শনিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬

আবারো তোমাকেই, শ্রীময়ী... (৩)


প্রিয়তম শ্রীময়ী,

আজ একটা অসম্ভব সুন্দর দিন হবে...

অন্যান্য দিনের মত ঘুরতে থাকা মেঘেরা কেন জানি আজ দাঁড়িয়ে পড়েছে এভারেস্টের কোল ঘেঁষে...

বারান্দায়, মৃদু গাঁদা ফুল আর অপরাজিতার দল আজ ঘুমিয়ে যাবেনা বলে পন করেছে। তুমি স্পর্শ করবে তাদের, এই আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জেগে রবে প্রথম প্রহর থেকেই। জল ছুঁয়ে থাকা কুয়াশার ঝাঁক পাখি হতে চাইছে থেকে থেকেই...

কৃষ্ণচুড়া গাছটা এখন ন্যাড়া। ওখানে তোমার আলতো ছোঁয়া দেবে কি আজ? কুয়াশা ছুঁড়ে ফেলে হয়তো বসন্ত এঁকে দিতে পারতো সে। জল থেকে ভেসে ওঠা কুয়াশার উপর রোদের চাহনি  পড়েছে হয়তো, সেখান থেকে আলো ঠিকরে আসবে তোমাদের বারান্দায় অল্প কৃষ্ণচুড়ার রঙ নিয়ে...

এখানে দিনগুলো খুব মেলাঙ্কোলিক। সকালে রোদ আসেনা সহজে এই বারান্দার দোলনায়। দূরে তাকালে পাহাড়ের সিল্যুয়েট। কুয়াশা শুধু রাস্তা জুড়েই রাজত্ব করেনা, চোখ আর মন জুড়ে তার রাজধানী। খোঁড়া পা আর নিকোটিনগ্রস্ত ফুসফুস ঘুরেফিরে তোমায় খোঁজে। কালচে ঠোঁট দু'টো হাসি মেখে রাখে অনভ্যস্ত...

জলের ওপাড়ে, তোমার সহজিয়া ঘুম। শ্রান্ত শরীরের ছায়া নামে শান্ত মেঝের আশ্রয়ে। সাদাকালো জবা ফুলের দল তোমার প্রতিমা ছুঁয়ে অপার্থিব আনন্দে মাতে। দীপাবলির আলো ছুঁয়ে যায় তোমার পা। একটা ড্রিমক্যাচার খুজছিলাম, তোমাকে উপহার দিবো বলে। বলতে পারো কেনো?

তুমি কত দূরে। বন্ধু আর পরিবার হয়তো তোমায় ঘিরে আছে এখন। হয়তো মোমবাতি জ্বলছে। হয়তো চকোলেট কেকের উপর লেখা আছে তোমার নাম। জেনে রেখো... এখানে, এই পাহাড়ি শহরে, কেউ বসে মৃদুস্বরে গাইছে তোমাকে নিয়ে লেখা কবিতা। সে হয়তো জানেইনা, তোমার বুক জুড়ে কার শব্দ বাজে। শুধু এটুকু জানে, নিজের বুকের ছন্দ। যেখানে প্রতিনিয়ত শ্রীময়ীর নাম বেজে চলে...

শুভ জন্মদিন শ্রীময়ী... অবচেতনকে অবজ্ঞা কোরোনা। সারা দিও হৃদয়ের ডাকে। যেই ডাক আমি শুনি নিভৃতে বসে...

ইতি,
তোমারই আমি...

রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৬

গ্রাফাইট রাত্রির শুরুতে...

অপেক্ষার পথগুলো বিভ্রান্ত কুয়াশাময়...

এলোমেলো নর্দান হাওয়া
গাল রেখে নাগরিক জানালায়
খুঁজে ফেরে রাতের আশ্রয়...

দিনমান বয়ে চলা দ্বিধা
আর বিবিধ স্মৃতির দোলাচলে থাকা
দেয়ালবন্দী চোখের জমিনে ক্লান্তি...


গাঢ় হয়ে এলে গ্রাফাইট রাত
নিষ্পাপ ঘুম জমে বিবিধ নৈশব্দের আবডালে...

বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

আবারো তোমাকেই, শ্রীময়ী... (২)

প্রিয়তম শ্রীময়ী,


ভালো নেই জানি। মনে রেখো, পাখি শরীরেও জমে মেঘের অসুখ। শরতের ঝকঝকে আকাশ পারেনা আড়ালে লুকিয়ে থাকা বৃষ্টিদাগ ছুঁড়ে ফেলে দিতে। তবু হাসিভরা নীল নিয়ে ঝলমলে করে দেয় অনেকের মন...

সেইযে সেদিন, অল্পেই ফিরে গেলে অতীতে। সহসা বর্ষায় উচ্ছল তুমি, যার ছিটেফোঁটা আমিও পেলাম এপাড়ে বসে থেকেও। জানো, সেদিন খুব চেয়েছিলাম এপাড়েও বৃষ্টি হোক ঝুমঝুম। আমিও নেয়ে উঠি আনন্দে, গেয়ে উঠি হেঁড়ে গলায়। প্রকৃতি খুবই রুঢ়, তাই আমার এদিকে ঝলমলে রোদ পাঠিয়ে দিলো হাসিমুখে...

