রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৪

শ্রীময়ী, তোমাকে...

শ্রীময়ী,
পত্রের শুরুতে হৃদয় নিঃসৃত ভালোবাসা জেনো। পর সমাচার এই যে, অকাল বর্ষা নেমেছে আমার শহরে এবং মনে। তুমি কি শুনেছো সেই বৃষ্টির শব্দ, চৈতালি বাতাস কি বৃষ্টির ঘ্রাণ বয়ে নিয়েছে তোমার ঘরে?

জানো, সেই কৃষ্ণচুড়া গাছটায় এবার আর নতুন পাতা আসেনি। কসমস ফুলগুলি মরে যাবার পর, নতুন কোনো বুনোফুলও ফোটেনি আমাদের সহজিয়া বাগানে।

অপুদের বিদেশী কুকুরটা খুব বেশী বুড়ো হয়ে গেছে আজকাল, সাদা পশমগুলোয় কেমন যেনো তামাটে আভা। চোখেও দেখেনা ভালোমত। শুধু আমি কাছে গেলে ভুকভুক করে কেমন জানি দুঃখের ডাক ডাকে।

বহ্নিশিখার কথা মনে আছে তো? ওদের বাগানে এখন নয়তলা বিল্ডিং। পুরোনো যেই লিচু গাছটায় আমরা দোলনা টাঙাতাম ফি বছর, সেটাও কাটা হয়ে গেছে অনেকদিন হ'লো। হয়তো কারো বাসায় দরজা হয়ে রয়ে গেছে স্মৃতিচিহ্ন কিংবা কারো চুলোয় অঙার।

শ্রীময়ী, তুমি মরে গিয়ে বেঁচে গেছো। আমি বেঁচে থেকে মরে যাই প্রতিদিন। প্রতিটা স্মৃতি আমায় কুঁড়ে কুঁড়ে খায় অষ্টপ্রহর।

হয়তো দেখা হবে মরে গিয়ে বেঁচে উঠবার পর, ততদিন ভালো থেকো শ্রীময়ী...

ইতি,
তোমারই আমি

শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

তিন টুকরো...

*
শহরের রাস্তায় প্যারেডে ব্যস্ত ঘোরগ্রস্ত মেঘের দল...

*
মেঘের আড়াল নিয়ে চলে ফিরে বেড়াচ্ছে সবাই। আঁকছে শীতল ছবি, ফোনে কিংবা মনের ক্যানভাসে। যে যার নিজস্বঃতায় বুঁদ। এরিমধ্যে টুপটাপ সময় ঝরে যাচ্ছে ঘড়ি থেকে। হঠাৎ জানালা দিয়ে হুড়মুড় বাতাসের সাথে উড়ে এলো স্মৃতির ধুলো। কেউ হলো স্মৃতিকাতর আর কেউ অসহ্য নির্লিপ্ততায় ঝেড়ে ফেলে নিলো ধুলোর পরত...

*
একটা রোদেলা সকাল ছিলো জানালায়। কিছু জালিকাটা আলো ছিলো মেঝেতে ছড়ানো। কেন, কে জানে... আলোরা ছিটকে সরে গেলো বৃষ্টি বিষাদে। সারাদিন টিপটিপ, ঝিরঝির... বিকেলও বিষণ্ণ হলো ভেজা শরীর নিয়ে। সন্ধ্যা নামলো রঙীন ছাতা মাথায়। রাতের রাস্তা নদী হলো লাল-নীল-সবুজ-হলুদ আলোর প্রতিফলনে...


রবিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৪

স্ক্রিবলস...

২৫০৯১৩
সাদাকালো আকাশের অশ্রু মেখে বিষণ্ণ হয় কাশদল...

২৭০৯১৩
বৃষ্টি থেমে এলে স্থবির নগর
কাদা মাখা পথে বিহ্বল ইঁদুরের পাল...

২৮০৯১৩
ফুলার রোডে সন্ধ্যা নামে...
রঙীন অন্ধকার...
চোখের কোনের অশ্রু আর এলোমেলো কথামালা
বার বার হারিয়ে যেতে থাকে রিকশার ঘন্টায়...
তুই...
ভালো থাকিস রঙীন অন্ধকার রাতে
ঘুমন্ত বালিশের আদরে...


০৪১০১৩
শহর ভরা মেঘের গুঁড়ো,
আকাশ ভরা মেঘ
দুপুর জুড়ে সাঁঝের মায়া,
অবাক দিনের শেষ..


