এপ্রিল ২০, ২০১১ - ১:০২ পূর্বাহ্ন
সশব্দ সন্ধ্যা নেমে আসে নাগরিক রাজপথে।
কালো ধোঁয়া, সাদা ধোঁয়া
উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে গুমোট চারদিক।
ঘাম জড়ানো জুলফি আর কপালে
চটচটে ধুলো।
কর্মক্লান্ত শরীর মনের আবর্জনায়
সহযাত্রীদের জড়িয়ে নেবার প্রচেষ্টায় ব্যাস্ত সকলে।
অন্যের ঘামে ঘাম ছুঁইয়ে বসে থাকা মানুষগুলোর
মৃতপ্রায় চোখ থেকে স্বপ্ন ছুটি নিয়ে চলে গেছে বহুদুরে।
অপেক্ষা তাই পৌণপুণিক গন্তব্যে পৌছোনোর।
অস্তগামী চাঁদের সাদা জোছনা ছড়িয়ে পড়ে সবুজ চাদরে/ আলো অন্ধকার আটকা পড়ে মীনচোখ বৃত্তে/ মাৎসন্যায় ঘটে যায় রক্তমাখা তীর সঞ্চালনে/ সবাই বন্দী রয় বৃত্তে...
মঙ্গলবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৩
পৌণপুণিক গন্তব্যের অপেক্ষা
ফোনালাপ
এপ্রিল ১৮, ২০১১ - ১:০৬ পূর্বাহ্ন
অনেক রাত। প্রায় আড়াইটা তিনটা হবে। পরিশ্রান্ত নায়ক গভীর ঘুমের রাজ্যে। উনি শুধু এই গল্পেরই নায়ক নন, উনি টিভি বা চলচ্চিত্রেরও নামকরা একজন অভিনেতা। তার বেড সাইড টেবিলে রাখা ফোন গুলোর একটা বেশ সুরেলা ভাবে গেয়ে উঠলো। রাতের শীতল নীরবতায় সুরেলা শব্দটাকে কর্কশ শোনালো। ঘুম ঘুম চোখে নায়ক ফোনটা হাতে নিলেন। কলারের নামটা দেখে নিমেষেই চোখ থেকে ঘুম ঘুম ভাবটা দূর হয়ে গেলো। শরীর ঢেকে রাখা কম্বলটা সরিয়ে তিনি সন্তর্পনে নেমে আসলেন বিছানা থেকে। পায়ের কাছে পড়ে থাকা গাউনটাকে জড়িয়ে চলে আসলেন পাশের ঘরে। আবছা আলোতে ঢেকে থাকা সোফাটাকে এড়িয়ে গেলেন বেড়ালের মত।
রিসিভ বাটনে চাপ দিতেই অপর পাশ থেকে ভেসে আসলো নায়লার অস্থির কণ্ঠ-
- হ্যালো। হ্যালো। কি হলো, কথা বলছো না কেনো? হ্যালো?
= কি হয়েছে জান? এখন কয়টা বাজে খেয়াল করেছো?
- কিজানি কয়টা বাজে, তুমি কি করছিলে? ঘুমাচ্ছিলে?
= অন্য কি করবো? তুমি কি পাশে আছো?
- যাও। সবসময় ফাজলামি
= কি হয়েছে বলতো? তোমার গলা কেমন অন্য রকম লাগছে।
নায়ক নিজের অভিনেতাসুলভ আচরণ এবং শব্দচয়নে মন দিলেন।
- কি হয়নি তাই বলো? ফারুক এসে উপস্থিত হয়েছে।
= ফারুক?
গলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ বিস্ময় ঢেলে নায়কের প্রশ্ন।
= ও কিভাবে তোমার ঠিকানা পেলো?
এবার বিস্ময়ের সাথে উৎকণ্ঠা যোগ করা হলো।
- কিভাবে পেলো সেটা আমি কোত্থেকে জানবো? শুধু জানি রাত একটার সময় কলবেলের শব্দ শুনে, তুমি আমাকে সারপ্রাইজ দিতে এসেছো ভেবে দরজা খুলে দিয়ে দেখি ফারুক দাঁড়িয়ে। দাঁড়িয়ে বলা ভুল হবে, ও আসলে টলছিলো। মুখ থেকে ভুরভুর করে বেরোনো মদের গন্ধ নিয়ে টলছিলো।
= বলো কি?
