মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০১৪

চন্দ্রলোপাকে...

চন্দ্রলোপা,

স্মৃতির ঝাঁপি খুলি মাঝে মাঝে। কত কি সাজানো আছে থরেথরে...

খোয়া বের হওয়া সেই পুরোনো রাস্তাটার কথা মনে আছে তোমার? সেইযে, তোমার সাথে প্রথম একা একা দুজনে দেখা করেছিলাম যে রাস্তায়। জানো রাস্তাটা এখনো একরকমই আছে, হয়তো অন্য কেউ প্রথম দেখা করে সেখানে...

সেই বাসাটার কথা মনে আছে, যার তেতলায় তোমরা থাকতে? এক বৃষ্টি দুপুরে তোমাকে দেখেছিলাম জানালা ধরে বৃষ্টি মাখতে। গতপরশু গেছিলাম বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে। ভাবতে পারো, কতগুলো বছর পার হয়ে গেছে এরিমাঝে! সেই বাসাটা কিন্তু একই রকম রয়ে গেছে...

তোমার কলেজের যাত্রী ছাউনীর পাশের ঝালমুড়ি মামা এখন বুড়ো হয়ে গেছেন। হাতে পায়ে বয়সের ভাঁজ। আমাকে চিনতেই পারলেন না উনি। মনে আছে, আমাদের দেখলেই দু'টো ঠোঙা এগিয়ে দিতেন; তোমারটায় ঝাল কম লেবু বেশী আর আমারটায় পেঁয়াজ ছাড়া কড়া ঝাল?

এখনো ওখানে গেলেই পথগুলো ধরে হেঁটে বেড়াই, হঠাৎ হয়তো তোমাকে পেয়ে যাবো বলে। এত সময় চলে গেলো, মেনে নিতে পারিনা তুমি আর নেই আমার প্রিয়তম শহরে। মেনে নিতে পারিনা আমাকে না বলেই রিক্ত করে চলে গিয়েছিলে ষোলটা বছর আগে, এই মাসে...

ভালো থেকো চন্দ্রলোপা। অনেক ভালো থেকো। যেখানেই থাকো...

ইতি,
আলফেসানী

শনিবার, ১০ মে, ২০১৪

মে মেমোরীস



গ্রীষ্মকালীন দুপুরগুলো একাকী ছড়িয়ে থাকে সদর রাস্তায়
বিষণ্ণ রোদ আর বিভ্রান্ত কোকিলের ডাকে

ঝিলিমিলি মরীচিকা কেঁপে কেঁপে গ্রাস করে সকালের স্নিগ্ধতা
উদাসী ফেরিওয়ালার ছন্দবদ্ধ সুরের আহ্বানে
বিভ্রম লেখা হতে থাকে বিকেলের নোটবুকে

কিশোরী চাঁদ জাগে ধীরলয়ে, ওপাশের পলাশ বাগান ছুঁয়ে
এপাশে উচ্ছিষ্ট সিগারেট স্তুপ বেড়ে চলে বিবিধ আলাপচারিতায়

নারকোল পাতায় নিঃসঙ্গতার গান লেখা শেষে
শান্ত হয়ে ওঠে উদ্দাম হাওয়ার দল

অস্থির রাতের বারান্দায় পড়ে থাকে মীথমগ্ন জোছনা
আর, সিন্দুকের আনাচে কানাচে জমে প্যান্ডোরার ছায়া...

বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৪

আত্মমগ্ন কথামালা ২৮

মূলত লোনলীনেস নিয়া কথাবার্তা কইতে চাইতেসি।

আমার বন্ধুবান্ধবগো কথা শুনার লাইগা একটা স্ট্যান্ডবাই লিসেনার রইছে। সেইটা হইতেসি আমি। গর্ব করতেছিনা, কিন্তু আমি আসলেই খুব ভালো লিসেনার। কতজনের কথা শুনলাম এই জীবনে...
গত দুই বছরের কথাই যদি ধরি, তাইলে লিস্টি করলে একগাদা লোক হইবো।
যেমনঃ- ভা**দা, মৌ**,  দি*, তা**, সু*, জে**,নো*, তু*, রী*, পা*, অ**, সা*...
কিন্তু মজা হইলো আমার কথা গুলা শুনার মতো কেউ নাই। আমি কি বলতে চাই, আমার দুঃখগুলা কেমনতর শুননের টাইম কারোই নাই।

এমন না, যে আমি একেবারে আমার 'হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল' টাইপের হইয়া আছি। কিন্তু তারপরেওতো, কিছু সময় আসে যখন নিজেরে ওপেন বই বানাইতে ইচ্ছা হয়! সেই ইচ্ছাটা আসলে ইচ্ছা হিসাবেই রইয়া যায়...

