বুধবার, ৬ মার্চ, ২০১৩

...

আমার ছিলো ইচ্ছে ঘুমের দেশ
আনন্দেরি ঝলমলে লাল ডানা
তোমার ছিলো ঘুমের সাথে আড়ি
অশ্রু জমাট দিঘীর জলে নামা
আনন্দ আর ঘুমের বিনিময়ে
তোমার সাথে আমার জানাশোনা

প্রহরগুলো কাটছিলো সব ভালোই
সুর্য এবং চাঁদের যুগল আলোয়
এরই মাঝে কালো মেঘের ভেলা
সেই পুরোনো অশ্রু ছোঁয়া খেলা
হারিয়ে যাওয়ার একটু খানিক আগে
সীমারেখা আঁকলে কালো দাগে

তাকিয়ে আছি তোমার পথের পানে
হঠাৎ যদি ফেরো আমার টানে
অলস সময় সিগারেটের ধোঁয়ায়
মদির হয়ে খুঁজতে থাকে তোমায়
আসবেনা আর সত্য করেই জানি
কিন্তু সেটা কেমন করে মানি

অপেক্ষা আর প্রতীক্ষাতে রাত
তোমার হাতে অন্য কারোর হাত

রবিবার, ৩ মার্চ, ২০১৩

আত্মমগ্ন কথামালা-২৫

শালার মন এত বিটক্যাল কেন?
বাল বাল বাল বাল বাল বাল বাল...
কিছুদিন আগেও যেই মুঠোফোনে সারাদিনে শ শ টেক্সট আসতো, সেই মুঠোফোন এখন নিস্তব্ধ থাকে দিনের বেশীর ভাগ সময়। ইভেন, স্বপ্রণোদিত হয়ে টেক্সট দিলেও টেক্সটের উত্তর আসে না। অস্থির লাগে, অস্থির...
নয়া ক্লায়েন্টেরে বাধামু নাকি বুঝতে পারতেসি না। প্রেম ভালোবাসা না, এখন একেবারে সোজা কয়টাসে যাইতে ইচ্ছা করতেসে...

কয়টাস... কয়টাস... কয়টাস...

নয়া ক্লায়েন্টেরে একটু ঘষামাজা করলেই কয়টাসে যাইতে পারমু বুঝতেসি। কি করবো জানি না। জানি না বস...

শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০১৩

আত্মমগ্ন কথামালা-২৪

আবার অস্থির। এই অস্থিরতা আর ভালো লাগতেছেনা। ২০১৩ এর শুরুতে ভাবছিলাম, কেউ যদি জিজ্ঞাস করে কেমন আছি? তখন আমার উত্তর হইবো জোস আছি। প্রথম প্রথম বেশ কিছুদিন এই প্রাক্টিস ভালো ভাবেই জারি রাখতে পারসিলাম। কিন্তু এখন কি হইলো? বাল... পারতেসি না কোনোমতেই নিজের সাথে মিথ্যা কইতে, কিংবা সহানুভূতি এক্সপেক্ট করতেসি হয়তো। তাই একেবারে মনের অবস্থা কেমন সেইটা বইলা ফেলতেসি।

আসসেডিম্বরে দেখলেই চড়াৎ কইরা মেজাজ চইড়া যাইতেসে। কয়েকদিন সেইটা এক্সপ্রেসও করার চেষ্টা করসি চেহারা, এটিচ্যুড দিয়া। ইদানীং ছাড়ান দিয়া দিসি জিনিসটা। কি লাভ হুদাই মেজাজ খারাপ এক্সপ্রেস কইরা? এর থিকা অভিনয় মুড অন কইরা দিসি। দারুণ হাসতেসি, হাঁটতেসি, গানে গলা মিলাইতেসি, স্লোগানে চিৎকার করতেসি... এমনকি আসসেডিম্বের সাথে কথাও কইতেসি। নিজের অভিনয় প্রতিভায় মুগ্ধতা বাড়তেসে। কিন্তু ভিতরে ভিতরে মোরব্বা কাঁচান কাঁচায়ে যাইতেসে। বুঝতেসি না কি করি। আবার লজিকাল এন্ডিং জানি বইলা এরম মোরব্বা কাঁচান হইতেছি দেইখা নিজের উপরে মেজাজ আরো খারাপ হইতেছে।

আরেক ক্লায়েন্ট পাইসি সেদিন। আবারো ব্যর্থ হইসি নাকি সফল হইসি বুঝতেসি না। দেখা যাউক কি হয়।

সেইন্টমার্টিন যাওনের কথা আছিলো। বাল ছাল... সেইটাও হইলো না। এদ্দিনের অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও আশা করসিলাম ব্যাপক। কিন্তু অভিজ্ঞতার একটা দামতো আছেই। সো এইটাও বাতিল হইয়া গেলো। জামাত শিবিরের গুষ্টিতো ঠাপাইই, এইবার আরো ডাবল ঠাপ দিতে মন চাইতেছে।

মন খারাপের সময়গুলায় কেউরে পাশে পাই না শেয়ার করতে। এইজন্যেই মদ খাইতে মন চায় সারাক্ষণ। কিন্তু...