- প্রথমেই আমাকে ধাক্কা দিয়ে ঘরের ভিতরে ঢুঁকে গেলো। তারপর ইনিয়ে বিনিয়ে কান্না। আমাকে ছাড়া নাকি বাঁচবে না। আবোল তাবোল। আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এসেছে, আরো কত কি বলছিলো।
= তারপর?
- তারপর আর কি? যখন আমি বললাম যে ওকে ডিভোর্স দিয়ে দেবো। শুনে খেপে উঠলো। তারপর শুরু করলো আমাকে মারা।
= কি বলো? তোমার গায়ে হাত তুলেছে? এতবড় সাহস ওর?
কিছুটা উষ্মা যোগ হলো নায়কের কণ্ঠে।
- হু। মেরে কালশিটে ফেলে দিয়েছে।
= এখন? এখন কি করছে সে?
- হাতের সুখ মিটিয়ে এখন জ্ঞান হারিয়ে শুয়ে আছে মেঝেতে। আমি এখন কি করবো? যার ভয়ে শহরের এই মাথা থেকে ঐ মাথায় চলে আসলাম, তাই হ’লো।
নায়কের মাথার ভেতরের কলকব্জা গুলো পুরোদমে চালু হয়ে গেলো। সে যখন পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করতো তখন নায়লার সাথে পরিচয়। নায়লার ক্যারিয়ার তখন একেবারে মাঝ আকাশে। এই মেয়েটাকে জড়িয়েই তার নায়ক হিসেবে উত্থান। এই মেয়েটার সাহায্য না পেলে হয়তো তাকে এখনও পার্শ্বচরিত্রাভিনেতা হিসেবেই থেকে যেতে হ’ত। মেয়েটা যেমন তাকে সাহায্য করেছে উপরে উঠে আসতে তেমনই দেহমন উজাড় করে ভালওবেসেছে। কিন্তু তাকে সাহায্য করতে গিয়ে মেয়েটার নিজের ক্যারিয়ারে লেগেছে ভাটার টান, সংসারে জ্বলেছে আগুন। তারপরও সে নায়কের পাশে থেকেছে। এখন মেয়েটার ভয়াবহতম দুঃসময়ে তারে পাশে থাকা তো নৈতিক কর্তব্য।
- এই কি হ’ল? কিছু বলছো না যে?
= নাহ। আমি আসলে ভাবছিলাম কি করা যায়। আসলে কি করা উচিত।
- কিছু পেলে?
= পেয়েছি। কিন্তু তোমাকে বলতে ভয় হচ্ছে। তুমি মনেহয় আমার কথামত কাজ করতে পারবে না।
- বলেই দেখোনা। তোমার জন্য আমি সব করতে পারি স-অ-ব।
= তুমি কি পারবে ফারুকের মুখের উপর একটা বালিশ চেপে ধরতে? তাহলে সারা জীবনের জন্য আমাদের পথের কাঁটা দূর হয়ে যাবে।
- কি বলছো এসব?
= আগেই বলেছিলাম পারবে না, আমাদের মনেহয় এভাবেই দূরে দূরে থাকতে হবে।
এবার নায়কের গলার স্বর থেকে বেদনা গলে গলে পড়লো।
- না। এভাবে বলোনা। তোমাকে না পেলে আমি মরেই যাবো।
= কিন্তু ফারুক বেঁচে থাকতে সেটা কি সম্ভব? কখনই সম্ভব না।
নায়কের গলা প্রায় কাঁদো কাঁদো।
- কিন্তু...
= এই দেখো, এখনও তুমি নিজের মনকে স্থির করতে পারছো না।
- আমার হাত কাঁপছে তোমার কথা শুনেই।
= থাক তাহলে।
নায়কের গলায় হতাশার সুর বাজলো।
- না...না... তুমি বলো কিভাবে কি করতে হবে।
= তোমার বিছানা থেকে বালিশটা তুলে নিয়ে গিয়ে ফারুকের মুখের উপর চেপে ধরো। মাত্র পাঁচ মিনিট। ব্যাস।
- কিন্তু... তুমি কি এরপর আমাকে আগের মত ভালবাসবে?