স্রোত ভরা নদীটার বুকে দিনদিন জমা হতে থাকা অভিমানের পলি একসময় স্রোতটাকেই স্তব্ধ করে দিতে চায়। কিন্তু স্রোতটা বড় বেয়াড়া। জানোইতো। সে জোর ধাক্কায় অভিমানের বাঁধ ভেঙ্গে আপন পথে ছুটতে চায়। এমন সময়গুলোতে কখনও কখনও অভিমানের পলি ছিটকে গিয়ে পড়ে পায়ের কাছে। কাদা এড়াতে গিয়ে নদী আর পথিকের মাঝে দুরত্ব বাড়ে। পলি জমা হয় নদীর বুকেই...

মনে আছে কিনা জানিনা, আমরা কোথাও যাবো বলে ভাবছিলাম বেশ কিছুদিন ধরে। হঠাৎ তোমার ব্যাস্ততা বেড়ে গেলো। আমরা গেলাম না সেখানে, অন্যমনস্কতা তোমায় ঘিরে ফেলবে তাই। তবু, আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষায় রইলাম ব্যাস্ততা কমবার। সেদিন জানলাম সেইখানে তুমি ঘুরে এসেছো ব্যাস্ততা আর অন্যমনস্কতার চিন্তা ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে। হাসিমুখে কষ্ট লুকোলাম। তুমি ঘুরে এসেছো এজন্য না, তুমি আমাকে জানাবার দরকারও বোধ করোনি, তাই। আরও মজাটা কি জানো? এই কষ্টটা আমি তোমাকে জানাবার অধিকারও রাখিনা...

সবকিছু পৌণপূণিক নয় শ্রীময়ী। দেখতে এক লাগলেও ভিতরে সুপ্ত থাকে বিচিত্রিতা। হাসিমুখের মুখোশে চোখের বিষাদ লুকোনো যায়না জেনো...

ইতি,
তোমারই "কোনোসময়ের" আমি...

রবিবার, ৬ মার্চ, ২০১৬

আবারো তোমাকেই, শ্রীময়ী... (১)

প্রিয় শ্রীময়ী,

জানতে চাইবোনা কেমন আছো। জানি, হাসিমুখের আড়ালে।কান্না লুকিয়ে বেশ আছো এমন অভিনয় করে যাচ্ছো এখনও...

কখনো কাকতাড়ুয়া দেখেছো শ্রীময়ী? হাড়িপনা মুখে দেঁতোহাসি ঝুলিয়ে রেখেই দিগন্তে চোখ রাখে একাকী। কখনো নিজের ছায়া দেখে নিঃসঙ্গতা ভুলে থাকে, কখনো কালপেঁচা বা ফিঙের দ্বিধাবিভক্ত লেজ দেখে অনিশ্চয়তায় ভুগে...

শ্রীময়ী, যেদিন সব হিসেব-নিকেশ চুকিয়ে দিলে। ভেবেছিলাম সাময়িক উষ্মার মেঘ কেটে যাবে সহসাই। কালবোশেখি শেষে গোধূলি যেমন সাজে, তেমনই হয়ে উঠবে সমগ্র চরাচর...

আমি যেমন জানি, তুমিও তেমনি জানো শ্রীময়ী। আমাদের অহংবোধ অত্যন্ত চড়া সুরে বাঁধা। পৃথিবী ভেঙেচুড়ে গেলেও আমাদের কষ্ট কাউকে দেখাবার চাইতে মৃত্যুই বরং আলিঙ্গন করবো আমরা দুজনে, ভালবেসেই...

সর্বান্তকরণ দিয়ে চাই খুব ভালো থেকো তুমি। আমার মতো নিঃসঙ্গ কাকতাড়ুয়া না হয়ে বরং জোড়া শালিকের জীবন হোক তোমার...

ইতি,
তোমারই "কোনোসময়ের" আমি...

বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৫

বিদায় শ্রীময়ী...

প্রিয়তম শ্রীময়ী,

তোমায় ভাবলেই নিষ্কলুষ...

সারাদিনের পর যখন তোমাকে দেখতাম, এক লহমায় সব অন্ধকার দূর হয়ে যেতো। একটু হাসলে সরলতার বিচ্ছুরণ হ'তো। দুর্ভাগা আমি, নিজে হাতে সেই মরূদ্যান ধ্বংস করে দিয়েছি...

কখনো চাইনি, আমার কারণে তোমার মনে একটুও ছায়া জমুক। কি ভাগ্য আমার দেখো, তোমার মনের মেঘ বাড়িয়েই গেছি না চাইতেই। বারবার। তুমি কষ্ট পেলেও সহ্য করে গিয়েছো আমার অপরিণামদর্শিতা। পৌণঃপূণিক সুযোগ দিয়েছো আমাকে শুধরাবার...

ডুবে গিয়েছিলাম শ্রীময়ী...
তোমাতে...
এখনো ডুবেই আছি...
ডুবে থাকবোও...
সারাটাজীবন...

সবাই বলে সময় সব ক্ষত সারিয়ে তুলে। হয়তো কথাটা সত্যিও। কিন্তু ক্ষত যত গভীর হয়, তার দাগ ততটাই গভীর রয়ে যায়...

