মঙ্গলবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৩

বিবিধ বই বিষয়ক হাবিজাবি...

জানুয়ারী ২১, ২০১১ - ১:২৪ পূর্বাহ্ন

এমনিতেই বেশ কিছুদিন ধরে স্মৃতিকাতরতা ঘণ মেঘের মত ভর করে আছে মনে। তার উপর গতকাল মীরের পোস্ট আর সেই পোস্টে নুশেরান্টির দেয়া দু’টো লিংক পুরোই প্রাচীন যুগের শ্রাবণ মাসের মত করে স্মৃতির বৃষ্টি নামিয়ে দিলো। দুজনকেই তীব্র মাইনাস দিয়ে এই পোস্টের শুরু করলাম।
শিশুকালে সবাই কমিক্স-টমিক্স বেশী পড়ে, কিন্তু আমার এগুলা খুব কম পড়া হৈছে। তয় বই পড়া হৈছে প্রচুর। ঈদ-চান্দে রংপুর থিকা খুলনা যাইতাম ট্রেনে। সেই সুবাদে শরতাংকেলের বহুত বই পড়া হৈছে। দেবদাস, শুভদা, রামের সুমতি, কৃষ্ণকান্তের উইল এইসব পড়া হয়া গেছিলো ক্লাস থ্রি’র আগেই। আরো পড়া হইছিলো সেক্সপিয়ার সাবের হ্যাম্লেট, ম্যাকবেথ, রোমিও-জুলিয়েট, মার্চেন্ট অফ ভেনিস এগুলাও। ট্রেনেই একবার কেনা হৈছিলো হিটলারের জীবন কাহীনি। সেইটা পৈড়া আমি হিটলারের ফ্যান হয়া গেছিলাম। ভিত্রে ভিত্রে নাতসীবাদ লালন কর্ছি সেই ইন্টার পর্যন্ত।
প্রগতি প্রকাশনীর বইগুলার লগে ছিলো ভয়াবহ প্রেম। সবগুলার নাম মনে নাই, তয় কিছু কিছু বইয়ের নাম চোখ বন্ধ কর্লে এখনও সামনে ভাসে। এরাম একটা বই হৈল “শিশু” লেখকের নাম হিসাবে লেখা ছিলো “লেভ তলস্তয়” আমি এখনও কনফিউজড যে ওইটা ‘লেভ’ হৈবো না ‘লিও’ হৈবো। দারুণ স্কেচ ইলাস্ট্রেশন ছিলো বইটায়। গল্পগুলাও ছিলো বিচিত্র। হঠাত কৈরা গল্পের মাঝকানে পাঠকরে ছুঁইড়া ফালায়া দেয়া হৈতো বৈলা মনে পড়ে। অদ্ভুত আকর্ষণীয় ইলাস্ট্রেশন অলা আরেকটা বই ছিলো আমার। নামটা এখন আর মনে নাই। তয় বইটার থিম আছিলো সোভিয়েট ইউনিয়নের উন্নয়ন গাঁথা। ঐ বইটা থিকাই জানছি হাইড্রফয়েল, গ্রীন হাউজ, অটমেটিক ওয়াটারিং সিস্টেম এরাম অনেক কিছু সম্পর্কে। এখন বুঝি যে এই বইটাই আমার বিজ্ঞানের নতুন আবিষ্কার সম্মপর্কে জাননের আগ্রহটা গইড়া দিছে।
প্রগতির বই “মালাকাইটের ঝাঁপি” “সাগরতীরে” “মুমু” এত্ত এত্তবার পর্ছি, গুইনা বলার মতো না।
মালাকাইটের ঝাঁপির মালাকাইট ঠাকরুন, গুমেশকি খনি, ভুমিদাস, গোমোস্তা, দানিলা-কাতিয়া আরো আরো কত্ত চরিত্র...
সাগরতীরের সাশুক-আনুশ্যা; সাশুকের শৈশব থিকা হঠাত বাস্তবতায় ছিটকায়া পড়া...
মুমুর কুকুরটা; যারে কেন্দ্র কৈরা বইটার পুরা ঘটনা...
সব স-অ-ব কিছুর লগে নিজের কিছুনাকিছু মিল খুইজা পাইতাম। সত্য বলতে এখনও পাই...
সবচে বড় দুঃখ হৈতেছে যে বইগুলার একটাও আমার কালেকশনে নাই। রংপুর আর খুলনার একঝাঁক কুলাঙ্গার উঁইয়ের পেটে চইলা গেছে।