= কেন বাসবো না? আমি তো তোমার সাথেই আছি। আগেও ছিলাম, এখন এই কাজের সময়েও আছি।
নায়কের গলায় এবার ভালোবাসার বন্যা।
- এরপর ফারুকের লাশটা নিয়ে কি করবো বললে না যে?
= কম্বল দিয়ে লাশটা মুড়িয়ে তোমার গাড়িটায় তুলবে। তারপর গাড়িটা চালিয়ে নিয়ে যাবে পূর্বাচলের দিকে। ওখানকার ব্রিজটার উপর থেকে লাশটাকে নদীতে ফেলে দেবে। তারপর বাসায় চলে এসে সব কিছু ভুলে যাবে।
- আমি পারবো না। আমার হাত পা সব কাঁপছে।
= ঠিক আছে তাহলে, আমার কথা ভুলে যাও।
- না, না। আমি পারবো। আমাকে পারতেই হবে।
= এইতো লক্ষী মেয়ে। যাও আমি ফোন ধরে আছি।
এক দুই তিন চার এভাবে পাঁচ মিনিট পার হয়ে গেলো। এই সময়ে নায়কের চেহারায় নানা রকম অনুভূতি তাদের ছাপ রেখে গেলো।
- হয়ে গেছে জান।
= তুমি আমার ঐ ফোনটাতে একটা রিং দাও। এটার চার্জ প্রায় শেষ।
নায়কের দ্বিতীয় ফোন এবার বেজে উঠলো। এবার নায়ক আগেই সেটার রিংগার অফ করে রেখেছিলেন।
- আমি... আমি ফারুককে মেরে ফেলেছি।
= এবার কি করবে?
- এবার লাশটাকে কম্বলে মুড়িয়ে গাড়িতে করে পুর্বাচলের ব্রিজের কাছে ফেলে আসবো।
= ভোর কিন্তু হয়ে আসছে।
- হ্যাঁ হ্যাঁ আমি যাচ্ছি।
= আমি ফার্স্ট ফ্লাইটেই চলে আসবো।
নায়ক এবার আরেকটা নাম্বারে ডায়াল করলেন।
= হ্যালো। গুলশান থানা? ওসি সাহেব বলছেন?
_ জ্বি বলছি।
= দেখুন আমি অভিনেতা মাহির হুসাম বলছি। কিছুক্ষণ আগে আমাকে আমার বন্ধু ফারুক এর স্ত্রী ফোন করেছিলেন। উনি বলছিলেন উনি নাকি আমার বন্ধু ফারুক কে খুন করেছেন। এখন নাকি নিজের গাড়িতে করে তার লাশ ফেলতে যাচ্ছেন পুর্বাচল ব্রিজের ওখানে। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমি ব্যাপারটা আপনাকে জানানো কর্তব্য মনে করছি।
_ ঠিকাছে স্যার, আমি ব্যাপারটা দেখছি। আপনি আমাকে শুধু বাসার ঠিকানাটা বলুন।
অনেক দিনতো নায়লার সাথে কাটলো। এবার তার এগিয়ে যাবার পালা, কে পুরোনো গ্ল্যামারলেস নায়িকার সাথে বাকি জীবন কাটাবে?
নায়ক কথা শেষ করে আগের সেট থেকে সিম বের করে ভেঙ্গে ফেলে বাথরুমে গিয়ে ফ্ল্যাশ করে দিলেন। তারপরে শোবার ঘরে ফিরে গাউন খুলে আবার কম্বলের তলে ঢুকে পরলেন।
পাশ থেকে মেয়েটা জিজ্ঞাসা করলো “কে ছিলো মেয়েটা?”