ভবিষ্যৎ জানিনা শ্রীময়ী। তাই তোমাকে আবারো কখনও লিখবোনা সেই প্রতিজ্ঞা করছিনা। আপাতত হয়তো ফিরে যাবো নিজের বৃত্তে। কখনো কখনো ভালোবাসার মানুষটাকে চলে যেতে দেওয়াটাও আসলে তাকে ভালোবেসে যাওয়া...

শুভেচ্ছা নিও শ্রীময়ী। নতুন একটা বছরের। আর...

বিদায়...

ইতি,
তোমারই আমি

শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০১৫

পুনঃশ্চ, শ্রীময়ী... [৩]

প্রিয়তম শ্রীময়ী,

মানুষ কিভাবে বদলায়, তাইনা! কি দ্রুততার সাথে বদলে যায়...


উপেক্ষা জিনিসটা কষ্টের। দুই তরফেই। যাকে উপেক্ষা করা হচ্ছে আর যে উপেক্ষা করছে দু'জনেই ক্লিষ্ট হয়ে থাকে উপেক্ষার ভারে...

আসল সত্যটা কি তেমনই, যেমনটা সেদিন বলেছিলে? সেদিনের পর থেকেই যে তোমাকে বদলে যেতে দেখলাম...

অপ্রয়োজনে কথা বললে তোমার সাথে, তুমি কি খুব বেশী বিরক্ত হও? ভাবো, আঙুল গোনা কটা দিন আগেই অপ্রয়োজনে কত কত কথা বলতাম আমরা দু'জন। সবই অতীতের গল্প মনে হয়...

কিছুমাস আগে তুমি কাগজে লিখে দিয়েছিলে "ওয়ান ডে ইউ'ল গেট লস্ট"। হিডেন মেসেজটা কি এমন ছিলো? "ওয়ান ডে আই'ল আস্ক ইউ টু গেট আউট অফ মাই লাইফ অ্যান্ড ইউ'ল গেট লস্ট ফর এভার"...

ভালো থাকো শ্রীময়ী, সারাজীবন। অনেক বেশী ভালো থেকো প্রাচুর্যের খাঁচায় বসে...

...অসীম প্রাচুর্য ঘিরে রাখুক তোমাকে সারাটা জীবন। আমার মতো ওয়ার্থলেস মানুষের সাথে এতদিন ছিলে, এটাই আমার অনেক বড় পাওয়া... 

ইতি,
তোমারই আমি...

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০১৫

শ্রীময়ী, তোমাকে... [১৫]


প্রিয়তম শ্রীময়ী,

কেমন আছো তুমি? কতদিন লিখিনা তোমায়! উঁহু, ভুলেও ভেবোনা যে ভুলে গিয়েছি। তোমাকে ভুলে যাওয়া মানেতো নিজেকেই ভুলে যাওয়া...

সময়ের মোর্স কোডে আটকে যাওয়া সময়টাকে নিয়ে হেঁটে চলি দুজনেই। ডট ড্যাশ ডট ডট ড্যাশ ড্যাশ ড্যাশ ডট ডট ডট ড্যাশ ডট...

তুমি ওপারে দাঁড়িয়ে বুঝেও না বোঝার ভাণে, এঁকে রাখো দুর্বোধ্য গ্রাফিতি। আমি এপারে অনুবাদ করি হায়ারোগ্লিফ...

জানো শ্রীময়ী, তুমি পাশে আছো জেনে চোখ বুঁজে পাড়ি দিই অনিশ্চয়তার হিমালয়। নিশ্চিত জানি পেরোতে পারবোনা, তবুও...

উপেক্ষার আলিঙ্গনে জোছনারা মরে যেতে থাকে নৈমিত্তিক রাতের প্রহরে। আবার সকাল হলেই পূর্ণ চাঁদের আসা যাওয়া...

পাখিমাত্রই অভিমানি...

আস্থা রেখো শ্রীময়ী, আমাদের যুক্তিহীন স্বপ্নের উপর। স্বপ্নেরা সত্যি হয় ওঠে আস্থার আবরণে...

ইতি,
তোমারই আমি...

শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

শ্রীময়ী, তোমাকে... [১৪]

প্রিয়তম শ্রীময়ী,

তোমাকে শেষ লিখেছিলাম অনেকদিন হয়ে গেলো। কেমন আছো তুমি? আমি বিষাদাচ্ছন্ন হয়ে থাকি আজও...

কাল বসন্তের প্রথম সূর্য উঠেছিলো এই নগরে। নিজের বাসন্তী রঙে সাজিয়ে দিয়েছিলো এই নাগরিক জঙ্গলটাকে। তুমিও বাসন্তী সেজেছিলে। শুধু, আলফেসানীটা সারাদিন নিজের ঘরের কোনায় মুখ গুজে পড়েছিলো। অবাস্তব জানালায় চোখ রেখে খুঁজে ফিরেছিলো বাস্তব উৎসবের ছোঁয়া...

জানো? মাঝে মাঝে মনেহয়, অন্য কোনো সময়ে; অন্য কোনো বাস্তবতায় তোমার সাথে যদি দেখা হ'তো, তাহলে কেমন হ'তো আমাদের পথটা? আবার মনেহয়, এই ই ভালো...

