প্রতিক্রিয়া লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রতিক্রিয়া লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৪

স্ক্রিবলস...

২৫০৯১৩
সাদাকালো আকাশের অশ্রু মেখে বিষণ্ণ হয় কাশদল...

২৭০৯১৩
বৃষ্টি থেমে এলে স্থবির নগর
কাদা মাখা পথে বিহ্বল ইঁদুরের পাল...

২৮০৯১৩
ফুলার রোডে সন্ধ্যা নামে...
রঙীন অন্ধকার...
চোখের কোনের অশ্রু আর এলোমেলো কথামালা
বার বার হারিয়ে যেতে থাকে রিকশার ঘন্টায়...
তুই...
ভালো থাকিস রঙীন অন্ধকার রাতে
ঘুমন্ত বালিশের আদরে...


০৪১০১৩
শহর ভরা মেঘের গুঁড়ো,
আকাশ ভরা মেঘ
দুপুর জুড়ে সাঁঝের মায়া,
অবাক দিনের শেষ..


০৯১০১৩
ভুলে যাবার চেষ্টা আসলে তোমারই স্মৃতিচারণ..

১২১০১৩
অনিবার্য সকাল হেঁটে আসে,
মৃদুপায়ে;
আধা জোছনার নাগরিক পথ ধরে...


১৯১০১৩
রাত কিভাবে কালো হয়?

২০১০১৩
পাঁচিল ভাবলেই তোমার চোখ।
মেলে ধরা হাতের পাতায় লালচে আলো।
এসফল্ট, কালো ধোঁয়া আর ধুলো ওড়া বাতাসের পটভুমিতে দৃঢ় সংবদ্ধ চিবুক।

পাঁচিল ভাবলেই পায়ে দলে যাওয়া রোদ।
ড্রেনে পড়ে থাকা শুকনো পাতা।
ওভারব্রীজের জলাকীর্ণ সিঁড়িতে খানিকটা চাঁদ।

পাঁচিল ভাবলেই আমার অস্থিরতা এবং ভুল।


২৩১০১৩
দেয়ালে দেয়ালে ছায়া দিয়ে আঁকা গল্পগুলো সব পাখি হয়ে যায় কৃষ্ণপক্ষের রাতে...

২৪১০১৩
বিচ্ছিন্ন ফুলের দল ছায়া ফেলে চোখ, মন এবং আরোপিত সহজিয়া আচরণ
স্তিমিত আলো হঠাৎ ঝালর দোলায় স্মৃতির পথে পথে...


২৭১০১৩
বলছিলাম হ্যালুসিনেসনের কথা। যেখানে পাখা বদলে নিতে উইপোকারা আসে সিঁড়িঘরের আলো আঁধারে...

০৪১১১৩
দিনদিন ইউনিকর্ন হয়ে উঠি মানুষ ভরা শহরে...

১১১১১৩
আধা চাঁদের জোছনা আর নারকোল পাতায় মর্মর
ভুলিয়ে দেয় সব স্মৃতি।
আকাশের রঙ খসে পড়ে অবিন্যস্ত ভাবনায়।
তুমি তুমি বলে চিৎকার করে ওঠে সমগ্র চরাচর।
আসো।
পাশে বসো বিষণ্ণ চোখ।
দ্রৌপদী জন্ম শেষে,
আমার আলিঙ্গনে পূর্ণ চাঁদ হয়ে ওঠো প্রাগৈতিহাসিক সময়ের মেঘ...


১৩১১১৩
আমার শহরে শীতার্ত জোছনা নামে হলদে পাতার টানে। ভীড়ের ফুটপাথে ডানা মুড়ে বসে থাকে মীথ। কুকুরের দল বারবার ছুঁয়ে যায় স্বর্গভ্রষ্ট কন্যার শরীর। হাসির মুখোশে লুকানো তিরতিরে অশ্রুবিন্দু চমকায় মাঝে মাঝে...

