শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৪

পুনঃশ্চ, শ্রীময়ী...[১]


প্রিয় শ্রীময়ী,

সব কিছু স্বাভাবিক ভাবেই চলছে আশা করি...

আজ এসো, ব্যাথার রসায়ন বলি তোমায়। কোথাও আঘাত পেলে নিউরন গুলো ব্যাথার অনুভূতি বয়ে নিয়ে যায় মগজে। এই অনুভূতির সৃষ্টি হয় নিউরনে এক ধরণের রাসায়নিক ক্ষরণের ফলে। মজার ব্যাপার হ'লো, মগজ শুধু এই বাহিত অনুভূতিটা অনুবাদই করতে পারে। বুঝতেই পারছো, কোনোমতে যদি কারো মাথার খুলিটা খুলে ফেলে মগজে কাটাকুটি খেলা হয়, সে কোনো ব্যাথাই পাবেনা...

শরীরের ব্যাথাই তো আর সব না, বিবিধ বেদনা থাকে মানুষের। তবে, সেই সব ব্যাথায় অবশ্য ব্যাথাবাহী নিউরনের কোনো ভুমিকাই নেই। এগুলো সবই মস্তিষ্কজাত অনুভূতি...

ধরো, প্রিয় মানুষটা হঠাতই চলে গেলো না ফেরার দেশে। তখন যে ব্যাথা পায় মানুষ, তার উৎপত্তি অজানাই রয়ে গেছে এখনও...

কিংবা ধরো, কেউ সারাবেলা সারাদিন উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করছে প্রিয় মানুষটার জন্য। কিন্তু সেই প্রিয় মানুষটা, ঘরে ফিরেও এক পলকের বেশী দৃষ্টি দিলোনা সেই কেউ এর দিকে। তখন যে ব্যাথার জন্ম হয়, সেটা আসলে ব্যখ্যাতীত। কোথায় তার উৎপত্তি, কোথায় তার শেষ কেউ জানেনা...

অথবা ধরো, কেউ প্রিয় কিছু হারালো। ব্যাপারটা জানার পরেও যদি কেউ সান্ত্বনার দু'টো কথা না বলেই বিদায় নেয়, তখনও ব্যাখাতীত ব্যাথায় ব্যাথিত হয় মানুষ...

আসলে মানুষের জীবনে এমন ব্যাখ্যাতীত বেদনাই বেশী...

ইতি,
তোমারই আমি...

বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৪

পুনঃশ্চ, শ্রীময়ী...[০]


শ্রীময়ী,

খাঁচায় বন্দী পাখিদের দেখেছো? মুক্তির জন্য কিভাবে ছটফট করে বেড়ায় সারাটাক্ষণ...

তুমিতো জানো, আলফেসানী এই রাস্তায় হাটেনি কখনো আগে। ভুলভ্রান্তি থাকতেই পারে তার কিছুটা কিংবা অনভিজ্ঞতার হোঁচট...

রাতের আকাশটা আজ একটু বেশীই কালো হয়েছে, কালকেও ঘোলাটে থাকবে সারা দিনমান। কারণটা তুমিও জানো শ্রীময়ী...

এইযে ঘর জুড়ে মন খারাপের ধুলো ছড়িয়ে আছে, তারা জানেনা কিভাবে উড়ে যেতে হয় হাওয়ার ডানায়। সকাল বিকাল জমা হতেই থাকে অবিরাম...

জানালা বন্ধ করে রেখেছো সব। কপালের গভীরে লুকোনো ভাঁজ দেখছি কেবল আমিই...

চুপচাপ হাঁটু গেড়ে অপেক্ষায়, জানালা খুললেই স্পর্শ করবো কোমল গালের জমিন। আবার হেসে উঠবে চাঁদ, শুক্লপক্ষের জোছনা গায়ে মেখে...

ইতি, 
তোমারই আমি...

রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৪

শ্রীময়ী, তোমাকে...[৯]

প্রিয় শ্রীময়ী,

অন্ধকারে ফুলের রঙ বোঝা যায় কি?

যেখানে নিকষ অমাবস্যার রাত সবসময়, ফুলেদের রঙ সেখানে থাকতে হয়না...

তবুও, কেন জানি ভুল করে কিছু রঙিন ফুল ফুটেছিলো। সেগুলো দু'হাত ভরে তুলে দিয়েছিলাম তোমাকে। ভেবেছিলাম, আরো আরো ফুল সাজিয়ে দেবো তোমার চারদিকে। ফুলের ভালোবাসায় অমাবস্যা কেটে জাগবে জোছনা...

তোমার হাত থেকে ফুল পড়ে গেলে, জেনেছি নতুন ফুলের জন্ম হবে প্রতিবার...

অপেক্ষা বড় কষ্টের, তারও চেয়ে বেশী কষ্টের হ'লো আকাঙ্খার পতন। হয়তো না বুঝে দেওয়া সেই কষ্টটা পেয়েছি কিংবা পেয়েছো তুমিও...

জানিনা শ্রীময়ী, কি লেখা আছে সময়ের অপর পৃষ্ঠায়। যেখানে সমাপ্ত হয় গল্পগুলো। তুমি কি জেনেছো? নাকি পুরোনো গল্পটার সমাপ্তিই সেখানে ভেবে নিয়েছো?

খুব ভালো থেকো শ্রীময়ী। অমাবস্যার রাজ্য থেকে জোছনার পথে এগিয়ে যেও দৃঢ় পায়ে। দুঃখ এটুকুই, যাবার আগে বিদায় নেওয়া হলোনা ঠিকমতো...

ইতি,
আমি...

বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৪

শ্রীময়ী, তোমাকে...[৮]

শ্রীময়ী,

পেলব পায়রার গোলাপী ঠোঁটে ঠোঁট রাখলে ঝোড়ো বাতাসের গান ভেসে আসে ওপার থেকে...

উদ্যানের কোল ঘেঁষে, বৃদ্ধ সন্ধ্যা কিংবা কুমারী রাতের আলোয় তুমি তাকিয়েছিলে কি? তাকালেই দেখতে অফিস ফেরতা মানুষের ভীড়, স্বপ্ন ভরা চোখ নিয়ে হেঁটে চলে ক্লান্ত পায়ে। তারই এককোণে সাময়িক ঘর বাঁধি দুজনে...

আচ্ছা শ্রীময়ী, বলতো, স্কালপেলের ধারালো প্রান্ত কি রক্তকে ভালোবাসে। নাকি রক্ত দিয়ে মেটায় তৃষ্ণা...

কখনো কখনো মনেহয়, একটা ধারালো স্কালপেল হাতে তুলে নিয়ে আকিবুকি কাটি নিজের শিরা আর ধমনীর উপর। ছবিটা অনেক দৃষ্টিনন্দন হবে নিশ্চয়ই...

এইযে, একঝাঁক অবাধ্য মেঘেদের আনাগোনা চলছে শহর জুড়ে। তারা কি সবার চোখে ছায়া ফেলতে পারে, কিংবা সবাই কি সেই মেঘের স্পর্শ অনুভব করতে পারে? পারেনা...

কাল সারাদিন মেঘদল ছায়া ফেলেছিলো আমার চোখে। যতবার হেসেছি, ততবার ছায়ারা গাঢ় থেকে গাঢ়তর হয়েছে। সেই ভার ছড়িয়ে গিয়েছিলো তোমার বুকেও। চাইনি আমি। আমার গাঢ়তর ছায়ার ভার তোমাকেও আহত করুক...

ছায়ারা আসলে সংক্রামক। এক চোখ থেকে আরেক চোখে যায়, আবার ফিরে ফিরে আসে...