এই দ্বিধা-মেঘ-স্মৃতি-রোদ... এই না পাবার ব্যাথা কিংবা না পেয়েই হারাবার ভয়, এই ই আমার ভবিতব্য...

তোমার হাসিমাখা মুখে যেই রোদ ঝলমলিয়ে ওঠে, তার জন্য পথে পথে মুখ থুবড়ে পড়েও ছুটে আসি। কখনও হাসির বদলে একঝাঁক ধারালো ছুরি জমে হৃদপিন্ডের নিলয়ে-অলিন্দে। ভালোবাসি। তাই ঘরে ফেরার পথেই ছুরিগুলো এক এক করে বের করে আনি, ছুঁড়ে ফেলে দিই অচেনা অন্ধকারে...

আমার কষ্টে তুমিও আঘাত পাও চাইনা কখনই। তবুও, অজান্তেই, হয়তো কখনো আহত করে ফেলি তোমায়। জানো নিশ্চয়, তাতে আমারই ক্ষত বেড়ে চলে অহর্নিশ। ক্ষমা চাইনা, তোমার স্মৃতিতে কষ্ট জমা হবে, তাই...

আজ, খুব ভেবেছিলাম তোমার সাথে কথা বলবো রাতভর। তুমি ডুব দিলে। হয়তো স্মৃতিসমুদ্দুর ডেকেছিলো খুব হাতছানি দিয়ে। হয়তো ক্লান্ত ছিলে সারাদিন পরিশ্রম শেষে। আমিও চাইনি তোমার জেগে ওঠা ক্ষততে চুমু দিতে। জানি হিতে বিপরীত হতো, তাই। আমার নিয়তিই যে এমন...

পৃথিবীর কঠিনতম কাজটা হচ্ছে অতীত ভুলে থাকা, শ্রীময়ী। অস্বীকার করবোনা, কষ্ট পাই অনেক। তবু তুমি ভালো থাকবে জেনে, হৃদয়ের ক্ষতগুলো আশার রঙীন সুঁই-সুতোয় মেরামত করতে বসি...

দু'বাহু ছড়িয়ে রেখেছি শ্রীময়ী, তুমি এলেই জড়িয়ে নেবো ভালোবাসার বৃষ্টিতে...

ইতি,
তোমারই আমি...

শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৫

গ্রাফিতি কিংবা জীবন...

হলদে পেঁচার কথাঃ-
শুটকো পটকা হলদে পেঁচাটা কিভাবে এখানে চলে এলো তা অন্য কেউ কেনো, পেঁচাটা নিজেই জানেনা। তারপরেও, এসেই যখন পড়েছে, চোখ বড় গোল বড় গোল করে তাকিয়ে থাকতেতো অসুবিধা নেই। অবশ্য চোখ চারকোনা করে তাকাবার উপায়ও নেই। যাক, পেঁচাটা চোখ গোল করেই তাকিয়ে থাকুক আর ভাবতে থাকুক রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষগুলোকে নিয়ে...

রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া দু'জন মানুষের কথাঃ-
ফিলসফি, জীবন, ক্রাইসিস। কথা বলার বিষয়গুলো ছিলো এরকমই। তবে সবচে মজার ব্যাপার হলো দু'জনের মাথার ভেতরে বসে ছিলো আরো দু'জন এবং সেই মাথার ভেতর বসে থাকা দু'জনের অন্তত একজনের মাথার ভিতর বসে ছিলো অন্য আরেকজন আর রাস্তা দিয়ে হাঁটতে থাকা একজন..

পার্পল পেঁচার কথাঃ-. 
পার্পল পেঁচাটার স্বাস্থ্য একটু ভালো, তবে সেটা নিয়ে পেঁচাটার কোন মাথা ব্যথা নেই। একটু দুঃখবোধ অবশ্য ছিলো তাদের নীল ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে। যদিও সেটা আপাতত তার খেয়ালে নেই, সে তার চোখগুলো ছোট গোল ছোট গোল করে মনোযোগ দিয়ে শুনছিলো রাস্তায় হেঁটে যাওয়া মানুষগুলোর কথা... 

রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া দু'জন মানুষের কাছে থাকা জিনিসপত্রের কথাঃ-
ওইযে একটু আগে যেই বিষয়গুলো নিয়ে দু'জন মানুষ কথা বলছিলো, তার সাথে সাথে কিছু সাহিত্য বিষয়ক কথা বার্তাও যোগ হয়েছিলো ততক্ষণে। যদিও চেক শার্ট গায়ে মানুষটার ব্যাগের ভিতরে যেই ওরিগ্যামি স্টার আর লিলিটা ছিলো তারা মানুষগুলোর এত আলোচনায় মন না দিয়ে ফ্রয়েডের বইয়ে লেখা বিষয়গুলোর সাথে নিজেদের ভাঁজের রসায়ন খোঁজায় ব্যাস্ত ছিলো। ওদিকে জিনসের জ্যাকেট গায়ে মানুষটার পকেটে থাকা মুঠোফোনটা ভাবছিলো এই মুহুর্তে দুইটা এপ এর ইন্টার‍্যাকশন কিভাবে করা যায় আর নিজের সফটওয়্যারটার একটা গতি করার ব্যাপারে... 