০৯১০১৩
ভুলে যাবার চেষ্টা আসলে তোমারই স্মৃতিচারণ..

১২১০১৩
অনিবার্য সকাল হেঁটে আসে,
মৃদুপায়ে;
আধা জোছনার নাগরিক পথ ধরে...


১৯১০১৩
রাত কিভাবে কালো হয়?

২০১০১৩
পাঁচিল ভাবলেই তোমার চোখ।
মেলে ধরা হাতের পাতায় লালচে আলো।
এসফল্ট, কালো ধোঁয়া আর ধুলো ওড়া বাতাসের পটভুমিতে দৃঢ় সংবদ্ধ চিবুক।

পাঁচিল ভাবলেই পায়ে দলে যাওয়া রোদ।
ড্রেনে পড়ে থাকা শুকনো পাতা।
ওভারব্রীজের জলাকীর্ণ সিঁড়িতে খানিকটা চাঁদ।

পাঁচিল ভাবলেই আমার অস্থিরতা এবং ভুল।


২৩১০১৩
দেয়ালে দেয়ালে ছায়া দিয়ে আঁকা গল্পগুলো সব পাখি হয়ে যায় কৃষ্ণপক্ষের রাতে...

২৪১০১৩
বিচ্ছিন্ন ফুলের দল ছায়া ফেলে চোখ, মন এবং আরোপিত সহজিয়া আচরণ
স্তিমিত আলো হঠাৎ ঝালর দোলায় স্মৃতির পথে পথে...


২৭১০১৩
বলছিলাম হ্যালুসিনেসনের কথা। যেখানে পাখা বদলে নিতে উইপোকারা আসে সিঁড়িঘরের আলো আঁধারে...

০৪১১১৩
দিনদিন ইউনিকর্ন হয়ে উঠি মানুষ ভরা শহরে...

১১১১১৩
আধা চাঁদের জোছনা আর নারকোল পাতায় মর্মর
ভুলিয়ে দেয় সব স্মৃতি।
আকাশের রঙ খসে পড়ে অবিন্যস্ত ভাবনায়।
তুমি তুমি বলে চিৎকার করে ওঠে সমগ্র চরাচর।
আসো।
পাশে বসো বিষণ্ণ চোখ।
দ্রৌপদী জন্ম শেষে,
আমার আলিঙ্গনে পূর্ণ চাঁদ হয়ে ওঠো প্রাগৈতিহাসিক সময়ের মেঘ...


১৩১১১৩
আমার শহরে শীতার্ত জোছনা নামে হলদে পাতার টানে। ভীড়ের ফুটপাথে ডানা মুড়ে বসে থাকে মীথ। কুকুরের দল বারবার ছুঁয়ে যায় স্বর্গভ্রষ্ট কন্যার শরীর। হাসির মুখোশে লুকানো তিরতিরে অশ্রুবিন্দু চমকায় মাঝে মাঝে...

১৬১১১৩
ভেবেছিলাম, বিকেলের রোদ খেলবে মৃদু নীল শাড়িতে
ভেবেছিলাম, আলতো কাজল থাকবে চোখের কার্ণিশে
ভেবেছিলাম, রক্তাভ টিপে সাজবে কপালের জমিন
ভেবেছিলাম, নাকফুলে ঝলকাবে দুরন্ত হাসি
ভেবেছিলাম, বাতাসে ভাসবে ভায়োলিন আর বাঁশির যুগলবন্দী
ভেবেছিলাম, আকাশে থাকবে চতুর্দশী চাঁদ
ভেবেছিলাম...


২৭১১১৩
সময় চলে যায় না, আমরাই বরং সময়কে ফেলে চলে যাই না ফেরার পথে...

২৭১১১৩
আমার দু'হাতে রেশম কোমল বাতাস ধরেছি
আমার দু'চোখে জলের স্পর্শ পেয়েছি
আমি জানি কতটা কষ্ট পেলে হৃদয় ভেঙেচুড়ে যায়
আমি জানিনা কোথায় গেলে সুখ পাওয়া যায়...


০৯১২১৩
hostile
_______
সময়ের সাথে সাথে হস্টাইল হয়ে উঠি
কারণ,
শহরে বিবিধ হস্টিলিটি নড়েচড়ে বেড়ায়
নড়েচড়ে বেড়ায় একাধিক দু'মুখো সাপ...


১৬১২১৩
কাছে আসতে পাশে বসতে হয়না...