আব্বুর কালেকশনেও ছিলো অনেক বই। যেগুলার ভিতরে মনে পড়ে নিমাই ভট্টাংকেলের মেমসাহেবের কথা; লরেন্স সাবের লেডি চ্যাটার্লিজ লাভারের কথা। মজার বিষয় হৈলো ক্লাস থ্রীর ভিত্রেই বইগুলা পড়া শেষ কৈরা ফেলছিলাম। কিচ্ছু বুঝিনাই, পরেও আর পড়নের আগ্রহ পাইনাই। ছিলো হুমায়ুন আহমেদের নির্বাসন বইটা। শিশুবেলায় পড়া বইটা কিছুদিন আগে আবার পর্লাম। আবেদন সেইরকমই পাইছি। আরেকটা বই ছিলো আমি রাসেল বলছি নামে। ১৫ অগাস্টের ঘটনা আর ছবি ছিলো বইটায়। আমি খালি ছবিগুলা দেখতাম, আর শিশু রাসেলের লাইগা মন খারাপ করতাম।
ক্লাস ফোর ফাইভে একটু বড় হৈয়া সেবা প্রকাশনী ধর্লাম। প্রথম বইটা ছিলো কিশোর ক্লাসিকের “লাস্ট ডেইজ অফ পম্পেই”। খুলনায় আমাগো বাসার কাছে ছিলো মিল্লাত লাইব্রেরী। পড়ার বই-খাতা-কলম-পেন্সিল বিক্রির পাশাপাশি গল্পের বইও ভাড়া দিতো তারা। আমি বেশিরভাগ টাইমেই লাইব্রেরীতে দুইটা র্যানকের মাঝখানে বইসা এক-দুইটা বই শেষ কৈরা ফালাইতাম। লাইব্রেরীটা চালাইতো মিরণ আর কিরণ নামের বিহারী দুই ভাই। গত বছর খুলনা গিয়া দেখি মিরণ ভাই আর কিরণ ভাই আলাদা হইয়া গেছে। দুইজনই বুইড়া হইয়া গেছে সাথে সাথে ভাগ হইয়া গেছে আমার মিল্লাত লাইব্রেরীও। সেবার কিশোর ক্লাসিক পড়ায় ডুইবা ছিলাম। অলিভার টুইস্ট, গ্রেট এক্সপেক্টেশন্স, থ্রী মাস্কেটিয়ারস, কাউন্ট অফ মন্টেক্রিস্টো গোগ্রাসে গিলতেছিলাম এই সময় এক খালাতো ভাই গিফট দিলো তিন গোয়েন্দার কাকাতুয়া রহস্য। মাছের মুখের সামনে লোভনীয় টোপ। পুরা পাগল হইয়া গেলাম। আহা তিন গোয়েন্দা !!! আহা কিশোর-মুসা-রবিন-জিনা !!!
নতুন নেশা কুয়াশা সিরিজ। সেমি সায়েন্স ফিকশন। একটানা মনেহয় ৭৫টা বই বের হইছিলো। সব খুইজা খুইজা পড়ছি।
ক্লাস সিক্সে আবার রংপুর। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া কর্মসূচী। বড় বৈনের কলেজ পর্যায়ের বই পড়া কর্মসূচী। মনে আছে ক্লাস সেভেনের বইয়ের লিস্টে দেখছিলাম দীপু নাম্বার টু এর নাম। বড় বৈনরে বলছিলাম ইশ আমি যদি সেভেনে থাকতাম তৈলে এই বইটা পর্তে পার্তাম। বঐন আমারে ঝাড়ি দিয়া বলছিলো সামনের বছরতো পর্তেই পারবি। পরের বছর কোনো কারণে স্কুল পর্যায়ের কর্মসূচী বন্ধ হইয়া গেছিলো। আমার এখনও দীপু নাম্বার টু পড়া হৈলো না। আমার বই পড়া শেষ কৈরা বৈনের বইয়ে হামলা দিতাম। ঐ সময়েই পড়ি ক্রীতদাসের হাসি। বৈনের ম্যাট্রিকের র্যা পিড রিডারে আব্দুল্লাহ উপন্যাসটা ছিলো, বৈনের পাশাপাশি আমিও পইড়া ফেলছিলাম।
আমাদের টাইমে বাচ্চাদের লাইগা পত্রিকা ছিলো দুইটা। “শিশু” আর “নবারূণ”; নিয়মিত পড়া হৈতো। নবারূণের থিকা শিশুর বেশি ফ্যান ছিলাম। কৈশোরে আইসা ধর্চিলাম “কিশোর পত্রিকা” মাঝে মাঝে “কিশোর তারকালোক”। রহস্য পত্রিকা অবশ্য চালু ছিলো শিশিকাল থিকাই।
আস্তে আস্তে বই পড়ার টেস্ট চেঞ্জ হৈতে থাক্লো, আর আমিও বড় হইয়া গেলাম...