১৬১১১৩
ভেবেছিলাম, বিকেলের রোদ খেলবে মৃদু নীল শাড়িতে
ভেবেছিলাম, আলতো কাজল থাকবে চোখের কার্ণিশে
ভেবেছিলাম, রক্তাভ টিপে সাজবে কপালের জমিন
ভেবেছিলাম, নাকফুলে ঝলকাবে দুরন্ত হাসি
ভেবেছিলাম, বাতাসে ভাসবে ভায়োলিন আর বাঁশির যুগলবন্দী
ভেবেছিলাম, আকাশে থাকবে চতুর্দশী চাঁদ
ভেবেছিলাম...


২৭১১১৩
সময় চলে যায় না, আমরাই বরং সময়কে ফেলে চলে যাই না ফেরার পথে...

২৭১১১৩
আমার দু'হাতে রেশম কোমল বাতাস ধরেছি
আমার দু'চোখে জলের স্পর্শ পেয়েছি
আমি জানি কতটা কষ্ট পেলে হৃদয় ভেঙেচুড়ে যায়
আমি জানিনা কোথায় গেলে সুখ পাওয়া যায়...


০৯১২১৩
hostile
_______
সময়ের সাথে সাথে হস্টাইল হয়ে উঠি
কারণ,
শহরে বিবিধ হস্টিলিটি নড়েচড়ে বেড়ায়
নড়েচড়ে বেড়ায় একাধিক দু'মুখো সাপ...


১৬১২১৩
কাছে আসতে পাশে বসতে হয়না...

২২১২১৩
ঘিরে থাকা কুয়াশারা অস্থির হ'লে;
বৃষ্টি নামে পৌষী কৃষ্ণপক্ষের রাতে।
আমাদের ওম ভরা লেপের দল গ্ল্যামার হারায়।
নির্ঘুম অন্ধকার সাড়া দেয় দেয়ালঘড়ির ছন্দে।
আর সময় হেঁটে চলে শ্লথ পায়ে,
বিষণ্ণ ভোরের গান গেয়ে...

বুধবার, ১ মে, ২০১৩

পলেস্তারায় জমে থাকা নাকফুলের শোকগাথা...



ভাঙাচোরা টিফিন ক্যারিয়ার,
মানুষ,
চোখের জল
সবাই মিলেছে এক মোহনায়...

প্রেয়সীর বুকে মাথা রেখে
নিশ্চিত নিশ্চিন্ত মৃত্যুর ভয়াবহতা
কিংবা
নুপুর পড়া একটা পায়ের আহাজারী...

দানবের দল
পাঁচতারা হোটেলে লিখে রাখে নিহতের তালিকা
এবং ক্ষতিপূরণ।

আর
খসে পড়া বিবিধ পলেস্তারায় জমে থাকে নাকফুলের শোকগাথা।


______________________________________________________________
উৎসর্গঃ- সাভারে রানা প্লাজা ধ্বসে আহত, নিহত এবং নিখোঁজ সকল ভাইবোন।