দরজা খুলে দিও শ্রীময়ী, বিকেলের সোনারোদ ঢুকতে দিও আহত হৃদয়ের প্রকোষ্ঠ গুলোতে...

ইতি,
তোমারই আমি...

মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৪

শ্রীময়ী, তোমাকে... [৭]

শ্রীময়ী,

অস্থিরতার সাতরঙা মেঘেরা জমেছিলো তোমার বুকের ভেতর। দুপুরের গনগনে সূর্য্যকে ছাপিয়ে, তারা ছায়া ফেলেছিলো তোমার চারপাশে...

এইসব ক্লান্ত বিকেল আর ঘুমচুমু সন্ধ্যার পর রাত নামে শীতার্ত শহরে...

ঘরে ফেরা পাখিদেরও সামাজিকতায় বাঁধা পড়তে হয় কখনো কখনো। অপেক্ষারা একঘেয়ে টুপটাপ শব্দময়। আর ভারী হয়ে আসা চোখের পাতায় জমা হয় বিবিধ বিষণ্ণতার ছায়া...

নীল সাদা স্ট্রাইপ চাদরে এলিয়ে পড়া চুল স্পর্শ করতে করতে করতে নানান চিন্তার ছায়া দেখি মায়াভরা মুখের মানচিত্রে। ছুঁয়ে দিতেই উবে যায় চিন্তার কালো দাগ, আর ঘুমন্ত ঠোঁটের কার্ণিশে বসে প্রশান্তির পাখিরা...

ওখানে রাত গাঢ় হতে থাকে অপ্রাপ্তির নানান আলো আঁধারী মেখে, এখানেও...

ইতি,
তোমারই আমি...

শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৪

শ্রীময়ী, তোমাকে... [৫]

শ্রীময়ী,

ক্লান্তির ঘ্রাণ পাই তোমার কণ্ঠে। টুপটাপ বিষণ্ণতা ঝরে ক্লান্তির সাথে। রোদমগ্ন দুপুর হঠাতই মেঘলা হয়ে ওঠে। ভীষণ রকম মেঘলা...

যে পুরোনো দেয়ালের ছায়া দেখে তুমি ভয় পাও, সহজেই তাকে অতিক্রম করা যায়। জানিনা, অতিক্রম করা হবে কি না...

স্মৃতির হরেক রঙ খেলা করে বিবিধ বৃত্তে। সব বৃত্ত কি ধরে রাখা যায়? নাকি ধরে রাখতে হয়???
আস্থা রাখো শ্রীময়ী, নিজের উপর আর বেছে নেওয়া পথের উপর...

ইতি,
তোমারই আমি...

বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৪

শ্রীময়ী, তোমাকে... [৪]


শ্রীময়ী,

সোডিয়াম আলোতে সব রঙ বদলে যায়। যেমন সবুজ হয়ে যায় নীল কিংবা বেদনা হয়ে ওঠে অপ্রাসঙ্গিক জেদ...

কথায় কথা বেড়ে চলে, সময়ে সময় কমে। তারপরেও কিছু রেশ থেকে যায় কৃষ্ণপক্ষের ক্ষয়াটে জোছনার সাথে...

কখনও ওভাবে জেনেছো কিনা জানিনা। তোমার ঠোঁটের কার্ণিশে যেই সরলতার বসবাস, কোনো আলোতেই সেটার বদল হয়না...

গুমোট গরমের সেদিন, এক পশলা মৃদু হাওয়ার মত তুমি এলে আবার চলেও গেলে। যাবার পথে, পিছু ফিরে, যে হাসিটা উপহার দিয়েছিলে তাতে সবচে গুমোট দিনটাও হাসিখুশী হয়ে গিয়েছিলো নিমেষেই...

স্বপ্ন এঁকো শ্রীময়ী, আমার মতো, তুমিও। স্বপ্নই বেঁধে রাখে বেঁচে থাকার আকাঙ্খাকে...

ইতি,
তোমারই আমি