বিবিধ নিজস্ব হাবিজাবি...

জানুয়ারী ১৮, ২০১১ - ৭:৫২ অপরাহ্ন 

-
ইদানিং, কেন জানিনা, সব কিছু থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছি। সময় বয়ে যাচ্ছে, আমিও বয়ে যাচ্ছি সময়ের সাথে। যেন যেতে হয় বলেই।
-
সিগারেট জ্বালাই অভ্যেসে। কিছুক্ষণ পর আর স্বাদ পাইনা, ছুঁড়ে ফেলে দেই।
-
অফিসের ছাদে উঠলে কিনারে গিয়ে দাঁড়াই। নীচে তাকালে পেটের ভেতর শিরশির করে। হাঁটুর পেছনের শিরশিরে অনুভূতিটা মেরুদন্ড বেয়ে উঠে আসে। উচ্চতা ভীতি আমার সারাজীবনই। তবু, চাদের কিনারে দাঁড়িয়ে কেমন বিচিত্র আনন্দ পাই। নীচে রাস্তাতে লাফিয়ে পড়তে ইচ্ছে হয়। পারিনা। হয়তো দায়িত্ববোধ বেশী, নয়তো সাহস হয় না। বিল্ডিং ফুঁড়ে বেরিয়ে আসা রড এক হাতে ধরে মাথাটাকে বের করে দেই ছাদের সীমানার বাইরে। হয়তো আশা করি একদিন মাথা ঘুরে পড়ে যাবো। পেটের ভেতরের, হাঁটুর পেছনের শিরশিরানি উপভোগ করি।
-
সিঁড়ির ল্যান্ডিংয়ে দাঁড়িয়ে, নীচে নেমে যাওয়া সর্পিল সিঁড়ি দেখে আমারও সেই সর্পিলতাকে অনুভব করতে ইচ্ছে হয়। মনেহয় উড়তে উড়তে সর্পিলতাটাকে হয়তো সবচে ভালো উপভোগ করা যাবে। চোখ বুজে নিজেকে দেখি হাতে সিগারেট নিয়ে ভাসছি সিঁড়ির সর্পিলতায়। সিগারেটের ধোঁয়া সর্পিল ভাবে উঠে যাচ্ছে উপরে আর আমি সিঁড়ির নামছি নীচের দিকে।
-
রাস্তা পার হতে, আগে ডান-বামে তাকাতাম। এখন... রওনা হয়ে যাই। গাড়ির কান ফাটানো হর্ণে, রক্ত জুড়ে এড্রিনালিনের ছোটাছুটি উপভোগ করি। লোকজন বিরক্ত হয়, থুথুর মত করে গালি ছুঁড়ে দেয়, আমার মনে কোনো ছাপ পড়ে না।
-
বেঁচে থাকার জন্য একটা মটো তৈরী করে নিয়েছি বেশ কিছুদিন হ’লো। খ্যাতনামা কেউ একজন হয়তো বলেছিল “অতীত অর্ধমিথ্যা, ভবিষ্যত পুরোটাই মিথ্যা, বর্তমানটাই শুধু সত্য”। পছন্দ হওয়ায় নিজের করে নিয়েছি। আমি সত্যতেই বাঁচি, কিংবা বলা যায় বর্তমানেই বাঁচি।
-
কিছুদিন ধরে খুব অর্ধমিথ্যায় বসবাস করতে ইচ্ছে হচ্ছে। পুরোনো পেটমোটা কাঁচের বোতলে ভরে রাখা অর্ধমিথ্যার আচার গুলো তারিয়ে তারিয়ে খেয়ে চলেছি...
▀প্রথম স্কুল ছিলো রংপুর ক্যান্ট পাব্লিক। কেজিতে। স্পোর্টসের আনন্দে সবাই মাতোয়ারা। আমি নিজেও। বিস্কুট দৌড়ে নাম দিয়েছি। যতগুলো হিট হয়েছে, প্রত্যেকবার ফার্স্ট। ফাইনালের আগে ক্লাসটিচার ম্যাডাম জুতো খুলে ফেলতে বললেন, যুক্তি হিসেবে অন্যদের খালি-পা গুলো দেখিয়ে দিলেন। দৌড়ে দু-তিন পা যেতে না যেতেই হুমড়ি খেয়ে পড়ে গেলাম। ইগোতে বড় লাগলো। আবার দৌড়ানোর চেষ্টা না করে মাঠ থেকে বেরিয়ে আসলাম।
▀রংপুরেই, আব্বুর সাথে স্টেডিয়ামে গিয়েছি কিছু একটা দেখতে। হঠাত গ্যাঞ্জাম। একটা ঢিল এসে পড়ল মাথায়। সব কিছু অন্ধকার।
▀একটা স্বপ্ন দেখতাম শিশুবেলায় বারবার। চারদিক সাদা, ধুধু মরুভুমি। আমি দৌড়াচ্ছি। পিছনে একটা দৈত্য আছে। দেখিনি, কিন্তু জানি। অনেক দূরে কালো একটা বিন্দু দেখা যাচ্ছে। সাহায্যের আশায় প্রান হাতে নিয়ে ছুটছি কালো বিন্দুর দিকে, বিন্দুটা আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে। একসময় দশদিক, বিশ্ব চরাচর ঘণ অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে। আমি দৌড়ানো থামাচ্ছি না। আমার বুকের ভেতর ভয়ের চাপ। গলা দিয়ে কোনো শব্দ বের হয় না, আমি চেঁচিয়ে সবাইকে ডাকি, কেউ শুনতে পায় না। এক পর্যায়ে আর কিছু মনে থাকে না।
স্বপ্নটা অনেকদিন দেখিনা, তবে অনুভব করি বাস্তবেই...