মঙ্গলবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৩

পাঠ প্রতিক্রিয়া : রশীদ করীম

ডিসেম্বর ২৬, ২০১১ - ৫:১০ অপরাহ্ন 

রশীদ করীমের উপন্যাস সমগ্র পড়া শেষ করলাম।
সেই ১৯৬১ এ লেখা প্রথম উপন্যাস “উত্তম পুরুষ” থেকে ১৯৯৩ এ লেখা শেষ উপন্যাস “লাঞ্চবক্স” পর্যন্ত। প্রথমেই বইলা রাখা ভালো, আমি কোনো সমালোচক নই। যার জন্য এই উপন্যাস সমগ্র নিয়া যা যা লিখতেছি তা সবই আমার নিজস্ব ভাবনা।
উপন্যাস সমগ্র পড়বার একটা সুবিধা আছে। বিভিন্ন সময়ে লেখকের বিভিন্ন রকম ভাবনা-চিন্তা গুলারে এক মলাটে পাওয়া যায়। তাতে লেখকের চরিত্র সম্পর্কেও মোটামুটি বেশ পরিষ্কার ধারণা জন্মায়। যাক এইসকল কথাবার্তা, পাঠ প্রতিক্রিয়ায় আসি।
রশীদ করীমের উপন্যাসে যেই দিকটা প্রথমেই আমার নজরে আসলো সেইটা হইলো, তাঁর উপন্যাসের শুরুটা সবসময়েই একই রকম। প্রথমতঃ শুরুটা খানিক আটপৌরে ভাব নিয়া করার চেষ্টা করা হয়, যেইটারে তিনি একটা বাদে কোনো উপন্যাসেই বদলাইতে পারেন নাই বা ইচ্ছাকৃত ভাবে বদলান নাই। দ্বিতীয়তঃ তাঁর উপন্যাসের দরজা দিয়া ভিতরে ঢুকতে একটু বেশিই মনোযোগ দিতে হয়। এইটা আমার কাছে বেশ ইরিটেটিং লাগছে। কিন্তু একবার ঘটনার ভিতরে ঢুকে গেলে পুরাই ঘোরগ্রস্ত হইয়া পইড়া যাইতে হয়, এই ব্যাপারটা আবার বেশ ইন্টারেস্টিং। যেন নদীতে নৌকা নিয়া বেশ দাঁড় বাইয়া ঘুর্ণিপাকের কাছে গিয়া দাঁড় ছাইড়া দেওয়া। এই দাঁড় বাইতে গিয়া শক্তি হারাইয়া ফেললে ঘূর্ণির কাছে যাওয়াও হইবো না আবার সেই ঘূর্ণিতে ডুবার আনন্দও নেওয়া হইবো না। অদ্ভুত একটা বৈপরীত্য। এই বৈপরীত্য কি একজন ভালো ঔপন্যাসিকের লক্ষণ? আমার তরফের উত্তর হইলো “না”। আমার মতে উপন্যাসের প্রবেশ দ্বারটা হইবো সহজ, যাতে পাঠকের কষ্ট কম হয়। যত বৈপরীত্য বা টুইস্ট সেগুলা ভিতরের ব্যাপার। কারণ একবার ভিতরে ঢুইকা গেলে সেই টুইস্ট গুলা গ্রহনের ক্ষমতা এমনিতেই পাঠকের ভিতর চইলা আসে।
উনার উপন্যাসে আমারে সবচাইতে বেশী আকর্ষণ করছে যেই জিনিসটা সেইটা হইলো তাঁর ঘটনার সময় নিয়া খেলার প্রবণতাটা। উনার লেখায় কখন বর্তমান, কখন দূর-অতীত, কখন নিকট-অতীতের ঘটনা বিবৃত হইতেছে সেইটার ট্র্যাক রাখাটা খুবই কঠিন। এবং এই ব্যাপারটা বেশ মজার। প্রথম দুইটা উপন্যাসের পর আমি এই ব্যাপারটা নিয়া মাথা ঘামানো ছাইড়া দিছি, আর এতে আমার লেখার রস আস্বাদনে তেমন কোনো ঝামেলাই হয় নাই। বরং লেখার হ্যালুসিনেটিং আবহটা উপভোগ করার আলাদা মজা পাইছি।
এইবার আসি তাঁর লেখার চরিত্র গুলার দিকে। উনার ভিতর আভিজাত্যের প্রতি একটা ভালোবাসা সর্বদা লালিত আছিলো সেইটা অনায়াসেই বুঝা যায় তাঁর চিত্রিত চরিত্রগুলারে দেখলে (বই শেষ করার পর ব্যাক কভারে উনার বায়োগ্রাফি পইড়া দেখলাম উনার বাইড়া উঠা কলকাতার অভিজাত পরিমণ্ডলে)।
