শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৪

শ্রীময়ী, তোমাকে... [৫]

শ্রীময়ী,

ক্লান্তির ঘ্রাণ পাই তোমার কণ্ঠে। টুপটাপ বিষণ্ণতা ঝরে ক্লান্তির সাথে। রোদমগ্ন দুপুর হঠাতই মেঘলা হয়ে ওঠে। ভীষণ রকম মেঘলা...

যে পুরোনো দেয়ালের ছায়া দেখে তুমি ভয় পাও, সহজেই তাকে অতিক্রম করা যায়। জানিনা, অতিক্রম করা হবে কি না...

স্মৃতির হরেক রঙ খেলা করে বিবিধ বৃত্তে। সব বৃত্ত কি ধরে রাখা যায়? নাকি ধরে রাখতে হয়???
আস্থা রাখো শ্রীময়ী, নিজের উপর আর বেছে নেওয়া পথের উপর...

ইতি,
তোমারই আমি...

বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৪

শ্রীময়ী, তোমাকে... [৪]


শ্রীময়ী,

সোডিয়াম আলোতে সব রঙ বদলে যায়। যেমন সবুজ হয়ে যায় নীল কিংবা বেদনা হয়ে ওঠে অপ্রাসঙ্গিক জেদ...

কথায় কথা বেড়ে চলে, সময়ে সময় কমে। তারপরেও কিছু রেশ থেকে যায় কৃষ্ণপক্ষের ক্ষয়াটে জোছনার সাথে...

কখনও ওভাবে জেনেছো কিনা জানিনা। তোমার ঠোঁটের কার্ণিশে যেই সরলতার বসবাস, কোনো আলোতেই সেটার বদল হয়না...

গুমোট গরমের সেদিন, এক পশলা মৃদু হাওয়ার মত তুমি এলে আবার চলেও গেলে। যাবার পথে, পিছু ফিরে, যে হাসিটা উপহার দিয়েছিলে তাতে সবচে গুমোট দিনটাও হাসিখুশী হয়ে গিয়েছিলো নিমেষেই...

স্বপ্ন এঁকো শ্রীময়ী, আমার মতো, তুমিও। স্বপ্নই বেঁধে রাখে বেঁচে থাকার আকাঙ্খাকে...

ইতি,
তোমারই আমি

রবিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৪

শ্রীময়ী, তোমাকে... [৩]


প্রিয় শ্রীময়ী,

ভুলে যাওনি জানি। বৃষ্টিগুলো বাঁধনছাড়া হয়। হাজার হাজার বছর ধরে। আমরা বসে থাকি পাশাপাশি। সেখানে গান লেখে পাহাড়ে জন্ম নেয়া মেঘ। মরাল গ্রীবার রাজহাঁসগুলো এলোমেলো তাকায়...

মনে আছে তোমার? ছন্নছাড়া মেঘগুলো জমেছিলো তোমার চোখের কোল ঘেঁষে? একা বসে ছিলে। অভিমানহত...

তারও আগে, নিকষ রাতের আঁধার চিরে নেমে এসেছিলো একফালি আলো। কিভাবে যেনো বুঝে গিয়েছিলে; পথ দেখাবার নয়, এই আলো কেড়ে নেবার জন্যই এসেছে। তীরের ফলার মত...

বিকেলের সোনা রোদ ছিলোনা সেদিন। আদিগন্ত জলের মাঝে দু'জন দাঁড়িয়ে ছিলাম। তোমার মন জুড়ে আতঙ্ক ছিলো। তোমার মন জুড়ে ছিলো পতনের সমূহ শঙ্কা। দুরকমেরই...

আসলেই কি তুমি পড়েছো? জানিনা। তবে এমন জানি, বিশাল এক গহ্বরের আহ্বানে আমি ঝাঁপ দিয়েছি কিছু না জেনেই। হয়তো তুমিও পা হড়কেছো কিছুটা। জানিনা। আমি কিছুই জানিনা।

ওখানে এখন কত রাত শ্রীময়ী? এখানে কেবল ভোর হলো। সূর্যদেব জাগলেন ঘুম থেকে। ব্যাস্ত বাতাস পড়িমড়ি ছুটেছে সময়ের অমোঘ চাবুকের শব্দে...

ঘুমে কিংবা জাগরণে, ভালো থেকো শ্রীময়ী। এখানে আমি অপেক্ষা করি দু'জনের সময়ের তরঙ্গ মেপে...

ইতি,
তোমারই আমি...

