বুধবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৩

আত্মমগ্ন কথামালা-২১

*
অনেক কিছু লিখতে ইচ্ছা করে সারাটাক্ষণ ধরে। বসি, লেখা হয়ে ওঠেনা, এমনকি ফেসবুকেও...

**
তারে নিয়া ভাবতে চাইনা; অন্তত কনশাসলি। কিন্তু চইলা আসে ভাবনা গুলা, হুড়মুড় কইরা। তারে বেশ সুন্দর কইরাই পড়তে পারি। ফেরার পর থেকে কেনজানি অস্থির। আজকে জিগাইলাম। এড়াইয়া গেলো। আমিও এজিউজুয়্যাল, জোর করলাম না। তয় ধারণা করতেসি কিছু হইসে আবার। দেখি কবে কখন বলার সাহস কইরা ওঠে...

***

মঙ্গলবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৩

আত্মমগ্ন কথামালা ২০

জানুয়ারী ১২, ২০১৩ - ১০:০৯ পূর্বাহ্ন 


*
আসলে কিছুই লেখার নেই।
ছিলোনা কখনোই।
তবু এলোমেলো লিখে রাখি অবিন্যস্ত অনুভুতি গুলো।
হয়তো দিনশেষে, নিজেকেই বোঝার ইচ্ছায়...

৩১১৩

যদিও সীমানা জানা,
তবু মাঝেমাঝেই শখ জাগে অতিক্রমের...

৬১১৩

মাইগ্রেটরি প্রজাপতি এবং ফুল বিষয়ক আলোচনা...

৭১১৩

এখানে রিক্ত মাঠ পড়ে আছে।
সোনালী ফসলের ছোঁয়া ভুলে, অবিন্যস্ত কুয়াশায় ঢাকা।
একাকী ফিঙে,
কালো শরীরে ঢেউ তুলে ভেসে যাবার পথে
একটু কি সময় দেবে অতীতের কথা ভেবে...

৮১১৩

ইউনিকর্নের দেহাবশেষ
চিরসবুজ ঘাসের দেশে বয়ে আনে রক্ত ও ঘামের স্মৃতি...

১২১১৩

বিগত সকাল গুলো উত্তর মুখী।
বিগত নারীর ঠোঁটে দারুচিনি সুঘ্রাণ।
চুল বেয়ে নেমে আসা জোছনা ও কুয়াশার মসৃণ রেশম ছোঁয়া
হাতে মেখে নিতে নিতে
সহসাই হারিয়ে যায় সৃতিগন্ধ রোদ, মেঘ এবং অন্যান্য...

হাবিজাবি

জানুয়ারী ২, ২০১৩ - ১০:০১ পূর্বাহ্ন 

ক্যালেন্ডার দেখতাম ছোট বেলায়। বইয়ে মলাট দেবার জন্য "চায়না" নামের একটা ম্যাগাজিন ছিলো। দারুণ দারুণ সব ছবিতে ভরা। ভালো লাগতো খুব। দুইহাতের আঙুল দিয়ে ভিউফাইন্ডারের মত বানিয়ে ক্লিক ক্লিক শব্দ করতাম। ছবিতোলার প্রতি ভালোবাসাটা বোধহয় ঐ সময়েই ভিতরে ঢুকে গিয়েছিলো। [সময়কাল ক্লাস ফোর ফাইভ সিক্স]
যা হোক, বড় হইতে থাকলাম। খালাতো ভাই এসেলার দিয়া ছবি তুলতো, তার কম্পোজিশনগুলো দেখে ইন্সপায়ার্ড হইতাম। নিজের ক্যামেরা ছিলোনা, ভাইয়ার ক্যামেরা ধরার সাহস পাইতাম না। এমনকি জিজ্ঞেস করবো ধরতে দিবে কি না, সেই সাহসও পাইতাম না। [সময়কাল ক্লাস নাইন টেন]
ঢাকায় আসার পর মুশফিকুল আলম পিয়াল ভাইয়ের সাথে পরিচয়। আমার একটু ডিস্ট্যান্ট মামাতো ভাই। উনার বিভিন্ন শখের ভেতর একটা ছিলো ফটোগ্রাফী। এবং যেই সময়ে উনার সাথে পরিচয়, তার কিছুদিন আগে উনি সার্ক ফটোগ্রাফার অফ দ্যা ইয়ার বা এরকম কোনো এওয়ার্ড পাইছেন। ফটোগ্রাফির প্রতি ভালোবাসাটা আবারো মাথাচাড়া দিয়া উঠলো উনারে দেইখা। উনি নিজের ছবি দেখাইতেন, আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো দেখতাম। [সময়কাল '৯৮-'০২]
একসময় টাকা জমায়ে নিজের প্রথম ক্যামেরা কিনলাম। যদিও ফ্যামিলি ফটোগ্রাফী করবার জন্যে। ক্যামেরাটা ছিলো কোডাকের কেবি টেন। ফিক্সড ফোকাস। সেইটা দিয়েই এক্টু আধটু চেষ্টা করতাম ছবি তোলার। [সময়কাল '০২-'০৫]
পড়াশুনার পাশাপাশি পিয়াল ভাইয়ের প্রতিষ্ঠানে পার্ট টাইমার হিসাবে কাজ করা শুরু করলাম। ফটোগ্রাফী নিয়ে পিয়াল ভাইয়ের সাথে অনেক কথাবার্তা হইতো। হয়তো উনি আমার প্যাশন ধরতে পারসিলেন। তাই একদিন নিজের দুইটা এসেলারের একটা আমার হাতে দিয়ে বললেন ছবি তুলে আসতে। আমি নিউমার্কেট থেকে একটা ব্লাক এন্ড হোয়াইট ফিল্ম কিনে চলে গেলাম রায়েরবাজার বধ্যভুমিতে... [সময়কাল '০৩-০৬]
এইতো আমার ফটোগ্রাফীর গল্প...