পুরুষ চরিত্রগুলায় অভিয়াসলি তাঁর নিজের চরিত্রের ছায়া পাইছে। যেইখানে সন্দেহবাতিকগ্রস্ততা একটা স্বাভাবিক ব্যাধি। চরিত্রগুলার সেই সন্দেহবাতিকগ্রস্ততারে কখনো জাস্টিফাই করা বা কখনো সেই বাতিকগ্রস্ততারে নিয়া অনুশোচনা বোধ করার ভিতর দিয়া আসলে লেখকের মনের একটা দিকই ফুইটা উঠছে বইলা আমার ধারণা। পরস্ত্রী বা নারীর প্রতি দেহজ আকর্ষণ বোধ মানুষের একটা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। রশীদ করীমের পুরুষ চরিত্র গুলো এই বোধ মুক্ত না, এবং তার প্রকাশ একটা সততার আমেজ দেয়। এই প্রকাশ একই সাথে লেখক পাঠকের যোগসুত্র স্থাপনে যেমন সহায়তা করে তেমনই লেখক পাঠকের মধ্যে একটা মোটা দাগ দিয়া তাদের পার্থক্যটাও নির্ণয় কইরা দেয় বইলাই আমার ধারণা।
তাঁর নারী চরিত্রগুলা, প্রথম উপন্যাসের “নীলা-নীহার” ভাবি থিকা শুরু কইরা শেষের আগের উপন্যাসের “রেখা” পর্যন্ত সবাই, চিত্রিত হইছেন কিছুটা সুক্ষ্মদাগের ছলনাময়ী হিসাবে। যেখানে নারী চরিত্রগুলা অপ্রয়োজনীয় মাত্রায় শারীরি কুহক বিস্তার করেন, এবং এক পর্যায়ে পুরুষ চরিত্রগুলা সেই কুহক কাটাইয়া উঠতে সক্ষম হন বা নারী নিজেই সেই কুহক প্রত্যাহার কইরা নেন। এই কুহক সংক্রান্ত বিষয়গুলি যে খুবই মুন্সিয়ানার সাথে এক্সিকিউট করা হইছে তা কিন্তু না। কিছুটা হেলাফেলার সাথেই বিষয়গুলি আসছে, কিন্তু এত বেশীবার আসছে যে সেইটারে অবহেলা করার উপায় নাই।
লেখকের নারী শরীরের একটা বিশেষ অংশের প্রতি আকর্ষণ ভালোভাবেই চোখে বাধছে। আর এক্কেবারে শেষের লেখায় উনি এইটাকে জাস্টিফাই করার একটা ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাও চালাইছেন। যদিও স্বীকার করতে দোষ নাই, আমার নিজেরো এই বিশেষ আকর্ষণ খুব একটা কম না।
কতগুলা উপন্যাস পইড়া কারো রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়া কথা বলাটা খানিকটা ঔদ্ধত্য হইয়া যায়। তবুও এই ক্ষেত্রে আমার মনে হইতেছে এই ব্যাপারটা আলোচনায় আসা উচিত, কারণ এইটা না বললে আমার পাঠপ্রতিক্রিয়া সমাপ্ত হয় না। উনার একটা কি দুইটা বাদে প্রত্যেকটা লেখায় জিন্নাহ এর কথা অনিবার্য ভাবে উইঠা আসছে। এবং উনি জিন্নাহ সাহেবের কর্মকান্ডের প্রচ্ছন্ন সমর্থক ছিলেন এইটাও বেশ বুঝা যায়। উনার চরিত্রগুলার ভিতর যে মুসলিম জাত্যাভিমান বেশ প্রবল শিকড় গাইড়া ছিলো, এইটাও উনার লেখায় দেখা যায়।
সবশেষ, রশীদ করীমের উপন্যাস গুলা পড়বার পরে আমার ব্যক্তিগত ভালোলাগার ক্রম খানিকটা এই রকম...
১. মায়ের কাছে যাচ্ছি
২. আমার যত গ্লানি
৩. বড়ই নিঃসঙ্গ
৪. সাধারণ লোকের কাহিনী

