শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০১৫

পুনঃশ্চ, শ্রীময়ী... [৩]

প্রিয়তম শ্রীময়ী,

মানুষ কিভাবে বদলায়, তাইনা! কি দ্রুততার সাথে বদলে যায়...


উপেক্ষা জিনিসটা কষ্টের। দুই তরফেই। যাকে উপেক্ষা করা হচ্ছে আর যে উপেক্ষা করছে দু'জনেই ক্লিষ্ট হয়ে থাকে উপেক্ষার ভারে...

আসল সত্যটা কি তেমনই, যেমনটা সেদিন বলেছিলে? সেদিনের পর থেকেই যে তোমাকে বদলে যেতে দেখলাম...

অপ্রয়োজনে কথা বললে তোমার সাথে, তুমি কি খুব বেশী বিরক্ত হও? ভাবো, আঙুল গোনা কটা দিন আগেই অপ্রয়োজনে কত কত কথা বলতাম আমরা দু'জন। সবই অতীতের গল্প মনে হয়...

কিছুমাস আগে তুমি কাগজে লিখে দিয়েছিলে "ওয়ান ডে ইউ'ল গেট লস্ট"। হিডেন মেসেজটা কি এমন ছিলো? "ওয়ান ডে আই'ল আস্ক ইউ টু গেট আউট অফ মাই লাইফ অ্যান্ড ইউ'ল গেট লস্ট ফর এভার"...

ভালো থাকো শ্রীময়ী, সারাজীবন। অনেক বেশী ভালো থেকো প্রাচুর্যের খাঁচায় বসে...

...অসীম প্রাচুর্য ঘিরে রাখুক তোমাকে সারাটা জীবন। আমার মতো ওয়ার্থলেস মানুষের সাথে এতদিন ছিলে, এটাই আমার অনেক বড় পাওয়া... 

ইতি,
তোমারই আমি...

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০১৫

শ্রীময়ী, তোমাকে... [১৫]


প্রিয়তম শ্রীময়ী,

কেমন আছো তুমি? কতদিন লিখিনা তোমায়! উঁহু, ভুলেও ভেবোনা যে ভুলে গিয়েছি। তোমাকে ভুলে যাওয়া মানেতো নিজেকেই ভুলে যাওয়া...

সময়ের মোর্স কোডে আটকে যাওয়া সময়টাকে নিয়ে হেঁটে চলি দুজনেই। ডট ড্যাশ ডট ডট ড্যাশ ড্যাশ ড্যাশ ডট ডট ডট ড্যাশ ডট...

তুমি ওপারে দাঁড়িয়ে বুঝেও না বোঝার ভাণে, এঁকে রাখো দুর্বোধ্য গ্রাফিতি। আমি এপারে অনুবাদ করি হায়ারোগ্লিফ...

জানো শ্রীময়ী, তুমি পাশে আছো জেনে চোখ বুঁজে পাড়ি দিই অনিশ্চয়তার হিমালয়। নিশ্চিত জানি পেরোতে পারবোনা, তবুও...

উপেক্ষার আলিঙ্গনে জোছনারা মরে যেতে থাকে নৈমিত্তিক রাতের প্রহরে। আবার সকাল হলেই পূর্ণ চাঁদের আসা যাওয়া...

পাখিমাত্রই অভিমানি...

আস্থা রেখো শ্রীময়ী, আমাদের যুক্তিহীন স্বপ্নের উপর। স্বপ্নেরা সত্যি হয় ওঠে আস্থার আবরণে...

ইতি,
তোমারই আমি...

শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

শ্রীময়ী, তোমাকে... [১৪]

প্রিয়তম শ্রীময়ী,

তোমাকে শেষ লিখেছিলাম অনেকদিন হয়ে গেলো। কেমন আছো তুমি? আমি বিষাদাচ্ছন্ন হয়ে থাকি আজও...

কাল বসন্তের প্রথম সূর্য উঠেছিলো এই নগরে। নিজের বাসন্তী রঙে সাজিয়ে দিয়েছিলো এই নাগরিক জঙ্গলটাকে। তুমিও বাসন্তী সেজেছিলে। শুধু, আলফেসানীটা সারাদিন নিজের ঘরের কোনায় মুখ গুজে পড়েছিলো। অবাস্তব জানালায় চোখ রেখে খুঁজে ফিরেছিলো বাস্তব উৎসবের ছোঁয়া...