 

রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৫

শ্রীময়ী, তোমাকে... [১৩]

প্রিয় শ্রীময়ী,

দু'টো সাদা গোলাপের দিন ছিলো আজ...

সারাদিনের হঠাত গ্রীষ্মও ভুলিয়ে রেখেছিলো সকালের সেই ঠোঁট চাপা হাসিটা...

বারবার ছুটে আসি কেন, তুমি তা জানো। সেজন্যেই কি এতো বিরক্তির আবরণ? ভ্রুকুটিতেও যে রক্তক্ষরণ হয়,তা কি জানা আছে তোমার???

পথ জুড়ে বিবিধ আঁধার ছড়িয়েছিলো আজ। তাই বুঝি আকাশের চোখ বেয়েও নেমেছিলো অশ্রু। যতক্ষণ তুমি পথিক, অনেক কষ্টে লুকিয়ে রেখেছিলো। যেই তুমি গৃহী হলে, সেই অশ্রু, ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হয়ে ঝরতে থাকলো শহরময়...

তুমি যেদিন চেয়েছিলে আমি হাঁটি তোমার পাশাপাশি, সেদিন আমি অপারগতার আগুনে জ্বলছিলাম। তুমি জোর করে হেসেছিলে, অনভ্যস্ত মুখোশ এটেছিলে চোখে। লুকোতে পারোনি দুঃখের রঙ। পরদিন, তোমার অভিমান আমাকে ক্ষতবিক্ষত করেছিলো। অনির্দিষ্ট নগরের রাজপথে হেঁটেছিলাম। সময় দিয়ে সময়কে গিলে নিতে চেয়েছিলাম, পারিনি...

জানি, আবার কষ্ট পেতে চাওনা বলেই নিজেকে কষ্ট দিতে থাকো বারবার। ফেলে আসা পথ ভেবে আগামীর তুমিকে কষ্ট দিওনা শ্রীময়ী...

ইতি,
তোমারই আমি...

বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৫

শ্রীময়ী, তোমাকে... [১২]

শ্রীময়ী,

প্রজাপতিদেরও মন খারাপ হয়। আর তখন রোদ ঝলমল দুপুরটাও মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। সেই মন খারাপের মেঘ কিভাবে যেনো আমার কানে এসে বলে যায় তুমি ভালো নেই। জানি, তোমার বুকে বেজে চলেছে ফেলে আসা পথের রোদ-বৃষ্টি-কুয়াশা-ঝড়ের গান। স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ছো থেকে থেকেই...

জানো শ্রীময়ী, তোমার জমে থাকা কষ্টগুলোর শীতলতা আমিও অনুভব করতে পারি। হয়তো অনুভূতিগুলো তোমার তীব্রতার তুলনায় নগন্য, তবুও...

অন্য কথা বলি। তুমি হাসলে তোমার চারপাশ ঝলমলিয়ে ওঠে তা তো তুমি জানোই; কিন্তু এটা কি জানো তোমার সরলতাও আতশবাজি হয়ে ছড়িয়ে পড়ে আকাশে? এই আতশবাজির খানিকটা ঝলক দেখেছিলাম প্রথমদিন। এরপর যত দিন গিয়েছে, আরো আরো বেশী করে খুঁজে পেয়েছি তোমার সরলতা, হাসিতে আর ভাবনাতে...

সেইযে সেদিন, তোমার পায়ে সবুজ নূপুর জড়িয়েছিলো পাহাড়ি ঝিরির বাঁকে। কি শান্তই না ছিলো দিনটা। চারদিক শুনশান, শুধু স্রোতের ছলছল শব্দ আর মাঝে মাঝে নাম না জানা পাখির কিচিমিচি। স্বচ্ছ পানিতে মাছগুলো কেমন উদাসীন ছুটে বেড়াচ্ছিলো। ক'টা বুঝি তোমার সবুজ নূপুর ছুঁয়ে নিজেদেরও নূপুরের অংশ ভেবে নিতে চেয়েছিলো...

"পাখি হও, উড়ে যেওনা" একবার বলেছিলাম তোমায়। সেই তুমি কিভাবে যেনো প্রজাপতি হয়ে উঠলে। চঞ্চল রঙীন প্রজাপতি। যেই রঙ বর্ণনার সামর্থ আমার নেই। প্রজাপতিটা যতক্ষণ থাকে, রঙীন সুবাস ছড়ায়। রঙীন গানের সুরে ভরে তোলে দশদিক...

তুমি দেখো শ্রীময়ী, আগামী দিনগুলো তোমাকে নতুন পথের সন্ধান দিয়ে যাবে প্রজাপতির ডানায় নতুন রঙ ছড়িয়ে দিয়ে। ভালোবাসে ফেললে, সেই রঙ চিনতে ভুল কোরোনা...


পাখি হও কিংবা প্রজাপতি, ফেলে আসা পথের স্মৃতি হারিয়ে ফেলোনা। তবে এভাবে আঁকড়ে ধোরোনা, যাতে গহন কালো মেঘ ঘিরে ধরে তোমাকে। ঝরঝর বৃষ্টিতে ভিজে যায় মনের উঠোন...

ইতি

তোমারই আমি...

বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৪

পুনঃশ্চ, শ্রীময়ী... [২]

প্রিয় শ্রীময়ী,

যখন পা পিছলালে, আমার চরাচর শূন্য হয়ে গিয়েছিলো। যদিও ওখানে পানি ছিলো যৎসামান্যই, তবুও...

তোমার হৃদস্পন্দন অনুভব করেছি বহুবার, কিন্তু শুনেছি প্রথম বারের মত। আমার সারাটা অনুভূতি জুড়ে থাকবে দ্রুতলয়ে ছুটে চলা রক্তের গান...

যখন কুয়াশারা পথ খুঁজছিল শহুরে গোধুলিতে। উত্তুরে বাতাসের ফিসফিসানি মেখে তুমি শীতার্ত হচ্ছিলে। চেয়েছিলাম ওম দিতে, জড়িয়ে দিতে তোমায়। তোমারই শীতবস্ত্রে। তোমার ঘুমন্ত নিষ্পাপ মুখ চেয়ে আর জাগিয়ে তুলতে পারিনি...

আজও স্মৃতিমেঘ হানা দিলো তোমার আকাশে। একরাশ কালো রঙ ছড়িয়ে রইলো সারাক্ষণ...

শেষ বেলার রিনিঝিনি হাসিটার সমাপ্তি হ'লো জলে। আসলে, তুমি আমি আর জলের এক দারুণ বোঝাপড়া হয়তো হয়ে গেছে এতদিনে...

মনকে বেঁধে রেখোনা শ্রীময়ী, সে শোধ নেবে শরীরকে কষ্ট দিয়েই। আজ, এখন যেমন নিচ্ছে...


ইতি,
তোমারই আমি...

বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৪

শ্রীময়ী, তোমাকে... [১১]

প্রিয় শ্রীময়ী,

গোলাপের লাল, স্মৃতিতে রক্তক্ষরণ বয়ে আনে তোমার। শত হাজার মুহুর্তেরা সাঁই সাঁই ছুটে যায় নিউরন থেকে নিউরনে...

ওখানে যেতে চেয়েছিলাম তোমার সাথে, কোনো এক কুয়াশা ঘেরা ভোরে। চারদিকে নৈঃশব্দের কোলাহলে পূর্ণ থাকবে। মাঝেমাঝে পাখিদের কিচিরমিচির। আমরা বসে থাকবো কুয়াশায় শরীর ভিজিয়ে, আর দূরের সর্ষে ক্ষেতে দেখবো কিভাবে রোদ হাসি ছড়িয়ে দেয় ধীরে ধীরে...

দুপুরের সবটুকুই মায়াময় উদাসীনতায় ভরা ছিলো কাল। দু'পাশে সারি সারি লেপা মাটির ঘর রেখে হেঁটেছিলাম দু'জনে, উদ্দেশ্যহীন। তুমি ছিলে বরাবরের মতই আদুরে উচ্ছাসে উচ্ছসিত...

হাঁটতে হাঁটতে চলে গিয়েছিলাম সেই বুড়ো বটগাছটার কাছে। ঝোড়ো বাতাসে পাতা যেমন কাঁপে, তেমনই কাঁপছিলে তুমি। বোকা মেয়ে, এত ভয় পেতে হয় নাকি। আমিতো আছিই তোমার পাশে...

ভুলবো ভুলবো করেও তোমার ফেলে আসা পথের ছায়া নেচে ওঠে তোমার চোখের সামনে...

তোমাকে স্পর্শ করতে আমি খুব সতর্ক থাকি সবসময়। যদি আঘাত পাও, শরীর কিংবা মনে...

ক্লান্ত হয়েছিলে অনেক। ঘুমরাজ্যে হারিয়েছিলে তাই, আর পবিত্রতা ছড়িয়ে পড়েছিলো তোমার সবটুকু জুড়ে...

সময় অনেক কিছুই ভুলিয়ে দেয়, আবার মনে করিয়ে দেয় না চাইতেও । সবকিছু নিয়েই বাঁচতে হবে। তোমায়, আমায়...

ভালোবেসো শ্রীময়ী, অতীতের ছায়ায় বর্তমানের ভালোবাসাকে ভয় কোরোনা...

ইতি,
তোমারই আমি...

সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৪

শ্রীময়ী, তোমাকে... [১০]


প্রিয় শ্রীময়ী,

ঘুমের নৈঃশব্দও এত সুরেলা হয়, তোমার সাথে পরিচয়ের আগে জানাই হয়নি কোনোদিন...

রোদেলা বিকেলটা এক লহমার আদুরে ছোঁয়া দিয়ে চলে গিয়েছিলো সন্ধ্যার পথে, উত্তুরে হাওয়ার গান গেয়ে...

পথে, দ্বিধাগ্রস্ত হাত রেখেছিলে। কিছু কথা এলোমেলো, কিছু স্মৃতি অগোছালো। ফেলে আসা পথে মার্চ করে আসছিলো শহুরে কুয়াশার পদাতিক বাহিনী। কিছু পদাতিক হঠাতই পথ ভুলে চলে আসছিলো চোখের কার্ণিশে...

নাগরিক জঙ্গলে জোনাক জ্বলেনা, নয়তো তোমায় জোনাকজ্বলা একমুঠো রাত উপহার দিতাম। সাথে থাকতো ঝিঁঝিঁদের আনন্দগীত...