অসংলগ্ন

জুলাই ২০, ২০১০ - ১১:২৭ পূর্বাহ্ন

কানাই ঘটক তার অস্থিসার পিঠটাকে টিনের মতো দেয়াল বা দেয়ালের মতো টিনের সাথে ঠেকিয়ে একটু ঝিমিয়ে নিচ্ছিলো। পায়ের সামনে লাঠিটাকে আড়াআড়ি করে রেখে নিয়েছিলো যাতে কুকুর এবং অন্যান্য নাগরিক পশুরা হুমড়ি খাবার আগে, একটু হলেও বিভ্রান্ত হয়।
আরে, এই বুড়োর চেহারার সাথে মহাত্মা গান্ধীর চেহারা হুবুহু মিলে যায়। দুর্ভাগ্য যে গান্ধী কোনো ধর্মের প্রেরিত পুরুষ না। নয়তো কানাই ঘটকের ভেতর গান্ধীর পুনঃজন্ম ঘটেছে বলে কিছু টু-পাইস কামিয়ে নেয়া যেতো।সশব্দে "ধুর বাল" বলে নিজের চিন্তাকে চুপ করিয়ে আলফেসানী পায়ের কাছে পড়ে থাকা কিছু একটার ক্যানের উপর লাথি কষিয়ে দিলো।
কানাই ঘটকের শরীরে জড়িয়ে নেবার মতো অনেক কিছুই ছিলো এই শহরের আনাচে কানাচে। কিন্তু সেই জিনিস গুলো কিনবার মতো যেই রঙীন কাগজের টুকরোগুলোর প্রয়োজন তারই অভাব ছিলো।(সে যাই হোক। কানাই ঘটকের অভাব অভিযোগের কথা আপাততঃ একটা পাশে সরিয়ে রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।) তো খালি গায়ের কানাই ঘটক, যখন ঝিমুনির ভিতরে রাস্তা দিয়ে চলতে থাকা গাড়ি গুলোর শব্দকে সেতার-সারেঙ্গী-তবলার বোল মনে করে মৃদু সুখস্বপ্নের দিকে এগোচ্ছিলো সেই সময়েই লাঠির ব্যারিকেডকে আলতো ভাবে পাশ কাটিয়ে আলফেসানীর লাথি কষানো ক্যানটা এসে তার কপালের কোনায় লাগলো। ক্যানের শব্দ না কানাই ঘটকের সুখস্বপ্ন ভেঙ্গে যাবার শব্দ বলতে পারি না, তবে শব্দ একটা হ'লো। ঘষাটে কাঁচের চোখ খুলেই ঘটক বাবু হাতের লাঠিটা নিয়ে একটা লাঠিয়ালে পরিণত হয়ে গেলো। ভিটে বাঁচানোর আকাঙ্খায় উন্মত্ত কানাই লেঠেল একটা মোক্ষম মার দিয়ে বসলো। নাগরিক পশুটা কেঁউ জাতীয় একটা শব্দ করে পড়ে যাবার সাথে সাথেই কানাই লেঠেল তার হাতের লাঠিটা নিয়ে ঝাপিয়ে পড়লো মজা দেখতে আসা অন্যান্য নাগরিক জন্তুগুলোর উপরে।
_______________________________________________________
অনেক দিন ধৈরা মাথার ভিত্রে লাইন কয়টা আটকায়া ছিলো। আইজকা বাইর কৈরা দিলাম।