নায়ক বললেন “মেয়ে না তো, এক প্রযোজক। উনার সাথে একটা সিনেমার ডিল পাকা করলাম”।
মেয়েটা মৃদু হাসির সাথে বললো “এই না, না। ওখানে না। যাহ।”
ধীরে ধীরে দুজনের নিঃশ্বাস ঘন হয়ে আসলো।
অনেক রাত। প্রায় আড়াইটা তিনটা হবে। পরিশ্রান্ত নায়ক গভীর ঘুমের রাজ্যে। উনি শুধু এই গল্পেরই নায়ক নন, উনি টিভি বা চলচ্চিত্রেরও নামকরা একজন অভিনেতা। তার বেড সাইড টেবিলে রাখা ফোন গুলোর একটা বেশ সুরেলা ভাবে গেয়ে উঠলো। রাতের শীতল নীরবতায় সুরেলা শব্দটাকে কর্কশ শোনালো। ঘুম ঘুম চোখে নায়ক ফোনটা হাতে নিলেন। কলারের নামটা দেখে নিমেষেই চোখ থেকে ঘুম ঘুম ভাবটা দূর হয়ে গেলো। শরীর ঢেকে রাখা কম্বলটা সরিয়ে তিনি সন্তর্পনে নেমে আসলেন বিছানা থেকে। পায়ের কাছে পড়ে থাকা গাউনটাকে জড়িয়ে চলে আসলেন পাশের ঘরে। আবছা আলোতে ঢেকে থাকা সোফাটাকে এড়িয়ে গেলেন বেড়ালের মত।
রিসিভ বাটনে চাপ দিতেই অপর পাশ থেকে ভেসে আসলো নায়লার অস্থির কণ্ঠ-
- হ্যালো। হ্যালো। কি হলো, কথা বলছো না কেনো? হ্যালো?
= কি হয়েছে জান? এখন কয়টা বাজে খেয়াল করেছো?
- কিজানি কয়টা বাজে, তুমি কি করছিলে? ঘুমাচ্ছিলে?
= অন্য কি করবো? তুমি কি পাশে আছো?
- যাও। সবসময় ফাজলামি
= কি হয়েছে বলতো? তোমার গলা কেমন অন্য রকম লাগছে।
নায়ক নিজের অভিনেতাসুলভ আচরণ এবং শব্দচয়নে মন দিলেন।
- কি হয়নি তাই বলো? ফারুক এসে উপস্থিত হয়েছে।
= ফারুক?
গলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ বিস্ময় ঢেলে নায়কের প্রশ্ন।
= ও কিভাবে তোমার ঠিকানা পেলো?
এবার বিস্ময়ের সাথে উৎকণ্ঠা যোগ করা হলো।
- কিভাবে পেলো সেটা আমি কোত্থেকে জানবো? শুধু জানি রাত একটার সময় কলবেলের শব্দ শুনে, তুমি আমাকে সারপ্রাইজ দিতে এসেছো ভেবে দরজা খুলে দিয়ে দেখি ফারুক দাঁড়িয়ে। দাঁড়িয়ে বলা ভুল হবে, ও আসলে টলছিলো। মুখ থেকে ভুরভুর করে বেরোনো মদের গন্ধ নিয়ে টলছিলো।
= বলো কি?
- প্রথমেই আমাকে ধাক্কা দিয়ে ঘরের ভিতরে ঢুঁকে গেলো। তারপর ইনিয়ে বিনিয়ে কান্না। আমাকে ছাড়া নাকি বাঁচবে না। আবোল তাবোল। আমাকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে এসেছে, আরো কত কি বলছিলো।
= তারপর?
- তারপর আর কি? যখন আমি বললাম যে ওকে ডিভোর্স দিয়ে দেবো। শুনে খেপে উঠলো। তারপর শুরু করলো আমাকে মারা।
= কি বলো? তোমার গায়ে হাত তুলেছে? এতবড় সাহস ওর?
কিছুটা উষ্মা যোগ হলো নায়কের কণ্ঠে।
- হু। মেরে কালশিটে ফেলে দিয়েছে।
= এখন? এখন কি করছে সে?
