরুতে জোৎস্না ধোয়া কংক্রিট ...

২৩০৮১৩
 
একটুকরো রোদ লটকে আছে দেয়ালের গায়ে
হ্যাংলার মতো।
ধুলোবালি ঘোমটা দেয়া জানালায়
এককুড়ি বিষণ্ণ বিকেল; অপেক্ষায়,
অস্তিত্ব অথবা স্বীকৃতির...


০৪০৯১৩

ইচ্ছে মৃত্যুর বিকেলে, ঝরঝর বৃষ্টি নামে তাসের শহরে
হরতনের রানী, ভেজে অন্য কোথাও, অন্য কোনোখানে।
চিড়িতনের দুকড়া হেঁটে চলে জল ভেঙে,
অবিন্যস্ত পদক্ষেপে, অজানায়...


০৬০৯১৩ 


অমৃত হোক কিংবা গরল
বিনামূল্যে কোনোটাই মেলেনা এখানে।
গরল তবু কিছুটা স্বল্পমূল্য...


080913 


the voice asked "so, you want to go closer?"
"yes", he answered frantically.
the voice murmured "die... you young fool, embrace death to enjoy life..."


080913 (2)

how far can you run away from the droplets of rain!!!

০৯০৯১৩ 

আত্মহত্যাপ্রবন সকালে বৃষ্টি নামেনা, পৃথিবীর সকল পাখিগুলো চুপ করে রয় অজানা আশংকায়। শুধু ধ্যানী ছয়তালা বিল্ডিংগুলো ডেকে যায়, আয়... আয়...

১৪০৯১৩ 


চিলেকোঠায় ছড়ানো
টুকরো টুকরো সোনাগুড়া বিকেল
ভাতঘুমের আলস্যমাখা দেয়ালঘড়ি
আর নস্টালজিয়া

জ্বরতপ্ত কপালে আঁকা প্রেমময় হাতের ছোঁয়া
খসখসে ঠোঁটে, কোমল চকিত চুমুর স্বাদ
বারবার ফিরিয়ে দেয় ঘোলাটে শূন্যতার দিকেই...


১৪০৯১৩ (২)


ল্যাবিরিন্থের দেয়াল গুলো চেপে আসে নিরন্তর
আলো সরে সরে যায় নাগালের বাইরে,
বিবিধ নৌকাডুবিতে,
বেঁচে থাকার ইচ্ছে গুলোও মরে যেতে থাকে নিয়মিত বিরতিতে...


২২০৯১৩ 


মেঘের লোকাল বাসে বিকেল এসেছিলো আজ
এই শহরে।
গাঢ়তম সন্ধ্যায়,
ভেজা এসফল্টে প্রতিবিম্বিত আলোকসজ্জার নদীতে
ভেসে গিয়েছে অনেকগুলো সময়
রয়ে গিয়েছে অবিন্যস্ত কিছু স্মৃতির ছাইভষ্ম...



সোমবার, ২২ জুলাই, ২০১৩

স্ক্রিবলস- ২২৭১৩

পিন গাঁথা ওড়নাটা ছুঁয়ে যাবার,
শরীরের মৃদু ঘ্রাণ চুরি করার অসভ্য ইচ্ছেতে
মাতাল বাতাসের আনাগোনা আজ তোমার আশেপাশে খুব...

অস্থির মাদল বেজেছে দূর কোনো গাঁয়ে সারাদিন আজ
বেজেছে আমার বুকেও...

আধেক চাঁদের লোভে
মেঘদল, দিয়েছে পাড়ি আজ বহু ক্রোশ পথ...

গহীন আলোর স্পর্শে ছায়ারা হারিয়েছে আজ
তোমারই চোখের তারায়...