নিজের সাথেই কথা বলা ১

জুন ২০, ২০১০ - ১:৪৫ পূর্বাহ্ন

**


▒ আচ্ছা, বন্ধুত্ব কি?

▓ হটাৎ বন্ধুত্বের ডেফিনিশন চাওয়ার কারণ?

▒ নাঃ। এমনিই ভাবছি আর কি। হাবিজাবি কত চিন্তাই তো মাথায় আসে, তাইনা?

▓ নিশ্চই কোনো কারণ আছে।

▒ কারণ খোঁজা বাদ। কিছু ব্যাপারে মাথায় চিন্তা ঢুকছে সেডির এ্যন্সার দর্কার।

▓ যেরাম? এটলিস্ট কিছু হিন্ট ফিন্টতো দরকার...

▒ যেরাম ধরো... বন্ধুত্ব কি কোনো শর্ত মাইনা হয়? না হওন উচিত?

▓ ওহো এই ব্যাপার??? Big smile Big smile Big smile

▒ আরেঃ খালি হাস্লেই চল্বো? কিছুতো সলুশ্যন দ্যাও।

▓ আমার মতে বন্ধুত্বে কুনু শর্ত ফর্তের বালাই থাকনের কথাই না। আরেঃ বন্ধুর লগে যদি সবকিছু কওন বা করনের অপশন না থাকে তৈলে কেরাম বন্ধুত্ব?

▒ আমারো তো কথা এইটাই। দোস্ত বন্ধুগো লগে কথা কওনের টাইমে যদি স্কেল-কম্পাস-জ্যামিতি বক্স লৈয়া মাইপা কথা কৈতে হয় তৈলে পাশের সিটে বসা অচেনা বাসযাত্রি কি দুষ কর্লো? স্পেশালী কেউরে বন্ধু কৈয়া হের্লগে অচিনা মাইনষের মতো আচরণ...

▓ হে হে হে। বড়ৈ চেইতা আছো দেখতাছি...

▒ নাঃ চেতুম ক্যান? তয় কিছু বন্ধুগো, নাকি কমু কিছু মানুষ যাগোরে বন্ধু ভাবছিলাম, তাগো এ্যটিচুড দেইখা এট্টু ডিস্টার্বড হৈয়া গেছি। ব্যাপার্না। কয়দিন পর ঠিক হৈয়া যাইবো...

▓ সেইডাই। তয় একখান কতা মনে রাইখো; শর্তের বিনিময়ে যেই বন্ধুত্ব, সেডিতে আর পয়সার বিনিময়ে বেশ্যাবৃত্তিতে কুনুই তফাৎ নাই...
__________________________________________________________
**একান্তই নিজের কনশাস আর সাবকনশাস মাইন্ডের কথাবার্তা

আত্মমগ্ন কথামালা- (একমুঠো শহুরে জোনাকের স্মৃতি)

জুন ৬, ২০১০ - ৮:৩০ অপরাহ্ন 

ওরা হাঁটছে করিডোর ধরে... আর এক এক করে জোনাকের লাশ গুনে চলছি আমরা।
.
শহুরে মানুষগুলো কখনো জোনাক দেখেনি
তাই তারা জানে না জোনাক হতে গেলে কাঁধে পাখা থাকতে হয়
নয়তো নিজের আগুনেই নিজের পুড়ে যাওয়ার নিয়ম লেখা গ্রন্থিত ইতিহাসে।
.
.
.
সেদ্ধ অর্ধসেদ্ধ জোনাকের দেহ জমে উঠছিল করিডোর জুড়ে।
.
.
.
ওরা হেঁটে আসছে করিডোর ধরে
.
ওদের হাতের মহামূল্যবান আংটি থেকে ঠিকরে পড়ছে মৃত্যুর রং
.
ওদের আগমনে কুয়াশা জমছে করিডরে
.
.
আমরা আর জোনাকদের লাশ গুনতে পারছি না
আমাদের দু'চোখ ভেঙ্গে নামছে অস্থির ঘুম।
.
.
একমুঠো জোনাকের মৃত্যু এখন দুঃস্বপ্নের অংশ হয়ে মিলিয়ে গিয়েছে বিকেলের আকাশে।