- হাতের সুখ মিটিয়ে এখন জ্ঞান হারিয়ে শুয়ে আছে মেঝেতে। আমি এখন কি করবো? যার ভয়ে শহরের এই মাথা থেকে ঐ মাথায় চলে আসলাম, তাই হ’লো।
নায়কের মাথার ভেতরের কলকব্জা গুলো পুরোদমে চালু হয়ে গেলো। সে যখন পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করতো তখন নায়লার সাথে পরিচয়। নায়লার ক্যারিয়ার তখন একেবারে মাঝ আকাশে। এই মেয়েটাকে জড়িয়েই তার নায়ক হিসেবে উত্থান। এই মেয়েটার সাহায্য না পেলে হয়তো তাকে এখনও পার্শ্বচরিত্রাভিনেতা হিসেবেই থেকে যেতে হ’ত। মেয়েটা যেমন তাকে সাহায্য করেছে উপরে উঠে আসতে তেমনই দেহমন উজাড় করে ভালওবেসেছে। কিন্তু তাকে সাহায্য করতে গিয়ে মেয়েটার নিজের ক্যারিয়ারে লেগেছে ভাটার টান, সংসারে জ্বলেছে আগুন। তারপরও সে নায়কের পাশে থেকেছে। এখন মেয়েটার ভয়াবহতম দুঃসময়ে তারে পাশে থাকা তো নৈতিক কর্তব্য।
- এই কি হ’ল? কিছু বলছো না যে?
= নাহ। আমি আসলে ভাবছিলাম কি করা যায়। আসলে কি করা উচিত।
- কিছু পেলে?
= পেয়েছি। কিন্তু তোমাকে বলতে ভয় হচ্ছে। তুমি মনেহয় আমার কথামত কাজ করতে পারবে না।
- বলেই দেখোনা। তোমার জন্য আমি সব করতে পারি স-অ-ব।
= তুমি কি পারবে ফারুকের মুখের উপর একটা বালিশ চেপে ধরতে? তাহলে সারা জীবনের জন্য আমাদের পথের কাঁটা দূর হয়ে যাবে।
- কি বলছো এসব?
= আগেই বলেছিলাম পারবে না, আমাদের মনেহয় এভাবেই দূরে দূরে থাকতে হবে।
এবার নায়কের গলার স্বর থেকে বেদনা গলে গলে পড়লো।
- না। এভাবে বলোনা। তোমাকে না পেলে আমি মরেই যাবো।
= কিন্তু ফারুক বেঁচে থাকতে সেটা কি সম্ভব? কখনই সম্ভব না।
নায়কের গলা প্রায় কাঁদো কাঁদো।
- কিন্তু...
= এই দেখো, এখনও তুমি নিজের মনকে স্থির করতে পারছো না।
- আমার হাত কাঁপছে তোমার কথা শুনেই।
= থাক তাহলে।
নায়কের গলায় হতাশার সুর বাজলো।
- না...না... তুমি বলো কিভাবে কি করতে হবে।
= তোমার বিছানা থেকে বালিশটা তুলে নিয়ে গিয়ে ফারুকের মুখের উপর চেপে ধরো। মাত্র পাঁচ মিনিট। ব্যাস।
- কিন্তু... তুমি কি এরপর আমাকে আগের মত ভালবাসবে?
= কেন বাসবো না? আমি তো তোমার সাথেই আছি। আগেও ছিলাম, এখন এই কাজের সময়েও আছি।
নায়কের গলায় এবার ভালোবাসার বন্যা।
- এরপর ফারুকের লাশটা নিয়ে কি করবো বললে না যে?
= কম্বল দিয়ে লাশটা মুড়িয়ে তোমার গাড়িটায় তুলবে। তারপর গাড়িটা চালিয়ে নিয়ে যাবে পূর্বাচলের দিকে। ওখানকার ব্রিজটার উপর থেকে লাশটাকে নদীতে ফেলে দেবে। তারপর বাসায় চলে এসে সব কিছু ভুলে যাবে।
- আমি পারবো না। আমার হাত পা সব কাঁপছে।
= ঠিক আছে তাহলে, আমার কথা ভুলে যাও।
- না, না। আমি পারবো। আমাকে পারতেই হবে।
= এইতো লক্ষী মেয়ে। যাও আমি ফোন ধরে আছি।
এক দুই তিন চার এভাবে পাঁচ মিনিট পার হয়ে গেলো। এই সময়ে নায়কের চেহারায় নানা রকম অনুভূতি তাদের ছাপ রেখে গেলো।
- হয়ে গেছে জান।
= তুমি আমার ঐ ফোনটাতে একটা রিং দাও। এটার চার্জ প্রায় শেষ।
নায়কের দ্বিতীয় ফোন এবার বেজে উঠলো। এবার নায়ক আগেই সেটার রিংগার অফ করে রেখেছিলেন।
- আমি... আমি ফারুককে মেরে ফেলেছি।
= এবার কি করবে?