আত্মমগ্ন কথামালা ১৯

ডিসেম্বর ২৬, ২০১২ - ১০:০৫ পূর্বাহ্ন

*
শুধু শেষটা ঠিক শেষের মত ছিলো না...
**
দিনগুলো উড়ে উড়ে চলে যাচ্ছে, পাখির কিংবা জেট প্লেনের ডানায় চেপে। বিভিন্ন ঘটনায় ভরা একের পর এক দিন। গাঢ় কুয়াশায় লাইটপোস্টগুলোকে গাছের মত লাগে, আর গাছ গুলোকে মনে হয় ভিনগ্রহের প্রাণী। কুয়াশা জমেই থাকছে মন মগজ চোখ এবং শহর জুড়ে।
***
অনেকের সাথে অনেক দিন কথা হয় না। দু'টো সবুজ সুতো গাঁটছড়া বেঁধে নিয়েছে আজকাল। একসময় হয়তো সবুজের স্থান ধীরে ধীরে দখল করবে খয়েরী রঙ; সুতো-পাতা-মনের। তবুও...
****
চেষ্টা করলেও অনেক কিছুই সরিয়ে রাখা যায় না। ঘুরে-ফিরে-ফিরে-ঘুরে আসে... কত কিছুই করছি আবার কিছুই করছি না, বেশ মজারই জিনিসটা। অনেক কিছু জমে উঠছে, আবার জমতে জমতে অনেক কিছুই গলে গলে যাচ্ছে।
*****
প্রথম...
******
বিষণ্ণ কুয়াশা জেগেছে খয়েরী পাতায়, মাঝবয়েসী গাছে
স্বর্ণলতার আলিঙ্গণে।
দূরে উড়ে যাও বর্ষামেঘ
বিষণ্ণ কুয়াশার ঝাঁকে হারিয়ে যাবে তোমার জলভরা চোখ।

র‍্যাপিং এ মোড়ানো এক বাক্স বিপ্লব

ডিসেম্বর ৩, ২০১২ - ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন

এইতো বেশ!
মধ্যবিত্ত তরুণেরা ঘুরছে ফিরছে।
চা সিগারেট খাচ্ছে। আড্ডাবাজিতে মেতে উঠছে।
মৃদু খুনসুটি, ফোনকল,
হয়তো খানিক রঙীন নেশার আবেশ...
সবকিছুই ঠিকঠাক চলছে।
এরই মাঝে অনেকেই নেতা হয়ে উঠছে।
শরীর-বেশভুষায় নেতৃত্বের কিংবা বৈচিত্রের ছাপ,
শুধু মনটা শেষতক সামন্ত'ই থেকে যাচ্ছে।
বিপ্লব প্রয়োজন।
দেশের স্বার্থেই, তৃণমূল থেকে।
"বিকেলে প্রতিবাদ"
ব্যানার হাতে দাড়াতে হবে নির্দিষ্ট স্থানে,
মিছিল নিয়ে হাঁটতে হবে অতিপরিচিত রাস্তায়,
মেপে রাখা কদমের সংখ্যায়।
বন্ধুগোত্রীয় নেতৃবৃন্দ বা কমরেড সাথে নিয়ে।
রাত শেষে,
সবার হাতে রঙচঙে র‍্যাপিং এ মোড়ানো এক বাক্স বিপ্লব...