শুক্রবার, ৫ জুলাই, ২০১৩

মুক্তগদ্যঃ বিস্মৃত যুবকের এলোমেলো স্মৃতি, এলোমেলো দাগ

খাতা খুলে লিখে রাখি দাগ, বিফল সন্ধ্যার আঁধার, বিপর্যস্ত বিকেল আর দুপুরের মেঘদল। রিকশার টুনটুন শব্দে বৃষ্টি নেমে আসে মসৃণ হাতিরঝিলে। রাস্তা ও এলোমেলো ব্রীজের রেলিংয়ে। প্রিজম কেটে বেরিয়ে আসা রঙধনু দেখে যুবকেরও শখ হয় মাতাল হবার। পায়ে পায়ে হেঁটে যায় শুঁড়িখানার পথ ধরে, সোডিয়াম সোনালী আলোয় দেখে রঙ মাখা নাগরিক সেলিব্রিটি।
সেই বিকেলগুলো কেনো জানি রয়েই যায়। ঘরের কোনে জমে থাকা ধুলোয়, সেলাই খুলে যাওয়া জুতোর আরামে। সময়! আহা সময়!! কে বলে তুমি অনবদ্য চিকিৎসক? তোমার হেরে যাওয়া দেখতে দেখতে মাতাল যুবকের চোখের কোনে অশ্রু জমে। ধোঁয়ায় মাখিয়ে উড়িয়ে দিই বিবর্ণ সময়ের গল্প।
পথে পথে সরোদের সুর। ব্যস্ততম সকালের রোদ নিমেষে বদলে যায় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে। ছাতা হাতে কাউকে দেখে যুবকের হৃদয় কাঁপে। মিলিয়ে ফেলে ওড়না ও জামার রঙের বিভ্রমে। ইচ্ছে করে নেমে যাই, কথা বলি, হেঁটে চলি পাশাপাশি। ব্যস্ততার ডামাডোলে হারিয়ে যায় সরোদের সুর। বুকপকেটে কিংবা ব্যাকপকেটে জমা হতে থাকে বিষাদের ধুসর পাখি।
পার্কে বসে থাকা যুবকের চোখ পড়ে থাকে লাল ইটের ব্র্যাকেটে চলে যাওয়া আঁকাবাঁকা কংক্রিটের পথে। চা'এর কাপে চুমুক গুলো পথ ভুলে যায়, শীতল থেকে শীতলতর হয়ে যায় কাপ ছেড়ে উড়ে যাওয়া ধোঁয়ারা। কংক্রিট পথে হেঁটে যাওয়া পা দেখতে দেখতে ছায়াছবির চরিত্র জীবন্ত হয়। ভুলে যাই কিংবা মনে করি সেলুলয়েডের ছবি।
দু'টো স্বপ্নের মধ্যে যেই দূরত্ব, তাকে ভুলে থাকা হয়না যুবকের। একের পর এক স্বপ্নগুলোর দূরত্ব বাড়ে। যুবক ডুবে যায় সোনালী পাখির গান আর সবুজ ফুলের ধোঁয়ায়। দেয়ালে দেয়ালে ছায়াদের আনাগোনা বাড়ে। মানুষগুলো ঝাপসা হতে থাকে দিনের পর দিন। ভুলে যেতে থাকি সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা, রাত আর ভোরের পার্থক্য...

বুধবার, ২২ মে, ২০১৩

স্ক্রিবলস- ২২৫১৩

যৎসামান্য সন্ধ্যা গুলো ফুরিয়ে গেলে
মুঠোফোনে স্তব্ধতা বড় বেশী কানে বাজে।
ফেলে আসা সময়ের চিরকুট
হানা দেয় রাতের তরল আঁধারে
এবং দিনের দগ্ধ তাপপ্রবাহে...

রবিবার, ১৯ মে, ২০১৩

স্ক্রিবলস- ১৬৫১৩ এবং ১৯৫১৩


পাখি উড়ে গেলে; পাতারা বিষণ্ণ হয়ে যায়
জোনাকীর মত। মেঘের দেয়ালে আঁকে জলের জানালা।
স্মৃতিভ্রষ্ট রাতের আকাশে আকাশে ফোটে লক্ষ কোটি অপরাজিতার নীল...


~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

গহীন রাতের বুকে শহর জেগে ওঠে,
বেদনার সবটুকু নীল নিয়ে জেগে থাকে কিছু
জানালার কাঁচ।
অচেনা বাগানে ভাসা কামীনীর ঘ্রাণে,
দুধাশাদা বুকে, 
হামাগুড়ি দিয়ে আসে শঙ্খচুড় সাপ...

রবিবার, ১২ মে, ২০১৩

স্ক্রিবলস- ১২৫১৩

প্রিয় বৃষ্টির ফোঁটারা
ঝরে যেওনা মেঘের কার্ণিশ থেকে
মেঘেদের ভালবাসা নিয়ে ঘর বাঁধো কালো আকাশের বুকে

বৃহস্পতিবার, ৯ মে, ২০১৩

স্ক্রিবলস- ৯৫১৩

আমাদের মেঘলা সকাল আর বৃষ্টিভেজা দুপুর গুলোর ছবি
আঁকা থাকুক রাজপথে, রিকশার চাকায় চাকায়।
 

আমাদের ঘুম ঘুম ঠোঁট আর চকিত চুমুর ঘ্রাণ
উড়ে যাক মেঘদলের খেয়ালী চলার পথে।
 

আমাদের কাঁপা কাঁপা আঙুলের স্পর্শ আর স্মৃতির খড়কুটো
পুড়ে যাক কালবোশেখীর উদ্দাম বজ্রপাতে।
 

বেঁচে থাক শুধু সময় আর সময়ের গান
অসময়ের খেয়ালী ধারাপাতে...

বুধবার, ১ মে, ২০১৩

পলেস্তারায় জমে থাকা নাকফুলের শোকগাথা...



ভাঙাচোরা টিফিন ক্যারিয়ার,
মানুষ,
চোখের জল
সবাই মিলেছে এক মোহনায়...

প্রেয়সীর বুকে মাথা রেখে
নিশ্চিত নিশ্চিন্ত মৃত্যুর ভয়াবহতা
কিংবা
নুপুর পড়া একটা পায়ের আহাজারী...

দানবের দল
পাঁচতারা হোটেলে লিখে রাখে নিহতের তালিকা
এবং ক্ষতিপূরণ।

আর
খসে পড়া বিবিধ পলেস্তারায় জমে থাকে নাকফুলের শোকগাথা।


______________________________________________________________
উৎসর্গঃ- সাভারে রানা প্লাজা ধ্বসে আহত, নিহত এবং নিখোঁজ সকল ভাইবোন।