২২১২১৩
ঘিরে থাকা কুয়াশারা অস্থির হ'লে;
বৃষ্টি নামে পৌষী কৃষ্ণপক্ষের রাতে।
আমাদের ওম ভরা লেপের দল গ্ল্যামার হারায়।
নির্ঘুম অন্ধকার সাড়া দেয় দেয়ালঘড়ির ছন্দে।
আর সময় হেঁটে চলে শ্লথ পায়ে,
বিষণ্ণ ভোরের গান গেয়ে...

শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৩

ইউনিকর্নের একটি দিন

নির্লিপ্ত রাতের আঁধার খসে পড়ে সবুজের কোলে
দিনদিন ইউনিকর্ণ হয়ে উঠি মানুষ ভরা শহরে
আতরদানে বিচ্ছিন্ন লাল আলোর সকাল খেলা করে
সুঘ্রান কমে আসে ব্যবহৃত রুমালের ভাঁজ থেকে।

সেই গল্পগুলো নাহয় অন্য দিনের জন্যে তোলা থাক
আজ নাহয় লেখা হোক সেই সব ছবি,
যেখানে রহস্যময় দেওয়ালের মুখ গান গেয়ে ওঠে ভীষণ আনন্দে
আধো আধো বোলে পাখিরা তুলে আনে যৎকিঞ্চিত কাঁচপোকা।

দুপুরের রোদ হানা দেয় উদাস করিডরে
মায়ঘেরা ছায়াবৃক্ষের পাতার লুকোচুরিতে
আমরা ভুলে যাই সময়ের আঙিনা
বিকেল নামে অদৃশ্য সাইবেরিয়ার প্রান্তরে প্রান্তরে...

রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

স্ক্রিবলস...

২০০৮১৩

ঈর্ষাকাতর রাতের শুরুতে জোৎস্না ধোয়া কংক্রিট ...

২৩০৮১৩
 
একটুকরো রোদ লটকে আছে দেয়ালের গায়ে
হ্যাংলার মতো।
ধুলোবালি ঘোমটা দেয়া জানালায়
এককুড়ি বিষণ্ণ বিকেল; অপেক্ষায়,
অস্তিত্ব অথবা স্বীকৃতির...


০৪০৯১৩

ইচ্ছে মৃত্যুর বিকেলে, ঝরঝর বৃষ্টি নামে তাসের শহরে
হরতনের রানী, ভেজে অন্য কোথাও, অন্য কোনোখানে।
চিড়িতনের দুকড়া হেঁটে চলে জল ভেঙে,
অবিন্যস্ত পদক্ষেপে, অজানায়...


০৬০৯১৩ 


অমৃত হোক কিংবা গরল
বিনামূল্যে কোনোটাই মেলেনা এখানে।
গরল তবু কিছুটা স্বল্পমূল্য...


080913 


the voice asked "so, you want to go closer?"
"yes", he answered frantically.
the voice murmured "die... you young fool, embrace death to enjoy life..."


080913 (2)

how far can you run away from the droplets of rain!!!

০৯০৯১৩ 

আত্মহত্যাপ্রবন সকালে বৃষ্টি নামেনা, পৃথিবীর সকল পাখিগুলো চুপ করে রয় অজানা আশংকায়। শুধু ধ্যানী ছয়তালা বিল্ডিংগুলো ডেকে যায়, আয়... আয়...

১৪০৯১৩ 


চিলেকোঠায় ছড়ানো
টুকরো টুকরো সোনাগুড়া বিকেল
ভাতঘুমের আলস্যমাখা দেয়ালঘড়ি
আর নস্টালজিয়া

জ্বরতপ্ত কপালে আঁকা প্রেমময় হাতের ছোঁয়া
খসখসে ঠোঁটে, কোমল চকিত চুমুর স্বাদ
বারবার ফিরিয়ে দেয় ঘোলাটে শূন্যতার দিকেই...


১৪০৯১৩ (২)


ল্যাবিরিন্থের দেয়াল গুলো চেপে আসে নিরন্তর
আলো সরে সরে যায় নাগালের বাইরে,
বিবিধ নৌকাডুবিতে,
বেঁচে থাকার ইচ্ছে গুলোও মরে যেতে থাকে নিয়মিত বিরতিতে...


২২০৯১৩ 


মেঘের লোকাল বাসে বিকেল এসেছিলো আজ
এই শহরে।
গাঢ়তম সন্ধ্যায়,
ভেজা এসফল্টে প্রতিবিম্বিত আলোকসজ্জার নদীতে
ভেসে গিয়েছে অনেকগুলো সময়
রয়ে গিয়েছে অবিন্যস্ত কিছু স্মৃতির ছাইভষ্ম...



বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৩

স্ক্রিবলস ২৯৮১৩

মৃত চাঁদের রাতগুলো বড় দীর্ঘ হয়
একটা একটা করে তারা নিভে যায় রাতের ঝাড়বাতি থেকে
জলজ মেঘের দল ইতিউতি ঘোরে।

শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৩

ঘোর

স্পর্শঘোর...
তোমাকে কখনো শাড়িতে দেখিনি আমি, শুধু ছবি ছাড়া। কতোবার ভেবেছি বলব একদিন শাড়ি পরতে, বুকের দুরুদুরু ছন্দ ছাপিয়ে ঠোঁট পর্যন্ত পৌঁছুতে পারেনি শব্দ গুলো। একদিন আসইনা ... পেয়াজখসী আঁচল জড়ানো তোমাকে দেখি প্রাণ ভরে। হয়তো সেদিন ভুলকরে ছুঁয়ে দেবো তোমার হাত কিংবা শাড়ির আঁচল। স্পর্শঘোর জমা হবে স্মৃতির একান্ত সিন্দুকে...

শব্দঘোর...
তোমার আঁচলে আঁকা স্পর্শঘোর ছবি হয়ে গেলে, বসে থাকি নীরবে। ছবিটায় শব্দ ছোঁয়ালেই হয়ে উঠবে কবিতা, আর তুমি কবিতাটা একবার পড়লেই হয়ে যাবে গান। কিছু কিছু গান, কেন জানি বসে যায় বুকের ভেতর। রোদ গলে পড়া দুপুরে সেই গান শুনলেই বৃষ্টি নামে মনের নিকোনো উঠোনে। ঝিলিমিলি সেই উঠোনে তোমার উচ্চারিত শব্দগুলো বৃষ্টি হয়ে ঝরে। শব্দঘোরে ডুবে যায় চরাচর...

সময়ঘোর...
শব্দ ঘোরের বৃষ্টি সময়ের দেয়ালে আঁকিবুঁকি কাটে। উচ্ছল হয়ে রঙধনুর পিচকারী নিয়ে আকাশে উড়ে বেড়ায় রঙীন পাখির ঝাঁক। কিচিরমিচির গানগুলো একে একে রিকশার টুনটুন ঘন্টায় নেচে নেচে বেড়ায়। তোমার চোখে ছায়া পড়ে, তোমার চোখে আলো জ্বলে, তোমার নাকফুলে ঠিকরে যায় ঘন্টা মিনিট সেকেন্ড।  আমি সেইসব আলোছায়া সময়ঘোর নিয়ে হেটে যাই মজে ওঠা সরকারি খালের কিনার ধরে, নির্বিকার...

ভ্রান্তিঘোর...
সময়ঘোরের পথ বেয়ে সকাল আড়মোড়া ভাঙে। দেয়ালে লেগে থাকা সাময়িক শ্যাওলার খবর জানা হয় তোমার, জানা হয় আমারও। দুএক টুকরো ভ্রান্তিধুসর মেঘ জড়ো হয় সীমাহারা আকাশের আনাচে কানাচে। রঙধনু রঙ চাপা পড়তে থাকে  ভ্রান্তিঘোরের বিকেলে...

প্রতীক্ষা ঘোর
নগরের ভ্রান্তিঘোর ভরা সন্ধ্যাগুলো ফ্লাইওভার থেকে ফেরার পথে গাঢ় হয়ে উঠতে থাকে। বুকের ভেতরের দগদগে ক্ষত ঢাকতেই ঘুরে ফিরি বিবিধ শুড়িখানায়। নিজেকে লুকিয়ে ফেলতে চাই অন্য ধরনের ঘোরের ভিতরে। গ্লাসের পর গ্লাস নি:শেষ করি। কোনো নিদানে পাই না। সকাল দুপুর বিকাল সন্ধ্যা রাত ভোর... সারাসময় জুড়েই ডুবে থাকি তোমায় ভেবে... স্পর্শঘোরে... শব্দঘোরে... সময়ঘোরে... ভ্রান্তিঘোরে এবং সর্বোপরি প্রতীক্ষাঘোরে...

তুমি কি আমার ঘোর গুলোর দিকে তাকাবে তোমার মায়াবী চোখ দুটো তুলে? বুঝবে কি আমার ভালোবাসায় ঘোরগ্রস্ত হবার সুর...