জানো? মাঝে মাঝে মনেহয়, অন্য কোনো সময়ে; অন্য কোনো বাস্তবতায় তোমার সাথে যদি দেখা হ'তো, তাহলে কেমন হ'তো আমাদের পথটা? আবার মনেহয়, এই ই ভালো...

এই দ্বিধা-মেঘ-স্মৃতি-রোদ... এই না পাবার ব্যাথা কিংবা না পেয়েই হারাবার ভয়, এই ই আমার ভবিতব্য...

তোমার হাসিমাখা মুখে যেই রোদ ঝলমলিয়ে ওঠে, তার জন্য পথে পথে মুখ থুবড়ে পড়েও ছুটে আসি। কখনও হাসির বদলে একঝাঁক ধারালো ছুরি জমে হৃদপিন্ডের নিলয়ে-অলিন্দে। ভালোবাসি। তাই ঘরে ফেরার পথেই ছুরিগুলো এক এক করে বের করে আনি, ছুঁড়ে ফেলে দিই অচেনা অন্ধকারে...

আমার কষ্টে তুমিও আঘাত পাও চাইনা কখনই। তবুও, অজান্তেই, হয়তো কখনো আহত করে ফেলি তোমায়। জানো নিশ্চয়, তাতে আমারই ক্ষত বেড়ে চলে অহর্নিশ। ক্ষমা চাইনা, তোমার স্মৃতিতে কষ্ট জমা হবে, তাই...

আজ, খুব ভেবেছিলাম তোমার সাথে কথা বলবো রাতভর। তুমি ডুব দিলে। হয়তো স্মৃতিসমুদ্দুর ডেকেছিলো খুব হাতছানি দিয়ে। হয়তো ক্লান্ত ছিলে সারাদিন পরিশ্রম শেষে। আমিও চাইনি তোমার জেগে ওঠা ক্ষততে চুমু দিতে। জানি হিতে বিপরীত হতো, তাই। আমার নিয়তিই যে এমন...

পৃথিবীর কঠিনতম কাজটা হচ্ছে অতীত ভুলে থাকা, শ্রীময়ী। অস্বীকার করবোনা, কষ্ট পাই অনেক। তবু তুমি ভালো থাকবে জেনে, হৃদয়ের ক্ষতগুলো আশার রঙীন সুঁই-সুতোয় মেরামত করতে বসি...

দু'বাহু ছড়িয়ে রেখেছি শ্রীময়ী, তুমি এলেই জড়িয়ে নেবো ভালোবাসার বৃষ্টিতে...

ইতি,
তোমারই আমি...

শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৫

গ্রাফিতি কিংবা জীবন...

হলদে পেঁচার কথাঃ-
শুটকো পটকা হলদে পেঁচাটা কিভাবে এখানে চলে এলো তা অন্য কেউ কেনো, পেঁচাটা নিজেই জানেনা। তারপরেও, এসেই যখন পড়েছে, চোখ বড় গোল বড় গোল করে তাকিয়ে থাকতেতো অসুবিধা নেই। অবশ্য চোখ চারকোনা করে তাকাবার উপায়ও নেই। যাক, পেঁচাটা চোখ গোল করেই তাকিয়ে থাকুক আর ভাবতে থাকুক রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষগুলোকে নিয়ে...

রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া দু'জন মানুষের কথাঃ-
ফিলসফি, জীবন, ক্রাইসিস। কথা বলার বিষয়গুলো ছিলো এরকমই। তবে সবচে মজার ব্যাপার হলো দু'জনের মাথার ভেতরে বসে ছিলো আরো দু'জন এবং সেই মাথার ভেতর বসে থাকা দু'জনের অন্তত একজনের মাথার ভিতর বসে ছিলো অন্য আরেকজন আর রাস্তা দিয়ে হাঁটতে থাকা একজন..