_________
দ্বিতীয়...

শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৪

শ্রীময়ী, তোমাকে... [২]

প্রিয় শ্রীময়ী,

আজ আকাশের চাঁদটাকে দেখেছো শ্রীময়ী? ভালোবাসার জোছনায় কেমন জড়িয়ে নিয়েছে বোকা পৃথিবীটাকে। পৃথিবীটাতো জানেই চাঁদের শরীর মন জুড়ে সূর্যের ভালোবাসা। তারপরেও কেন জানি সেদিকেই চেয়ে থাকে অনিমেষ...

এইযে দেখো শ্রীময়ী, বোকা পৃথিবীর একটা কঠিন শহরের সাথে সাথে তুমিও ঘুমিয়ে পড়েছ। ধীরেধীরে। শান্ত। তারপরেও আমি জেগে থেকে অনুভব করছি তোমার ঘুমন্ত নিঃশ্বাস, চোখ বুজে দেখছি তোমার মায়াময় মুখ...

তুমিতো জানোই শ্রীময়ী, সেইযে দুজন বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম প্রথম দিন। একসাথে। পাশাপাশি। সেদিন থেকেই আমার নিয়তি বাঁধা হয়ে গেছে তোমার সাথে। অবশ্য বাস্তবতা ভিন্ন গল্প লিখেছে, তোমার মতো আমিও জানি সেটা। কিংবা আদৌ কোনো গল্প লিখেছে কিনা সেটা নিয়েও দু'জনেই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে...

মনেপড়ে শ্রীময়ী। সেই দুপুরে। নৌকায় আমরা কতটা কাছাকাছি এসেছিলাম। যদিও খানিকটা জোর করেই দু'জনে কাছাকাছি হয়েও দূরত্ব রেখেছিলাম নিজেদের ভেতর। কে জানে, উপসংহার ওখানেই লেখা হয়েছিলো নাকি কোনো ভুমিকা...

জানিনা শ্রীময়ী, বোকা পৃথিবীটার ভালোবাসায় দূরের চাঁদটা নেমে আসবে কিনা আমরা বেঁচে থাকতে থাকতে। তবে আজকে, চাঁদের ভালোবাসাটাকে আমরা অস্বীকার করি কিভাবে???

ভালো থেকো শ্রীময়ী, নক্ষত্রময় মহাশূন্যে নাহয় নাগরিক জঙ্গলের কোনখানে...

ইতি,
তোমারই আমি
____________________

প্রথম...

রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

অসমাপ্ত শূন্যতা...

টুকরো কাগজে
লিখছো সহজে
ফেলে আসা প্রিয় ফুল
শুনতে চেয়েছি
দুঃখ নিয়েছি
কিছুই ছিলোনা ভুল

বোঝোনা আমাকে
এই পথ বাঁকে
ফুটেছে নতুন জারুল
রয়েছি তাকিয়ে
দু'চোখ শুকিয়ে
ছুঁতে চেয়ে ওই চুল

বিকেল ফুরায়
গোধুলি আকাশে
ব্যস্ত পাখির দল
ফিরে আসে ঘরে
রোদ ওম ছেড়ে
শেষ করে কোলাহল

মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

অসমাপ্ত...

স্টেশনে বসে থাকি অপেক্ষায়
রেলের উপর, কৃষ্ণপক্ষের চাঁদ ডাকে সঙ্গী হতে
পথভুলে উড়ে আসা পাতাটাও বাড়িয়ে দেয় হাত
দোলাচলে দুলি, অশান্ত হাওয়ার ছোবলে কাশফুল যেমন...
___
তুমি শুয়ে থাকো,
চারদেয়াল ঘেরা নাগরিক বন্দীশালায়
কৃত্রিম চাঁদ দেয় সারাক্ষণ আলো
শুকনো পাতা দিয়ে সাজাও ল্যাম্পশেড
নিয়ন্ত্রিত বাতাস মৃদু দোলা দেয় তোমার চুলে...

শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

বিয়োগফল মূলত শূন্য...

বিয়োগ অংক কষার দিনগুলোতে
শহর জোছনা ভেজা নদী হয়

রাতজাগা পাখিদের দল
আইসিসের কাছে উড়ে যেতে চেয়ে রক্তাক্ত

অনিবার্য ভোর আসে অভিশাপ নিয়ে
চোখ আর মন জুড়ে দগদগে ক্ষত

এখানে যন্ত্রদানবের গর্জনে ঘোর ভাঙে
প্রায় স্থবির শরীরে ছোটে এড্রিনালিন সেনা
ডান বাম ডান
ডান বাম ডান

সময় সিড়িপথের শেষ ধাপে লেখা
বিয়োগফল মূলত শূন্য...