স্বপ্ন দেখো শ্রীময়ী, বাঁচার প্রেরণা লুকিয়ে থাকে স্বপ্নের গর্ভেই...

ইতি,
তোমারই আমি...

শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১৪

পুনঃশ্চ, শ্রীময়ী...[১]


প্রিয় শ্রীময়ী,

সব কিছু স্বাভাবিক ভাবেই চলছে আশা করি...

আজ এসো, ব্যাথার রসায়ন বলি তোমায়। কোথাও আঘাত পেলে নিউরন গুলো ব্যাথার অনুভূতি বয়ে নিয়ে যায় মগজে। এই অনুভূতির সৃষ্টি হয় নিউরনে এক ধরণের রাসায়নিক ক্ষরণের ফলে। মজার ব্যাপার হ'লো, মগজ শুধু এই বাহিত অনুভূতিটা অনুবাদই করতে পারে। বুঝতেই পারছো, কোনোমতে যদি কারো মাথার খুলিটা খুলে ফেলে মগজে কাটাকুটি খেলা হয়, সে কোনো ব্যাথাই পাবেনা...

শরীরের ব্যাথাই তো আর সব না, বিবিধ বেদনা থাকে মানুষের। তবে, সেই সব ব্যাথায় অবশ্য ব্যাথাবাহী নিউরনের কোনো ভুমিকাই নেই। এগুলো সবই মস্তিষ্কজাত অনুভূতি...

ধরো, প্রিয় মানুষটা হঠাতই চলে গেলো না ফেরার দেশে। তখন যে ব্যাথা পায় মানুষ, তার উৎপত্তি অজানাই রয়ে গেছে এখনও...

কিংবা ধরো, কেউ সারাবেলা সারাদিন উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করছে প্রিয় মানুষটার জন্য। কিন্তু সেই প্রিয় মানুষটা, ঘরে ফিরেও এক পলকের বেশী দৃষ্টি দিলোনা সেই কেউ এর দিকে। তখন যে ব্যাথার জন্ম হয়, সেটা আসলে ব্যখ্যাতীত। কোথায় তার উৎপত্তি, কোথায় তার শেষ কেউ জানেনা...

অথবা ধরো, কেউ প্রিয় কিছু হারালো। ব্যাপারটা জানার পরেও যদি কেউ সান্ত্বনার দু'টো কথা না বলেই বিদায় নেয়, তখনও ব্যাখাতীত ব্যাথায় ব্যাথিত হয় মানুষ...

আসলে মানুষের জীবনে এমন ব্যাখ্যাতীত বেদনাই বেশী...

ইতি,
তোমারই আমি...

বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০১৪

পুনঃশ্চ, শ্রীময়ী...[০]


শ্রীময়ী,

খাঁচায় বন্দী পাখিদের দেখেছো? মুক্তির জন্য কিভাবে ছটফট করে বেড়ায় সারাটাক্ষণ...

তুমিতো জানো, আলফেসানী এই রাস্তায় হাটেনি কখনো আগে। ভুলভ্রান্তি থাকতেই পারে তার কিছুটা কিংবা অনভিজ্ঞতার হোঁচট...

রাতের আকাশটা আজ একটু বেশীই কালো হয়েছে, কালকেও ঘোলাটে থাকবে সারা দিনমান। কারণটা তুমিও জানো শ্রীময়ী...

এইযে ঘর জুড়ে মন খারাপের ধুলো ছড়িয়ে আছে, তারা জানেনা কিভাবে উড়ে যেতে হয় হাওয়ার ডানায়। সকাল বিকাল জমা হতেই থাকে অবিরাম...

জানালা বন্ধ করে রেখেছো সব। কপালের গভীরে লুকোনো ভাঁজ দেখছি কেবল আমিই...

চুপচাপ হাঁটু গেড়ে অপেক্ষায়, জানালা খুললেই স্পর্শ করবো কোমল গালের জমিন। আবার হেসে উঠবে চাঁদ, শুক্লপক্ষের জোছনা গায়ে মেখে...

ইতি, 
তোমারই আমি...

রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৪

শ্রীময়ী, তোমাকে...[৯]

প্রিয় শ্রীময়ী,

অন্ধকারে ফুলের রঙ বোঝা যায় কি?

যেখানে নিকষ অমাবস্যার রাত সবসময়, ফুলেদের রঙ সেখানে থাকতে হয়না...

তবুও, কেন জানি ভুল করে কিছু রঙিন ফুল ফুটেছিলো। সেগুলো দু'হাত ভরে তুলে দিয়েছিলাম তোমাকে। ভেবেছিলাম, আরো আরো ফুল সাজিয়ে দেবো তোমার চারদিকে। ফুলের ভালোবাসায় অমাবস্যা কেটে জাগবে জোছনা...

তোমার হাত থেকে ফুল পড়ে গেলে, জেনেছি নতুন ফুলের জন্ম হবে প্রতিবার...

অপেক্ষা বড় কষ্টের, তারও চেয়ে বেশী কষ্টের হ'লো আকাঙ্খার পতন। হয়তো না বুঝে দেওয়া সেই কষ্টটা পেয়েছি কিংবা পেয়েছো তুমিও...

