শুক্রবার, ৫ জুলাই, ২০১৩

মুক্তগদ্যঃ বিস্মৃত যুবকের এলোমেলো স্মৃতি, এলোমেলো দাগ

খাতা খুলে লিখে রাখি দাগ, বিফল সন্ধ্যার আঁধার, বিপর্যস্ত বিকেল আর দুপুরের মেঘদল। রিকশার টুনটুন শব্দে বৃষ্টি নেমে আসে মসৃণ হাতিরঝিলে। রাস্তা ও এলোমেলো ব্রীজের রেলিংয়ে। প্রিজম কেটে বেরিয়ে আসা রঙধনু দেখে যুবকেরও শখ হয় মাতাল হবার। পায়ে পায়ে হেঁটে যায় শুঁড়িখানার পথ ধরে, সোডিয়াম সোনালী আলোয় দেখে রঙ মাখা নাগরিক সেলিব্রিটি।
সেই বিকেলগুলো কেনো জানি রয়েই যায়। ঘরের কোনে জমে থাকা ধুলোয়, সেলাই খুলে যাওয়া জুতোর আরামে। সময়! আহা সময়!! কে বলে তুমি অনবদ্য চিকিৎসক? তোমার হেরে যাওয়া দেখতে দেখতে মাতাল যুবকের চোখের কোনে অশ্রু জমে। ধোঁয়ায় মাখিয়ে উড়িয়ে দিই বিবর্ণ সময়ের গল্প।
পথে পথে সরোদের সুর। ব্যস্ততম সকালের রোদ নিমেষে বদলে যায় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে। ছাতা হাতে কাউকে দেখে যুবকের হৃদয় কাঁপে। মিলিয়ে ফেলে ওড়না ও জামার রঙের বিভ্রমে। ইচ্ছে করে নেমে যাই, কথা বলি, হেঁটে চলি পাশাপাশি। ব্যস্ততার ডামাডোলে হারিয়ে যায় সরোদের সুর। বুকপকেটে কিংবা ব্যাকপকেটে জমা হতে থাকে বিষাদের ধুসর পাখি।
পার্কে বসে থাকা যুবকের চোখ পড়ে থাকে লাল ইটের ব্র্যাকেটে চলে যাওয়া আঁকাবাঁকা কংক্রিটের পথে। চা'এর কাপে চুমুক গুলো পথ ভুলে যায়, শীতল থেকে শীতলতর হয়ে যায় কাপ ছেড়ে উড়ে যাওয়া ধোঁয়ারা। কংক্রিট পথে হেঁটে যাওয়া পা দেখতে দেখতে ছায়াছবির চরিত্র জীবন্ত হয়। ভুলে যাই কিংবা মনে করি সেলুলয়েডের ছবি।
দু'টো স্বপ্নের মধ্যে যেই দূরত্ব, তাকে ভুলে থাকা হয়না যুবকের। একের পর এক স্বপ্নগুলোর দূরত্ব বাড়ে। যুবক ডুবে যায় সোনালী পাখির গান আর সবুজ ফুলের ধোঁয়ায়। দেয়ালে দেয়ালে ছায়াদের আনাগোনা বাড়ে। মানুষগুলো ঝাপসা হতে থাকে দিনের পর দিন। ভুলে যেতে থাকি সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা, রাত আর ভোরের পার্থক্য...

বুধবার, ২২ মে, ২০১৩

স্ক্রিবলস- ২২৫১৩

যৎসামান্য সন্ধ্যা গুলো ফুরিয়ে গেলে
মুঠোফোনে স্তব্ধতা বড় বেশী কানে বাজে।
ফেলে আসা সময়ের চিরকুট
হানা দেয় রাতের তরল আঁধারে
এবং দিনের দগ্ধ তাপপ্রবাহে...