এক ছিলো গূড় আর অনেক ছিলো পির্ফা

জুলাই ১৯, ২০১১ - ১২:০১ অপরাহ্ন 

তো একজন কইলো
: মনে হইতাছে, ___ ভাই আবারো কাঠির আগায় গুড় লাগাইয়া গেছেন! সব পিপড়া এক লগে হাজির হইতাছে এইখানে!!
ভাব্লাম, জুকার্বার্গের এত্তবড় একটা সাইট্রে কাঠি কইতেছে বেপার্টা কি?
জিগাইলাম কে গুড় আর কেডাইবা পির্ফা?
আসলেইতো???
আসল কাঠি কুনটা, গুড় কুন্টা আর পির্ফাই বা কারা...
আসলে ভেজাল হইছে কি, ইদানিং লুকজন খালি ঝিমায়।ঝিমায় আর জুকার্বার্গের সাইটে গিয়া একটা ঘরের ভিত্রে ঢুইকা ঝিমাইতে ঝিমাইতে আড্ডা মারে। এদিকে মাঠ খাখা করে। কেউ কস্ট কৈরা মাঠে আসে না, সবতে মিল্যা ঠিকঠাক মতো খেলাধুলাও করে না। এইটা আসলে ঠিক না। মাঠে নাম লেখাইয়া সেই মাঠে না আইসা ঘরের ভিত্রে বৈয়া বৈয়া আড্ডা দেওনটা আসলে একটু কেরাম কেরাম জানি লাগে।
যাই হৌক, ঘটনা হৈলো একজনে কইলো যে মাঠে না আইসা ঘরে বৈসা আড্ডা দেওন উচিত না, লগে লগে ঘরে ভিত্রে হাজির হয়া গেলাম আম্রা সবতে। পুলাপান সব খ্রাপৈয়া গেছেগা। কলিকাল ঘোর কলিকাল...
আপসুস...
তো, কথা হৈলো এই কথা লৈয়াই আসলে সব কথা।
কেডায় গুড় আর কেডায় পির্ফা...

মেহেরজানঃ একাধিক বিয়েপাগলের সমাহার ও একটি প্রেমের ফোক ফ্যান্টাসি (মুক্তিযুদ্ধের গোলমরিচের গুড়া ফ্রি)