ওই মেয়েটার (জে) পরে কারো দিকে চোখ তুইলা তাকাই নাই। যখনই তাকাইতে গেলাম, আরেকজনের তারে ভালো লাইগা গেলো। শালার স্যাক্রিফাইস করা শুরু করসি সেই ইন্টার থিকা, সেইটা এখন বাদ যাইবো কেন? সো, স্যাক্রিফাইস...

আইজকা কিঞ্চিত পান করনের পর যখন আরেকজনের (যার ফোন নং ডিলিট কইরা দিসি) সাথে কথা কইতে ইচ্ছা হইতেছিলো, তখন পা* রে ফোন দিয়া সা*র ফোনং চাইলাম, সে বুঝলোই না :)

আমিই শালার পিস অফ শিট। সেদিন পা* রে যৌক্তিক কারণে ঝাড়ি দেওয়ার পরেও সে আমার মেয়েরে ফোন দিয়া/চ্যটিং এ কিছু একটা বলছে। মেয়ে আমারে কয় তুমি এইটা ঠিক করোনাই। আমি বালটা যা ই করি সবই ভুল হইয়া যায়...

আজকে ভয়াবহ লোনলী এবং মন খারাপ, নইলে এই লেখাটা বেরইতো না...

নিজেরেই বুঝাই, তুমি শালা একটা লোনলী বোকাচু*। কোনোদিনই তোমার এই লোনলিনেস কাটবোনা। তারপরেও কেন যে অন্যদের আপন মনে কইরা ফেলি এইটা একটা বিরাট রহস্য...

রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৪

শ্রীময়ী, তোমাকে...

শ্রীময়ী,
পত্রের শুরুতে হৃদয় নিঃসৃত ভালোবাসা জেনো। পর সমাচার এই যে, অকাল বর্ষা নেমেছে আমার শহরে এবং মনে। তুমি কি শুনেছো সেই বৃষ্টির শব্দ, চৈতালি বাতাস কি বৃষ্টির ঘ্রাণ বয়ে নিয়েছে তোমার ঘরে?

জানো, সেই কৃষ্ণচুড়া গাছটায় এবার আর নতুন পাতা আসেনি। কসমস ফুলগুলি মরে যাবার পর, নতুন কোনো বুনোফুলও ফোটেনি আমাদের সহজিয়া বাগানে।

অপুদের বিদেশী কুকুরটা খুব বেশী বুড়ো হয়ে গেছে আজকাল, সাদা পশমগুলোয় কেমন যেনো তামাটে আভা। চোখেও দেখেনা ভালোমত। শুধু আমি কাছে গেলে ভুকভুক করে কেমন জানি দুঃখের ডাক ডাকে।

বহ্নিশিখার কথা মনে আছে তো? ওদের বাগানে এখন নয়তলা বিল্ডিং। পুরোনো যেই লিচু গাছটায় আমরা দোলনা টাঙাতাম ফি বছর, সেটাও কাটা হয়ে গেছে অনেকদিন হ'লো। হয়তো কারো বাসায় দরজা হয়ে রয়ে গেছে স্মৃতিচিহ্ন কিংবা কারো চুলোয় অঙার।

শ্রীময়ী, তুমি মরে গিয়ে বেঁচে গেছো। আমি বেঁচে থেকে মরে যাই প্রতিদিন। প্রতিটা স্মৃতি আমায় কুঁড়ে কুঁড়ে খায় অষ্টপ্রহর।

হয়তো দেখা হবে মরে গিয়ে বেঁচে উঠবার পর, ততদিন ভালো থেকো শ্রীময়ী...

ইতি,
তোমারই আমি

শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

তিন টুকরো...