পার্পল পেঁচার কথাঃ-. 
পার্পল পেঁচাটার স্বাস্থ্য একটু ভালো, তবে সেটা নিয়ে পেঁচাটার কোন মাথা ব্যথা নেই। একটু দুঃখবোধ অবশ্য ছিলো তাদের নীল ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে। যদিও সেটা আপাতত তার খেয়ালে নেই, সে তার চোখগুলো ছোট গোল ছোট গোল করে মনোযোগ দিয়ে শুনছিলো রাস্তায় হেঁটে যাওয়া মানুষগুলোর কথা... 

রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া দু'জন মানুষের কাছে থাকা জিনিসপত্রের কথাঃ-
ওইযে একটু আগে যেই বিষয়গুলো নিয়ে দু'জন মানুষ কথা বলছিলো, তার সাথে সাথে কিছু সাহিত্য বিষয়ক কথা বার্তাও যোগ হয়েছিলো ততক্ষণে। যদিও চেক শার্ট গায়ে মানুষটার ব্যাগের ভিতরে যেই ওরিগ্যামি স্টার আর লিলিটা ছিলো তারা মানুষগুলোর এত আলোচনায় মন না দিয়ে ফ্রয়েডের বইয়ে লেখা বিষয়গুলোর সাথে নিজেদের ভাঁজের রসায়ন খোঁজায় ব্যাস্ত ছিলো। ওদিকে জিনসের জ্যাকেট গায়ে মানুষটার পকেটে থাকা মুঠোফোনটা ভাবছিলো এই মুহুর্তে দুইটা এপ এর ইন্টার‍্যাকশন কিভাবে করা যায় আর নিজের সফটওয়্যারটার একটা গতি করার ব্যাপারে... 



 

রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০১৫

শ্রীময়ী, তোমাকে... [১৩]

প্রিয় শ্রীময়ী,

দু'টো সাদা গোলাপের দিন ছিলো আজ...

সারাদিনের হঠাত গ্রীষ্মও ভুলিয়ে রেখেছিলো সকালের সেই ঠোঁট চাপা হাসিটা...

বারবার ছুটে আসি কেন, তুমি তা জানো। সেজন্যেই কি এতো বিরক্তির আবরণ? ভ্রুকুটিতেও যে রক্তক্ষরণ হয়,তা কি জানা আছে তোমার???

পথ জুড়ে বিবিধ আঁধার ছড়িয়েছিলো আজ। তাই বুঝি আকাশের চোখ বেয়েও নেমেছিলো অশ্রু। যতক্ষণ তুমি পথিক, অনেক কষ্টে লুকিয়ে রেখেছিলো। যেই তুমি গৃহী হলে, সেই অশ্রু, ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হয়ে ঝরতে থাকলো শহরময়...

তুমি যেদিন চেয়েছিলে আমি হাঁটি তোমার পাশাপাশি, সেদিন আমি অপারগতার আগুনে জ্বলছিলাম। তুমি জোর করে হেসেছিলে, অনভ্যস্ত মুখোশ এটেছিলে চোখে। লুকোতে পারোনি দুঃখের রঙ। পরদিন, তোমার অভিমান আমাকে ক্ষতবিক্ষত করেছিলো। অনির্দিষ্ট নগরের রাজপথে হেঁটেছিলাম। সময় দিয়ে সময়কে গিলে নিতে চেয়েছিলাম, পারিনি...

জানি, আবার কষ্ট পেতে চাওনা বলেই নিজেকে কষ্ট দিতে থাকো বারবার। ফেলে আসা পথ ভেবে আগামীর তুমিকে কষ্ট দিওনা শ্রীময়ী...

ইতি,
তোমারই আমি...

বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০১৫

শ্রীময়ী, তোমাকে... [১২]

শ্রীময়ী,

প্রজাপতিদেরও মন খারাপ হয়। আর তখন রোদ ঝলমল দুপুরটাও মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। সেই মন খারাপের মেঘ কিভাবে যেনো আমার কানে এসে বলে যায় তুমি ভালো নেই। জানি, তোমার বুকে বেজে চলেছে ফেলে আসা পথের রোদ-বৃষ্টি-কুয়াশা-ঝড়ের গান। স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ছো থেকে থেকেই...

জানো শ্রীময়ী, তোমার জমে থাকা কষ্টগুলোর শীতলতা আমিও অনুভব করতে পারি। হয়তো অনুভূতিগুলো তোমার তীব্রতার তুলনায় নগন্য, তবুও...