জানুয়ারী ২৮, ২০১১ - ১১:২৫ পূর্বাহ্ন 

পরিচালকের দাবী এইটা একটা ফোক ফ্যান্টাসী।
.
তইলে আমরা সিনেমার ভিত্রে ঢুকনের আগে টিপিকাল ফোক ফ্যান্টাসীগুলানের মোটামুটি টেমপ্লেটটা দেইখা লই-
১. নায়কের বাপ অত্যাচারী সামন্ত প্রভু।
২. নায়কে আদর্শবাদী, প্রজাগো উপ্রে বাপের অত্যাচারে ত্যাক্ত; চান্স পাইলেই বাপের বিরোধীতা করে।
৩. নায়কে নাইকারে বাপের পুষা গুন্ডাগো আক্রমণের থিকা বাঁচায়। ফলশ্রুতিতে নাইকার লগে পেরেম।
৪. নাইকার বাপ/চাচা এলাকার প্রজাগো লিডার টাইপের, যার নায়কের বাপের লগে বনেনা। আবার সেয় অই অত্যাচারের এগেইন্সটেও অ্যাকশনে যাইবার চায় না তার ফলোয়ারগো কথা ভাইবা।
৫. দুই মুরুব্বীরে ফাকি দিয়া বিদ্রোহী নায়কের লগে নাইকার আগানে বাগানে পেরেম চলে। তাতে হেল্প করে এক/দুইজন ভাঁড় টাইপের লোক। যেইটা আবার নাইকার “জেনুইন” প্রেমিকের চউখে ধরা পইরা যায়।
৬. নাইকার সখি টাইপের কেউ একজন থাকে, যার উপ্রে নায়কের বাপের পাইক পেয়াদা কুনো না কুনো ভাবে জবর্দস্তি করে। আর এই জবর্দস্তির লাইগা সেই সখি নায়কের বাপের পাইক পেয়াদার উপ্রে চেইতা ফায়ার, পাইলেই ছিড়া ফেলে এরাম।
৭. এলাকায় গ্যাঞ্জাম বাধে/প্রজারা জাইগা উঠে, নাইকার বাপ/চাচার মিত্যু ঘটে, নায়কে প্রজাদের লগে মিল্যা বাপের বিরুদ্ধে খাড়ায়।
৮. শ্যাষে গিয়া নায়ক নাইকার মিল। নায়কের বাপের মিত্যু/ পরাজয়/ নিজের ভুল স্বীকার।
.
.
.
ব্লগে ব্লগে আলুচনার মাথায় থাকা “মেহেরজান” সিনেমাটা দেখতে গিয়া ৭নং পয়েন্টের অপভ্রংশ আর ৮নং পয়েন্ট পুরাই বাদ দেওয়া একটা সিনেমা দেখলাম।
.
এইখানে পরিচালকে ফোক ফ্যান্টাসীরে একটু উপ্রের লেভেলের দর্শকের কাছে পৌছানির লাইগা অন্য রকম একটা ফ্লেভার এড করছে। সেইটা হইলো আমাদের “মুক্তিযুদ্ধ”। তয় তরকারীতে লবন বেশি হইলে যেরাম বিস্বাদ হয়া যায়, সেরামই পরিচালক ছাগ্লামী টাইপের চউখ দিয়া মুক্তিযুদ্ধের লবন টেস্ট করতে গিয়া বিস্বাদ কৈরা ফেলছে। মুক্তিযুদ্ধের টাইমের কিছুই এই সিনামায় ফুটায়া তুলতে পারে নাই পরিচালকে।
.
আমার নিজের কাছে সবচাইতে ইরিটেটিং পার্ট হৈলো সিনামার নাইকার এক দলত্যাগী পাকি মতান্তরে বেলুচ সৈনিকের প্রেমে নাজেল হওয়া। আরো বড় ব্লান্ডার করছে পাকি সৈন্যরেই সবচাইতে বেশি মানবিক গুনের ধারক হিসাবে আর মুক্তিযোদ্ধাগোরে যুদ্ধবিমুখ বা যুদ্ধের ভিত্রে থাইকা অন্য ফায়দা লুটনের ধান্দায় থাকা মানুষ হিসাবে দেখানির চেষ্টা কৈরা।
.