*
শহরের রাস্তায় প্যারেডে ব্যস্ত ঘোরগ্রস্ত মেঘের দল...

*
মেঘের আড়াল নিয়ে চলে ফিরে বেড়াচ্ছে সবাই। আঁকছে শীতল ছবি, ফোনে কিংবা মনের ক্যানভাসে। যে যার নিজস্বঃতায় বুঁদ। এরিমধ্যে টুপটাপ সময় ঝরে যাচ্ছে ঘড়ি থেকে। হঠাৎ জানালা দিয়ে হুড়মুড় বাতাসের সাথে উড়ে এলো স্মৃতির ধুলো। কেউ হলো স্মৃতিকাতর আর কেউ অসহ্য নির্লিপ্ততায় ঝেড়ে ফেলে নিলো ধুলোর পরত...

*
একটা রোদেলা সকাল ছিলো জানালায়। কিছু জালিকাটা আলো ছিলো মেঝেতে ছড়ানো। কেন, কে জানে... আলোরা ছিটকে সরে গেলো বৃষ্টি বিষাদে। সারাদিন টিপটিপ, ঝিরঝির... বিকেলও বিষণ্ণ হলো ভেজা শরীর নিয়ে। সন্ধ্যা নামলো রঙীন ছাতা মাথায়। রাতের রাস্তা নদী হলো লাল-নীল-সবুজ-হলুদ আলোর প্রতিফলনে...


রবিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০১৪

স্ক্রিবলস...

২৫০৯১৩
সাদাকালো আকাশের অশ্রু মেখে বিষণ্ণ হয় কাশদল...

২৭০৯১৩
বৃষ্টি থেমে এলে স্থবির নগর
কাদা মাখা পথে বিহ্বল ইঁদুরের পাল...

২৮০৯১৩
ফুলার রোডে সন্ধ্যা নামে...
রঙীন অন্ধকার...
চোখের কোনের অশ্রু আর এলোমেলো কথামালা
বার বার হারিয়ে যেতে থাকে রিকশার ঘন্টায়...
তুই...
ভালো থাকিস রঙীন অন্ধকার রাতে
ঘুমন্ত বালিশের আদরে...


০৪১০১৩
শহর ভরা মেঘের গুঁড়ো,
আকাশ ভরা মেঘ
দুপুর জুড়ে সাঁঝের মায়া,
অবাক দিনের শেষ..


০৯১০১৩
ভুলে যাবার চেষ্টা আসলে তোমারই স্মৃতিচারণ..

১২১০১৩
অনিবার্য সকাল হেঁটে আসে,
মৃদুপায়ে;
আধা জোছনার নাগরিক পথ ধরে...


১৯১০১৩
রাত কিভাবে কালো হয়?

২০১০১৩
পাঁচিল ভাবলেই তোমার চোখ।
মেলে ধরা হাতের পাতায় লালচে আলো।
এসফল্ট, কালো ধোঁয়া আর ধুলো ওড়া বাতাসের পটভুমিতে দৃঢ় সংবদ্ধ চিবুক।

পাঁচিল ভাবলেই পায়ে দলে যাওয়া রোদ।
ড্রেনে পড়ে থাকা শুকনো পাতা।
ওভারব্রীজের জলাকীর্ণ সিঁড়িতে খানিকটা চাঁদ।

পাঁচিল ভাবলেই আমার অস্থিরতা এবং ভুল।


২৩১০১৩
দেয়ালে দেয়ালে ছায়া দিয়ে আঁকা গল্পগুলো সব পাখি হয়ে যায় কৃষ্ণপক্ষের রাতে...

২৪১০১৩
বিচ্ছিন্ন ফুলের দল ছায়া ফেলে চোখ, মন এবং আরোপিত সহজিয়া আচরণ
স্তিমিত আলো হঠাৎ ঝালর দোলায় স্মৃতির পথে পথে...


২৭১০১৩
বলছিলাম হ্যালুসিনেসনের কথা। যেখানে পাখা বদলে নিতে উইপোকারা আসে সিঁড়িঘরের আলো আঁধারে...

০৪১১১৩
দিনদিন ইউনিকর্ন হয়ে উঠি মানুষ ভরা শহরে...