- এবার লাশটাকে কম্বলে মুড়িয়ে গাড়িতে করে পুর্বাচলের ব্রিজের কাছে ফেলে আসবো।
= ভোর কিন্তু হয়ে আসছে।
- হ্যাঁ হ্যাঁ আমি যাচ্ছি।
= আমি ফার্স্ট ফ্লাইটেই চলে আসবো।
নায়ক এবার আরেকটা নাম্বারে ডায়াল করলেন।
= হ্যালো। গুলশান থানা? ওসি সাহেব বলছেন?
_ জ্বি বলছি।
= দেখুন আমি অভিনেতা মাহির হুসাম বলছি। কিছুক্ষণ আগে আমাকে আমার বন্ধু ফারুক এর স্ত্রী ফোন করেছিলেন। উনি বলছিলেন উনি নাকি আমার বন্ধু ফারুক কে খুন করেছেন। এখন নাকি নিজের গাড়িতে করে তার লাশ ফেলতে যাচ্ছেন পুর্বাচল ব্রিজের ওখানে। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমি ব্যাপারটা আপনাকে জানানো কর্তব্য মনে করছি।
_ ঠিকাছে স্যার, আমি ব্যাপারটা দেখছি। আপনি আমাকে শুধু বাসার ঠিকানাটা বলুন।
অনেক দিনতো নায়লার সাথে কাটলো। এবার তার এগিয়ে যাবার পালা, কে পুরোনো গ্ল্যামারলেস নায়িকার সাথে বাকি জীবন কাটাবে?
নায়ক কথা শেষ করে আগের সেট থেকে সিম বের করে ভেঙ্গে ফেলে বাথরুমে গিয়ে ফ্ল্যাশ করে দিলেন। তারপরে শোবার ঘরে ফিরে গাউন খুলে আবার কম্বলের তলে ঢুকে পরলেন।
পাশ থেকে মেয়েটা জিজ্ঞাসা করলো “কে ছিলো মেয়েটা?”
নায়ক বললেন “মেয়ে না তো, এক প্রযোজক। উনার সাথে একটা সিনেমার ডিল পাকা করলাম”।
মেয়েটা মৃদু হাসির সাথে বললো “এই না, না। ওখানে না। যাহ।”
ধীরে ধীরে দুজনের নিঃশ্বাস ঘন হয়ে আসলো।
মুক্তগদ্যঃ- বৃষ্টি ও চিঠি বিষয়ক
এপ্রিল ৩, ২০১১ - ১১:৩৯ অপরাহ্ন
*
আমি এখন আর কারো কাছে থেকে চিঠি পাই না। সেই অর্থে কারো চিঠির জন্য যে উদগ্র প্রতীক্ষা, সেরকম কেউ আসলে কোনদিনই ছিলোনা। পাতাবাহারের সবুজে ছড়ানো ছিটোনো বিবিধ রঙের মত আনন্দ নিয়ে আসা বর্নিল চিঠি বন্ধ হ'য়ে গিয়েছে এক যুগ আগেই। তবু, বৃষ্টি যখনই নামে; হোক সে মাঝ দুপুরে, হোক ভোর সকালে কিংবা নিওন সন্ধ্যায় নাহয় নিশুতি রাতে। আমার খালি মনে হয় একজন পোস্টম্যান, তার বুড়োটে সাইকেলে চেপে ভিজতে ভিজতে আমার জন্য একটা চিঠি বয়ে আনছে। সারাটা বৃষ্টিক্ষণ আমি অপেক্ষায় থাকি কলবেল বেজে ওঠার...