অন্য কথা বলি। তুমি হাসলে তোমার চারপাশ ঝলমলিয়ে ওঠে তা তো তুমি জানোই; কিন্তু এটা কি জানো তোমার সরলতাও আতশবাজি হয়ে ছড়িয়ে পড়ে আকাশে? এই আতশবাজির খানিকটা ঝলক দেখেছিলাম প্রথমদিন। এরপর যত দিন গিয়েছে, আরো আরো বেশী করে খুঁজে পেয়েছি তোমার সরলতা, হাসিতে আর ভাবনাতে...

সেইযে সেদিন, তোমার পায়ে সবুজ নূপুর জড়িয়েছিলো পাহাড়ি ঝিরির বাঁকে। কি শান্তই না ছিলো দিনটা। চারদিক শুনশান, শুধু স্রোতের ছলছল শব্দ আর মাঝে মাঝে নাম না জানা পাখির কিচিমিচি। স্বচ্ছ পানিতে মাছগুলো কেমন উদাসীন ছুটে বেড়াচ্ছিলো। ক'টা বুঝি তোমার সবুজ নূপুর ছুঁয়ে নিজেদেরও নূপুরের অংশ ভেবে নিতে চেয়েছিলো...

"পাখি হও, উড়ে যেওনা" একবার বলেছিলাম তোমায়। সেই তুমি কিভাবে যেনো প্রজাপতি হয়ে উঠলে। চঞ্চল রঙীন প্রজাপতি। যেই রঙ বর্ণনার সামর্থ আমার নেই। প্রজাপতিটা যতক্ষণ থাকে, রঙীন সুবাস ছড়ায়। রঙীন গানের সুরে ভরে তোলে দশদিক...

তুমি দেখো শ্রীময়ী, আগামী দিনগুলো তোমাকে নতুন পথের সন্ধান দিয়ে যাবে প্রজাপতির ডানায় নতুন রঙ ছড়িয়ে দিয়ে। ভালোবাসে ফেললে, সেই রঙ চিনতে ভুল কোরোনা...


পাখি হও কিংবা প্রজাপতি, ফেলে আসা পথের স্মৃতি হারিয়ে ফেলোনা। তবে এভাবে আঁকড়ে ধোরোনা, যাতে গহন কালো মেঘ ঘিরে ধরে তোমাকে। ঝরঝর বৃষ্টিতে ভিজে যায় মনের উঠোন...

ইতি

তোমারই আমি...

বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৪

পুনঃশ্চ, শ্রীময়ী... [২]

প্রিয় শ্রীময়ী,

যখন পা পিছলালে, আমার চরাচর শূন্য হয়ে গিয়েছিলো। যদিও ওখানে পানি ছিলো যৎসামান্যই, তবুও...

তোমার হৃদস্পন্দন অনুভব করেছি বহুবার, কিন্তু শুনেছি প্রথম বারের মত। আমার সারাটা অনুভূতি জুড়ে থাকবে দ্রুতলয়ে ছুটে চলা রক্তের গান...

যখন কুয়াশারা পথ খুঁজছিল শহুরে গোধুলিতে। উত্তুরে বাতাসের ফিসফিসানি মেখে তুমি শীতার্ত হচ্ছিলে। চেয়েছিলাম ওম দিতে, জড়িয়ে দিতে তোমায়। তোমারই শীতবস্ত্রে। তোমার ঘুমন্ত নিষ্পাপ মুখ চেয়ে আর জাগিয়ে তুলতে পারিনি...

আজও স্মৃতিমেঘ হানা দিলো তোমার আকাশে। একরাশ কালো রঙ ছড়িয়ে রইলো সারাক্ষণ...

শেষ বেলার রিনিঝিনি হাসিটার সমাপ্তি হ'লো জলে। আসলে, তুমি আমি আর জলের এক দারুণ বোঝাপড়া হয়তো হয়ে গেছে এতদিনে...

মনকে বেঁধে রেখোনা শ্রীময়ী, সে শোধ নেবে শরীরকে কষ্ট দিয়েই। আজ, এখন যেমন নিচ্ছে...


ইতি,
তোমারই আমি...