আত্মমগ্ন কথামালা ১৮

নভেম্বর ২৬, ২০১২ - ১০:১০ পূর্বাহ্ন 

*
মৃত্যু
ছোট্ট একটা শব্দ, কিন্তু কি ভয়ানক বিষণ্ণ... কি ভয়ানক একাকীত্বের একটা শব্দ...
**
অনেকগুলো মানুষের মৃত্যু হ'লো গত ক'দিনে। বিভৎস, ভয়ংকর মৃত্যু। ভাবলেই শিউরে উঠতে হয়। ফ্লাইওভারের গার্ডার পড়ে, আগুনে পুড়ে। সেদিন চট্টগ্রামে যখন ফ্লাইওভারের গার্ডার খসে পড়ছিলো; তখন হয়তো আমি উত্তরার পথে, নির্মিয়মান ফ্লাইওভারের নীচে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটার ভেতর বসা কিংবা দাঁড়িয়ে আছি...
***
অনেকগুলো বছর আগে প্রায় এরকমই একটা ঘটনা ঘটে গেছিলো চোখের সামনে। সাইন্সল্যাবের ওভারব্রীজটার একটা গার্ডার খসে পড়েছিলো, আর চাপা পড়েছিলো একটা পাজেরো গাড়ি... এখনো মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ করলে স্লো মোসান সিনেমার মত সেই ভয়ানক দৃশ্যটা চোখে ভাসে...
****
আরো অনেকগুলো বছর আগে, স্কুল শেষের বছরটায়, খুলনার একটা বস্তিতে আগুন লাগলো। আমরা দূর থেকে আগুনের শিখা দেখলাম, ধোঁয়া দেখলাম, আগুন নেভানোয় সাহায্য করতে ছুটে গেলাম। গিয়ে দেখি সব শেষ। স্তুপ স্তুপ ছাই জমে আছে পোড়ার নিদর্শন হিসাবে। আমরা সেই ছাইয়ের ভেতর থেকে যদি কোনো সারভাইভার পাওয়া যায় এই আশায় খোঁজাখুঁজি করছিলাম। ছাই সরাতে গিয়ে একজন দগ্ধ মানুষের শরীরে বাঁশের খোঁচা দিয়ে ফেলেছিলাম...
এই বিভৎস দৃশ্যটাও আমি মাঝে মাঝে দেখতে পাই...
*****
শীত শেষমেষ এসেই পড়লো। এখনো ঠিক সেভাবে শীত পড়েনি, আর আমি ঠিক এভাবেই শীতকালটাকে চাই। কিন্তু আমার চাওয়াটায় কি আর হবে। দিনে দিনে শীত আরো বাড়বে, আর আমার এই ঋতুটার প্রতি অপছন্দের মাত্রাও বাড়তে থাকবে...


(মূলতঃ এটাই লিখবার কথা ছিলো আজ)
শীত এসেছে।
আমার অপছন্দের ঋতু।
এখন যেই শীতটা পড়ছে সেরকম যদি সারাটা শীতকাল জুড়ে থাকতো, তাহলে হয়তো শীত আমার প্রিয় ঋতুই থাকতো।
পরশু সন্ধ্যায় বছরের প্রথম কুয়াশা দেখলাম। গ্রাউন্ড লেভেলে যেইটা অদৃশ্য, ২৩ তলার উপর থেকে সেইটাই দেখলাম চাদরের মতো শহরটাকে জড়িয়ে ধরে আছে। দারুণ একটা সন্ধ্যা কাটলো সেদিন। রাত নামতে নামতে tipsy... অনেকদিন পর tipsy হতে আসলে খুব খারাপ লাগে নাই। এই অবস্থায় রিকশায় ঘোরা... আরও আরও আনন্দের...
আজ দেখলাম সকালের কুয়াশা। গাছের ডালে ডালে জড়িয়ে আছে। সুর্য উঁকি মারছে ডাল আর পাতার ফাঁক ফোকড় দিয়ে। সেই আলোগুলো ছায়াগুলো কুয়াশায় মিশে অপার্থিব একটা আমেজ ছড়িয়ে দিচ্ছে সকালে ব্যাস্ততার ভেতর।

ভুতুড়ে হাতের ছায়া

নভেম্বর ১০, ২০১২ - ১০:৩৭ অপরাহ্ন

জাস্ট একটা হাত, শরীর নেই, মাথা নেই...
হঠাৎ নেমে এলো ব্যস্ত রাস্তার ব্যস্ততা এড়িয়ে...
যেখানে ধাতব প্রজাপতি স্থির হয়ে...
যেখানে ধাতব প্রজাপতি স্থির হয়ে,
স্থির চোখে গিলে ফেলে
কালো ধোঁয়া, শব্দ দুষণ আর মানুষের শরীর;
ঠিক সেখানেই...
আধো অন্ধকার ভেদ করে নেমে এলো
শুধু একটা হাত
শরীর নেই, মাথা নেই, পা নেই
শুধু একটা হাত
প্রজাপতির ডানা ঝাপটানোর মত নেমে এলো,
আর নিমেষের জাদুতে
অদৃশ্য হয়ে গেলো হাতে থাকা মুঠোফোনের শব্দময়তা
বিস্মিত, দুঃখিত এবং ভীত চোখে তাকিয়ে থাকা সঙ্গিনীর
বিবিধ দুঃস্বপ্নের অনুষঙ্গে যোগ হলো
ভুতুড়ে হাতের ছায়া...