১১১১১৩
আধা চাঁদের জোছনা আর নারকোল পাতায় মর্মর
ভুলিয়ে দেয় সব স্মৃতি।
আকাশের রঙ খসে পড়ে অবিন্যস্ত ভাবনায়।
তুমি তুমি বলে চিৎকার করে ওঠে সমগ্র চরাচর।
আসো।
পাশে বসো বিষণ্ণ চোখ।
দ্রৌপদী জন্ম শেষে,
আমার আলিঙ্গনে পূর্ণ চাঁদ হয়ে ওঠো প্রাগৈতিহাসিক সময়ের মেঘ...


১৩১১১৩
আমার শহরে শীতার্ত জোছনা নামে হলদে পাতার টানে। ভীড়ের ফুটপাথে ডানা মুড়ে বসে থাকে মীথ। কুকুরের দল বারবার ছুঁয়ে যায় স্বর্গভ্রষ্ট কন্যার শরীর। হাসির মুখোশে লুকানো তিরতিরে অশ্রুবিন্দু চমকায় মাঝে মাঝে...

১৬১১১৩
ভেবেছিলাম, বিকেলের রোদ খেলবে মৃদু নীল শাড়িতে
ভেবেছিলাম, আলতো কাজল থাকবে চোখের কার্ণিশে
ভেবেছিলাম, রক্তাভ টিপে সাজবে কপালের জমিন
ভেবেছিলাম, নাকফুলে ঝলকাবে দুরন্ত হাসি
ভেবেছিলাম, বাতাসে ভাসবে ভায়োলিন আর বাঁশির যুগলবন্দী
ভেবেছিলাম, আকাশে থাকবে চতুর্দশী চাঁদ
ভেবেছিলাম...


২৭১১১৩
সময় চলে যায় না, আমরাই বরং সময়কে ফেলে চলে যাই না ফেরার পথে...

২৭১১১৩
আমার দু'হাতে রেশম কোমল বাতাস ধরেছি
আমার দু'চোখে জলের স্পর্শ পেয়েছি
আমি জানি কতটা কষ্ট পেলে হৃদয় ভেঙেচুড়ে যায়
আমি জানিনা কোথায় গেলে সুখ পাওয়া যায়...


০৯১২১৩
hostile
_______
সময়ের সাথে সাথে হস্টাইল হয়ে উঠি
কারণ,
শহরে বিবিধ হস্টিলিটি নড়েচড়ে বেড়ায়
নড়েচড়ে বেড়ায় একাধিক দু'মুখো সাপ...


১৬১২১৩
কাছে আসতে পাশে বসতে হয়না...

২২১২১৩
ঘিরে থাকা কুয়াশারা অস্থির হ'লে;
বৃষ্টি নামে পৌষী কৃষ্ণপক্ষের রাতে।
আমাদের ওম ভরা লেপের দল গ্ল্যামার হারায়।
নির্ঘুম অন্ধকার সাড়া দেয় দেয়ালঘড়ির ছন্দে।
আর সময় হেঁটে চলে শ্লথ পায়ে,
বিষণ্ণ ভোরের গান গেয়ে...

শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৩

ইউনিকর্নের একটি দিন

নির্লিপ্ত রাতের আঁধার খসে পড়ে সবুজের কোলে
দিনদিন ইউনিকর্ণ হয়ে উঠি মানুষ ভরা শহরে
আতরদানে বিচ্ছিন্ন লাল আলোর সকাল খেলা করে
সুঘ্রান কমে আসে ব্যবহৃত রুমালের ভাঁজ থেকে।

সেই গল্পগুলো নাহয় অন্য দিনের জন্যে তোলা থাক
আজ নাহয় লেখা হোক সেই সব ছবি,
যেখানে রহস্যময় দেওয়ালের মুখ গান গেয়ে ওঠে ভীষণ আনন্দে
আধো আধো বোলে পাখিরা তুলে আনে যৎকিঞ্চিত কাঁচপোকা।

দুপুরের রোদ হানা দেয় উদাস করিডরে
মায়ঘেরা ছায়াবৃক্ষের পাতার লুকোচুরিতে
আমরা ভুলে যাই সময়ের আঙিনা
বিকেল নামে অদৃশ্য সাইবেরিয়ার প্রান্তরে প্রান্তরে...