রবিবার, ১৯ মে, ২০১৩

স্ক্রিবলস- ১৬৫১৩ এবং ১৯৫১৩


পাখি উড়ে গেলে; পাতারা বিষণ্ণ হয়ে যায়
জোনাকীর মত। মেঘের দেয়ালে আঁকে জলের জানালা।
স্মৃতিভ্রষ্ট রাতের আকাশে আকাশে ফোটে লক্ষ কোটি অপরাজিতার নীল...


~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

গহীন রাতের বুকে শহর জেগে ওঠে,
বেদনার সবটুকু নীল নিয়ে জেগে থাকে কিছু
জানালার কাঁচ।
অচেনা বাগানে ভাসা কামীনীর ঘ্রাণে,
দুধাশাদা বুকে, 
হামাগুড়ি দিয়ে আসে শঙ্খচুড় সাপ...

রবিবার, ১২ মে, ২০১৩

স্ক্রিবলস- ১২৫১৩

প্রিয় বৃষ্টির ফোঁটারা
ঝরে যেওনা মেঘের কার্ণিশ থেকে
মেঘেদের ভালবাসা নিয়ে ঘর বাঁধো কালো আকাশের বুকে

বৃহস্পতিবার, ৯ মে, ২০১৩

স্ক্রিবলস- ৯৫১৩

আমাদের মেঘলা সকাল আর বৃষ্টিভেজা দুপুর গুলোর ছবি
আঁকা থাকুক রাজপথে, রিকশার চাকায় চাকায়।
 

আমাদের ঘুম ঘুম ঠোঁট আর চকিত চুমুর ঘ্রাণ
উড়ে যাক মেঘদলের খেয়ালী চলার পথে।
 

আমাদের কাঁপা কাঁপা আঙুলের স্পর্শ আর স্মৃতির খড়কুটো
পুড়ে যাক কালবোশেখীর উদ্দাম বজ্রপাতে।
 

বেঁচে থাক শুধু সময় আর সময়ের গান
অসময়ের খেয়ালী ধারাপাতে...

বুধবার, ১ মে, ২০১৩

পলেস্তারায় জমে থাকা নাকফুলের শোকগাথা...



ভাঙাচোরা টিফিন ক্যারিয়ার,
মানুষ,
চোখের জল
সবাই মিলেছে এক মোহনায়...

প্রেয়সীর বুকে মাথা রেখে
নিশ্চিত নিশ্চিন্ত মৃত্যুর ভয়াবহতা
কিংবা
নুপুর পড়া একটা পায়ের আহাজারী...

দানবের দল
পাঁচতারা হোটেলে লিখে রাখে নিহতের তালিকা
এবং ক্ষতিপূরণ।

আর
খসে পড়া বিবিধ পলেস্তারায় জমে থাকে নাকফুলের শোকগাথা।


______________________________________________________________
উৎসর্গঃ- সাভারে রানা প্লাজা ধ্বসে আহত, নিহত এবং নিখোঁজ সকল ভাইবোন।

মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৩

ন'টা সতেরোর বাসে

একটা ভীড় ভীড়  সকাল ছড়িয়ে ছিলো সারাটা বাস জুড়ে।

দেরী হয়ে যাচ্ছে বলে হালকা খিটিমিটি, 
দু' টাকার পত্রিকায় পাতা ওল্টানোর খসখস,
পায়ে পাড়া পড়ায় বিরক্তি,
সবকিছুই ছিলো ঠিকঠাক, 
অন্য দিনের মতোই।
 
আলতোভাবে চোখে লেগে থাকা ঘুমের গন্ধটাও যাবো যাবো করছিলো।
 
তুমি নেমে গেলে বাস থেকে,
একটানে সবটা সকাল কেড়ে নিয়ে ভীড় থেকে 
ন'টা সতেরোর বাসে
অকাল দুপুর ছুটে এলো হুড়মুড়,
হঠাৎই বড় বেশী রোবটিক সবকিছু।

এক স্টপেজ পরেই নামতে হবে প্রতিদিনের অফিস

শুধু ন'টা সতেরোর বাস, 
একটা সকালকে আলাদা করে দিলো অনেকগুলো বছর থেকে...