অস্থির... অস্থির... অস্থির... কবি বন্ধু আন্দালীব এর ভাষায় বলতে হয় "অস্থি'র ভেতর অস্থিরতা"

মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

গিফট

অনেক দিন পর একটা গিফট এসেছে এই ঠিকানায়।

গোলাপী রঙের র‍্যাপিঙ পেপারে মোড়ানো একটা বাক্স।
র‍্যাপিঙ পেপারের উপরে ছোট ছোট লাল রঙের হৃদয়ের চিহ্ন
এক কোনে আবার বেশ আর্টিস্টিক ধরণের ডিজাইন করা।
প্রেরকের নাম লেখা ট্যাগটা কিছুটা ফুলের মত আকৃতির, সবুজ রঙের
প্রাপকের নাম লেখা আছে সাদা জমিনে, কালো কালিতে, আয়তাকার একটা কার্ডে।
চেনা নাম দেখে আগ্রহ বেড়ে ওঠে
বক্সটা খোলার উদগ্র একটা বাসনা জেঁকে ধরে।

ব্যাস্ত হাতে ছিঁড়ে ফেলি গোলাপী র‍্যাপিঙের আবরণ।
ভেতরে হলুদ কাগজের যে বাক্সটা
যেনো চারকোনা একটা হলুদ সূর্য,
অমোঘ আকর্ষণে ডাকছে কোনো গ্রহাণুকে।

আবার ক্ষীপ্র হাতে খুলে ফেলি হলুদ কাগজের বাক্স
উৎসুক দৃষ্টি ছুঁড়ে দেই ভিতরে।
দেখি ভাঙা কাঁচের টুকরো দিয়ে তৈরী বিছানায়
নিশ্চুপ শুয়ে আছে,
একটা হৃদয়।

কোনো এক সময় তোমাকে দেয়া আমার উপহার।

হাতুড়ে কাব্য-২ (অসামাজিক)

অশ্লীল রাতের পরিশ্রম শেষে

শ্লীলতার শয্যায় শায়িত

বেশ্যা............

প্রকাশ্য দিনের আলোতে

অপ্রকাশ্য তার মনের বেদনা।

উদয়াস্ত পরিশ্রম! তার জন্য অসাড়

বরং অস্তোদয় পরিশ্রম করে সে

কে দায়ী?

আমি?

তুমি?

না কি এই অসামাজিক সমাজ?

প্রশ্ন নিজের কাছেইকোনো উত্তর নেই।

পাবো কি উত্তর কোনো?

হয়তো না।

এভাবেই থেকে যাবে তারা

আমাদের মত বিকৃত কিছু মানুষের

বিকৃত লালসাবিকৃত ভোগ বিলাস

বিকৃত উপভোগের মাধ্যম হিসাবে।

এই আমিই,

এই তুমিই,

এই অসামাজিক সমাজই

ধর্মের ধুঁয়া তুলবো দিনে

আর রাতে রমনায় জিঙ্জাসা করবো

১০০ কেন ৫০ এ হয়না?

সময় ও অস্থিরতার শব্দ

বিষণ্ণ কবিয়াল
আয়নাগ্রন্থে লিখে চলে অস্থিরতার গান।

মেঘের ছায়া পড়ে
দ্রোহের প্রতিবিম্ব তীব্র গতিতে ছুটে যায়
আঙ্গুলের তেলতেলে রেখারা জমে পাতায় পাতায়
ঘেমে ওঠা হাতের স্পর্শ জেগে থাকে ফুটনোটে এবং মার্জিনের এখানে সেখানে।


অবসন্ন কবি
বই পোড়া ছাইয়ের মাঝে খুঁজে পায় রক্তের দাগ
অশ্রুর ছাপ
অস্থিরতার শব্দ বাঁধা পড়ে দোতারার তারে
জনতার পদশব্দে।

চন্দ্রাহত তরুণ
মাতাল জোছনায় ফিরে ফিরে চায় আকাশে
যেখানে রিক্ত পাতা আর শাখারা ঘিরে রাখে সুগোল যুবতী চাঁদ
নগরের সুউচ্চ অট্টালিকার দল জেলখানা হয়ে জানালায় চোখ রাখে।

আয়নায় প্রতিধ্বনিত হয় সময় ও অস্থিরতার শব্দাবলী...

সোমবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩



কি আর এমন ক্ষতি যদি আমি চোখে চোখ রাখি
পদাবলী প’ড়ে থাক সাতাশে জুলাই বহুদূর
এখন দুপুর দ্যাখো দোতালায় পড়ে আছে একা
চলো না সেখানে যাই। করিডোরে আজ খুব হাওয়া
বুড়ো বটে দু’টো দশে উড়ে এল ক’টা পাতিকাক।

স্নান কি করনি আজ? চুল তাই মৃদু এলোমেলো
খেয়েছ ত? ক্লাশ ছিল সকাল ন’টায়?
কিছুই লাগে না ভালো; পাজামা প্রচুর ধুলো ভরা
জামাটায় ভাঁজ নেই পাঁচদিন আজ
তুমি কি একটু এসে মৃদু হেসে তাকাবে সহজে
বলনি ত কাল রাতে চাঁদ ছিল দোতালার টবে
নিরিবিলি ক’টা ফুলে তুমি ছিলে একা।

সেদিন সকালে আমি, গায়ে ছিল ভাঁজভাঙা জামা
দাঁড়িয়ে ছিলাম পথে হাতে ছিল নতুন কবিতা
হেঁটে গেলে দ্রুত পায়ে তাকালে না তুমি
কাজ ছিল নাকি খুব? বুঝি তাই হবে।

ওদিক তাকাও দ্যাখো কলরব নেই করিডোরে
সেমিনার ফাঁকা হল হেডস্যার হেঁটে গেল অই।
না – না – যেও না তুমি চোখে আর তাকাব না আমি
বসে থাকি শুধু এই; এইটুকু দূরে বই নিয়ে
এ টেবিলে আমি আর ও টেবিলে তুমি নতমুখী।