**
রোদ ঝলমল দুপুরের একটা উদাসী মাদকতা আছে। তার সাথে যদি যোগ দেয় মফস্বলের একাকী রাস্তা আর রাস্তায় এলোমেলো ছড়ানো ছায়ারা... সেই দুপুরের উদাসী মাদকতায় আমি মরতে পারি।
এমনই এক দুপুরে, সাইকেলে টুনটুন ঘণ্টি বাজিয়ে খাকি জামার পোস্টম্যান একটা চিঠি এনেছিলো আমার জন্য।
***
রাত জাগা আমার হয়ে ওঠেনি তেমন। আঙ্গুল গোনা যে কয়টা রাত জেগেছি, মনের পর্দা সরিয়ে আসল নিজেকে খুঁজে বেড়াতেই কেটে গিয়েছে। চিঠির লাইনে লাইনে বসিয়ে দিয়েছি আমার আমিকে। আসলে রাতের আঁধার সবকিছু ঢেকে দিয়ে নিজেকে সমর্পন করে নিজের কাছেই। ভোরের আলোয় সেই চিঠি গুলোকে বড় বেশি নগ্ন লাগে। আমার আর চিঠি পোস্ট করা হয়ে ওঠে না। উঠোনে ছড়ানো শিউলি ফুলের মত, চিঠির টুকরো গুলো ঠাঁই নেয় জানালা আর দেয়ালের সীমান্তে।
****
আমার আর চিঠি লেখা হয়না। পোস্ট অফিসের পেট-মোটা লাল পোস্টবক্স গুলো বুড়ো হ'তে হ'তে একসময় তাদের পায়ের কাছে থাকা মাটিকে বন্ধুত্বের আলিঙ্গনে জড়ায়। আমার চিঠি পোস্ট করা হয়না।
*****
দূরে কোথাও কেউ হয়তো আমার মতই অপেক্ষা করে থাকে চিঠির...
*
আমি এখন আর কারো কাছে থেকে চিঠি পাই না। সেই অর্থে কারো চিঠির জন্য যে উদগ্র প্রতীক্ষা, সেরকম কেউ আসলে কোনদিনই ছিলোনা। পাতাবাহারের সবুজে ছড়ানো ছিটোনো বিবিধ রঙের মত আনন্দ নিয়ে আসা বর্নিল চিঠি বন্ধ হ'য়ে গিয়েছে এক যুগ আগেই। তবু, বৃষ্টি যখনই নামে; হোক সে মাঝ দুপুরে, হোক ভোর সকালে কিংবা নিওন সন্ধ্যায় নাহয় নিশুতি রাতে। আমার খালি মনে হয় একজন পোস্টম্যান, তার বুড়োটে সাইকেলে চেপে ভিজতে ভিজতে আমার জন্য একটা চিঠি বয়ে আনছে। সারাটা বৃষ্টিক্ষণ আমি অপেক্ষায় থাকি কলবেল বেজে ওঠার...
**
রোদ ঝলমল দুপুরের একটা উদাসী মাদকতা আছে। তার সাথে যদি যোগ দেয় মফস্বলের একাকী রাস্তা আর রাস্তায় এলোমেলো ছড়ানো ছায়ারা... সেই দুপুরের উদাসী মাদকতায় আমি মরতে পারি।
এমনই এক দুপুরে, সাইকেলে টুনটুন ঘণ্টি বাজিয়ে খাকি জামার পোস্টম্যান একটা চিঠি এনেছিলো আমার জন্য।
***
রাত জাগা আমার হয়ে ওঠেনি তেমন। আঙ্গুল গোনা যে কয়টা রাত জেগেছি, মনের পর্দা সরিয়ে আসল নিজেকে খুঁজে বেড়াতেই কেটে গিয়েছে। চিঠির লাইনে লাইনে বসিয়ে দিয়েছি আমার আমিকে। আসলে রাতের আঁধার সবকিছু ঢেকে দিয়ে নিজেকে সমর্পন করে নিজের কাছেই। ভোরের আলোয় সেই চিঠি গুলোকে বড় বেশি নগ্ন লাগে। আমার আর চিঠি পোস্ট করা হয়ে ওঠে না। উঠোনে ছড়ানো শিউলি ফুলের মত, চিঠির টুকরো গুলো ঠাঁই নেয় জানালা আর দেয়ালের সীমান্তে।
****
আমার আর চিঠি লেখা হয়না। পোস্ট অফিসের পেট-মোটা লাল পোস্টবক্স গুলো বুড়ো হ'তে হ'তে একসময় তাদের পায়ের কাছে থাকা মাটিকে বন্ধুত্বের আলিঙ্গনে জড়ায়। আমার চিঠি পোস্ট করা হয়না।
*****
দূরে কোথাও কেউ হয়তো আমার মতই অপেক্ষা করে থাকে চিঠির...