জানিনা শ্রীময়ী, কি লেখা আছে সময়ের অপর পৃষ্ঠায়। যেখানে সমাপ্ত হয় গল্পগুলো। তুমি কি জেনেছো? নাকি পুরোনো গল্পটার সমাপ্তিই সেখানে ভেবে নিয়েছো?

খুব ভালো থেকো শ্রীময়ী। অমাবস্যার রাজ্য থেকে জোছনার পথে এগিয়ে যেও দৃঢ় পায়ে। দুঃখ এটুকুই, যাবার আগে বিদায় নেওয়া হলোনা ঠিকমতো...

ইতি,
আমি...

বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৪

শ্রীময়ী, তোমাকে...[৮]

শ্রীময়ী,

পেলব পায়রার গোলাপী ঠোঁটে ঠোঁট রাখলে ঝোড়ো বাতাসের গান ভেসে আসে ওপার থেকে...

উদ্যানের কোল ঘেঁষে, বৃদ্ধ সন্ধ্যা কিংবা কুমারী রাতের আলোয় তুমি তাকিয়েছিলে কি? তাকালেই দেখতে অফিস ফেরতা মানুষের ভীড়, স্বপ্ন ভরা চোখ নিয়ে হেঁটে চলে ক্লান্ত পায়ে। তারই এককোণে সাময়িক ঘর বাঁধি দুজনে...

আচ্ছা শ্রীময়ী, বলতো, স্কালপেলের ধারালো প্রান্ত কি রক্তকে ভালোবাসে। নাকি রক্ত দিয়ে মেটায় তৃষ্ণা...

কখনো কখনো মনেহয়, একটা ধারালো স্কালপেল হাতে তুলে নিয়ে আকিবুকি কাটি নিজের শিরা আর ধমনীর উপর। ছবিটা অনেক দৃষ্টিনন্দন হবে নিশ্চয়ই...

এইযে, একঝাঁক অবাধ্য মেঘেদের আনাগোনা চলছে শহর জুড়ে। তারা কি সবার চোখে ছায়া ফেলতে পারে, কিংবা সবাই কি সেই মেঘের স্পর্শ অনুভব করতে পারে? পারেনা...

কাল সারাদিন মেঘদল ছায়া ফেলেছিলো আমার চোখে। যতবার হেসেছি, ততবার ছায়ারা গাঢ় থেকে গাঢ়তর হয়েছে। সেই ভার ছড়িয়ে গিয়েছিলো তোমার বুকেও। চাইনি আমি। আমার গাঢ়তর ছায়ার ভার তোমাকেও আহত করুক...

ছায়ারা আসলে সংক্রামক। এক চোখ থেকে আরেক চোখে যায়, আবার ফিরে ফিরে আসে...

দরজা খুলে দিও শ্রীময়ী, বিকেলের সোনারোদ ঢুকতে দিও আহত হৃদয়ের প্রকোষ্ঠ গুলোতে...

ইতি,
তোমারই আমি...

মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৪

শ্রীময়ী, তোমাকে... [৭]

শ্রীময়ী,

অস্থিরতার সাতরঙা মেঘেরা জমেছিলো তোমার বুকের ভেতর। দুপুরের গনগনে সূর্য্যকে ছাপিয়ে, তারা ছায়া ফেলেছিলো তোমার চারপাশে...

এইসব ক্লান্ত বিকেল আর ঘুমচুমু সন্ধ্যার পর রাত নামে শীতার্ত শহরে...

ঘরে ফেরা পাখিদেরও সামাজিকতায় বাঁধা পড়তে হয় কখনো কখনো। অপেক্ষারা একঘেয়ে টুপটাপ শব্দময়। আর ভারী হয়ে আসা চোখের পাতায় জমা হয় বিবিধ বিষণ্ণতার ছায়া...

নীল সাদা স্ট্রাইপ চাদরে এলিয়ে পড়া চুল স্পর্শ করতে করতে করতে নানান চিন্তার ছায়া দেখি মায়াভরা মুখের মানচিত্রে। ছুঁয়ে দিতেই উবে যায় চিন্তার কালো দাগ, আর ঘুমন্ত ঠোঁটের কার্ণিশে বসে প্রশান্তির পাখিরা...

ওখানে রাত গাঢ় হতে থাকে অপ্রাপ্তির নানান আলো আঁধারী মেখে, এখানেও...

ইতি,
তোমারই আমি...

শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৪

শ্রীময়ী, তোমাকে... [৫]

শ্রীময়ী,

ক্লান্তির ঘ্রাণ পাই তোমার কণ্ঠে। টুপটাপ বিষণ্ণতা ঝরে ক্লান্তির সাথে। রোদমগ্ন দুপুর হঠাতই মেঘলা হয়ে ওঠে। ভীষণ রকম মেঘলা...

যে পুরোনো দেয়ালের ছায়া দেখে তুমি ভয় পাও, সহজেই তাকে অতিক্রম করা যায়। জানিনা, অতিক্রম করা হবে কি না...

স্মৃতির হরেক রঙ খেলা করে বিবিধ বৃত্তে। সব বৃত্ত কি ধরে রাখা যায়? নাকি ধরে রাখতে হয়???
আস্থা রাখো শ্রীময়ী, নিজের উপর আর বেছে নেওয়া পথের উপর...

ইতি,
তোমারই আমি...