আত্মমগ্ন কথামালা (অসতর্ক রক্তবীজ)

মে ১১, ২০১০ - ২:১০ অপরাহ্ন 

রৌদ্রের গান শুনে ঘুমিয়ে পড়ে বাসন্তী ফুলের সুঘ্রাণ..
ভেজা দুপুরের স্বপ্ন, ছায়াচিত্র আঁকে এলোমেলো সাপের কক্ষপথে...
গোপন জিহ্বার ঘাসদল, চেটে নেয় অসমকামী পশুদের নগ্ন বাহুমূল...
আর বিবর্ধিত জোছনারা জমা হতে থাকে ক্যামেরার শীতল ডিসপ্লে জুড়ে
ওদিকে
পদাতিক মেঘেদের মহড়ায় ঘরময় উড়তে থাকে মনখারাপের ছেঁড়া পাতা
এবং অসতর্ক সময়ের রক্তবীজ...

এলোমেলো মুক্তগদ্য

এপ্রিল ২৬, ২০১০ - ১২:০৪ অপরাহ্ন 

।।
*
গদ্য কেনো বন্দী হয়ে থাকবে? তার ডানাগুলো তো কেটে নেয়া হয়নি? তাকে তো কোনো খাঁচায় আটকে রাখা হয়নি? তাহলে কেনো থাকবে সে বন্দী হয়ে? স্বাধীন গদ্যরা ডানা মেলুক চাঁদের অপর পৃষ্ঠায়। হেঁটে বেড়াক বৃহঃস্পতির সবচে বড় উপগ্রহে, জমাট বরফের হ্রদে।
**
যত গাঢ় হ'তে থাকে অন্ধকার, ততই খুলে যেতে থাকে রাতের গভীরে ঢুকবার দরজাগুলো। একেকটা দরজা পার হ'লে দেখা যায় অন্ধকারের বহুবর্ণিল রূপ। চাঁদের রুক্ষ দৃষ্টিতেও নেমে আসতে থাকে কোমলতা। বৃষ্টি ঝরে, বৃষ্টি ঝরে। চাঁদ ও মানুষের যুগলবন্দী মনে।
***
সন্ধ্যা চুপিচুপি হেঁটেছিলো রাতের অভিসারে। আর তাই চাঁদগুলো লাল হয়েছিলো লজ্জায়। দুপেয়ে জীবেরা এমন দেখেই অভ্যস্ত, তাই তারা নিজেদের কাজেই ব্যাস্ত ছিলো। সেজন্য অনায়াস নির্লিপ্ততায় ঝরে গেলো একাধিক শিশুর কুমারীত্ব।
****
অর্জুণ ও কৃষ্ণরা শেষপর্যন্ত বিজয়ীর বেশে ফুলের মালা-টালা গলায় পড়ে ফিরে আসে। মৃত আত্মীয়দের শোক চেপে প্রজারাও তাদের নামে জয়ধ্বণি দিতে বাধ্য হয়। মুলতঃ শ্রেষ্ঠ তীরন্দাজের সাথে স্বর্গের শ্রেষ্ঠ অধিবাসীরাও সদ্ভাব রাখতে আগ্রহী, তবেই না নশ্বর ধরায় তাদের সাম্রাজ্য চালানো কন্টক মুক্ত থাকবে।
*****
একটু বাতাস হলেই ধুলো ওড়ে। দৃষ্টি খানিকটা ঝাপসা হয়ে আসে। বাতাস কমলে ধুলোরা থিতিয়ে আসে বিভিন্ন টেবিল আর লেখার উপর। হাতে ময়লা লাগার ভয়ে ধুলোও মোছা হয়না, লেখার চরিত্ররাও আর জেগে ওঠেনা।
******
খানিকটা অহংকার কেনো জানি জমে আছে মনের পিরিচে। ফেলে দেই, দিচ্ছি করে ফেলে দেওয়াও হচ্ছে না। আবার ঠিক এড়িয়েও যাওয়া যাচ্ছে না। কিভাবে যে জমা হ'লো তার হদিসও পাওয়া যাচ্ছে না। ধুর! নিজের উপরই বিরক্ত লাগছে।