আমার কথা হইলো হালায় ফ্যান্টাসীই যখন কর্বি তখন ভালা মতই কর। পাকি/বেলুচরে দিয়া মুক্তিযুদ্ধ করা। নায়ক নাইকার হ্যাপি এন্ডিং না দেখাইতে চাস তো হেরে মাইরাও ফালা। তা না কৈরা তার ফ্যান্টাসীর দৌড় থাইমা গেসে নায়কেরে পলাইয়া যাওন আর নাইকার একা জীবন যাপনে। শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধের সিনামা নামটারে জায়েজ করনের লাইগা, আর কিছু পাবলিক সিম্প্যাথি ক্রিয়েট করনের লাইগা ফর্নাথিং সিনামার ভিতরে ১৯৭১ আর একজন যুদ্ধশিশুরে আইনা ফালায়া দিসে।। মানি, সিনামায় বাস্তবের বাইরেও অনেক কিছু বানানি জিনিস থাকে। কিন্তু আমাগো মুক্তিযুদ্ধটাতো বানানি কিছু না।
.
পরিচালকের সাক্ষাতকারে পড়লাম সে নাকি এই সিনামা বানানির আগে প্রচুর গবেষণা ইত্যাদি কর্ছে মুক্তিযুদ্ধ, বীরাঙ্গনা, যুদ্ধশিশু লইয়া। কিন্তু সেই গবেষণার প্রডাক্ট যদি হয় এই আইটেম, তাইলে আমাগো গবেষণা ছাড়াই বানানি লুতুপুতু প্রেমের সিনামাগুলা এরচাইতে অনেক গুনে ভালা। আরো একটা জিনিস পড়লাম যে সে নাকি প্রপার প্রমাণ পায় নাই যে ঠিক কত সংখ্যক নারীর উপ্রে পাকিরা নির্যাতন কর্ছে, এই প্রসঙ্গে সে বলছে সে নাকি মাত্র ১১ জনের সাক্ষাতকার পাইছে যারা তাদের উপ্রে যৌন নির্যাতনের কথা সরাসরি বলছে। এই ১১ জনের কথার থিকা তার বিচারে বেশি মূল্যায়ন পাইলো মাত্র একটা রেফারেন্স, যেইখানে আছে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীরে আর্মি ক্যাম্প থিকা পালায়া যাইতে কোন পাকি মেজর সাহায্য কর্ছে সেইটা।
এই রেফারেন্স যদি তার কাছে বেশি মূল্যায়ন না’ই পাইতো তইলে সে এটলিস্ট মুখফুইটা যৌন নির্যাতনের কথা বলা ১১ জন বীরাঙ্গনার একজনরে লইয়াই সিনামা বানানির চেষ্টা কর্তো।
.
ওভারঅল পরিচালকের পয়লা এটেম্পট হিসাবে ফোক ফ্যান্টাসী সিনামাডি কোনোমতে চলে। কিন্তু পরিচালক এই ফ্যান্টাসির লগে মুক্তিযুদ্ধের মতো একটা ইতিহাসের সময়রে জুইড়া দিয়া জিনিস্টারে পুরাই গান্ধা একটা রূপ দিয়া ফেলছে সেই সাথে নিজের গ্রহণযোগ্যতারেও প্রশ্নবিদ্ধ কৈরা ফেলছে।
.
উপসংহারের আগে-
খাজা সাহেবের অভিনয় সবচাইতে ভালো হৈছে। বাকি বয়স্ক যারা আছিলো, তারাও উত্রায়া গেছেন। তরুন লেভেলের যারা আছিলেন তারা বর্তমানে প্রচলিত কথ্যরীতিতে কথা কইছেন। সবচে বিটকেলে লাগছে কথার ভিত্রে ঠুসঠাস ইঞ্জিরি মাইরা দেওন। আমার জানামতে অইটাইমে এরম ব্যাপকহারে ইঞ্জিরি ফুটানি একটু কমই হইতো। এইখানে আমি পরিচালকের ব্যর্থতা দেখি। আরো ব্যার্থতা দেখি চরিত্রগুলার পোশাক চয়েজে, এইখানে একটু সচেতন হইলেই ব্যাপারটা এমনে কাইচা যাইতো না।
.
পুরা সিনামায় আমার সবচাইতে প্রিয় সিন হইতেছে সেইটা, যেইটায় পাকি/বেলুচ ছাগল্ডি আরেকটা জেনুইন ব্লাকবেঙ্গল ছাগলের বাচ্চারে কোলে লইয়া আদর করে।
.
ফাইনালি সব্বাইরে কই, একটু ধৈর্য ধরেন, পাইরেটেড কপি নেটে বা ৩০টাকার ডিভিডিতে আসলে সিনামাটা দেইখেন। সেই খরচটাও বেশি হইয়া যাইবো বইলাই আমার ধারণা।