মিক্স মশল্লা-১
এপ্রিল ৩, ২০১১ - ১:৫৮ পূর্বাহ্ন
*
মানুষের ভিতর দায়িত্ববোধ নামের জিনিসটা কবে কিভাবে জন্মাবে ভাবতেই থাকি। আর মাঝখান দিয়ে সময় যেতে থাকে। একটা সো কল্ড দায়িত্বশীল মানুষের কাছ থেকে বারবারই দায়িত্বহীনের মত আচরণ পেতে থাকলে টার দায়িত্বশীলতা নিয়ে আমার ভিতরে প্রশ্ন জাগে। সেই মানুষটার উপর কোনো কাজের ভার দিয়ে আদতেই কি রিলাই করা যাবে কি না এরকম একটা চিন্তা কাজ করতে থাকে।
ভণিতা বাদ দিয়ে আসল কথা বলি। শুক্রবার সারাদিন অফিস করে, কুষ্টিয়া ব্রাঞ্চের জন্য কিছু জিনিসপাতি কেনাকাটা করলাম। সেগুলোকে প্যাকিং করালাম, এস এ পরিবহনে বুকিং দিলাম। তারপর কুষ্টিয়া ব্রাঞ্চের দায়িত্ব(!!??) যার উপর, সেই জনাব কে সব কিছু বিস্তারিত ভাবে এস এম এস করলাম। সবশেষে এস এম এস বুঝতে যদি অসুবিধা হয় তাই ভেবে আবার ফোন করে সেটা কনফার্ম করলাম। হিসাব অনুযায়ী শনিবার দুপুর সাড়ে বারোটার ভিতর জিনিসগুলা পৌছিয়ে যাবার কথা। ধরি রাস্তাঘাটের জন্য তিন সাড়ে তিন ঘণ্টা দেরী হতে পারে। সেই হিসেবে বিকাল চারটা নাগাদ জিনিসগুলো দায়িত্ব(!!??) প্রাপ্ত অফিসারের হাতে পৌঁছুবে। সেগুলো সেট আপ করতে আরও ধরি আধ ঘণ্টা। বিকাল সাড়ে চারটা। অফিস টাইম শেষ হতে আধ ঘণ্টা বাকি। অন্ততঃ একটা ফোন দিয়ে তিরিশ সেকেন্ডেও তো বলা যায় "হ্যাঁ। জিনিসগুলো আমার হাতে এসে পৌঁছেছে।" আমাদের ভিতর সেই সংস্কৃতিটা আসলে মনেহয় এখনও গড়ে ওঠেনি। দেখি রবিবার দায়িত্ববান(!!??) জনাব কি করেন। ওহো, এর আগেও তাকে কিছু জিনিস পাঠানো হয়েছে যার প্রাপ্তিস্বীকার আমার নিজেরই ফোন করে জানতে হয়েছে, তাও এক সপ্তা পর

**
মধ্যবিত্তের আর কিছু না থাক ইগো সংক্রান্ত প্রব্লেমটা খুব চওড়া। ধরা যাক কোনো কাছের মানুষের বিয়ের অনুষ্ঠান। কিন্তু সেখানেও প্রশ্ন; ওখানে কেনো যাবো, আমাকে কি কার্ড দিয়েছে?
কার্ড দেয়ার পর; এত দেরী করে কার্ড কেন দিলো? আসলে আমার উপস্থিতির কোনো গুরুত্ব নেই ওদের কাছে।
যাওয়ার ডিসিশন নেবার পর; এত আগে কেনো যাবো? ওরাতো শুধু বিয়েতে যাবার জন্য কার্ড দিয়েছে, গায়ে হলুদের কথাতো বলেনি, অ্যাটলিস্ট মুখেও বলতে পারতো।
শালার মিডিলক্লাস সেন্টু

***
এক বন্ধু। যে আমার এক বিশাল বিপদের সময় নিস্বার্থ ভাবে হেল্প করেছে। সেই তাকেই এখন চিনতে কষ্ট হয়। ছয়মাসে-বছরে কোনো যোগাযোগ নেই। যখন তার নিজের কোনো কার্যসিদ্ধির প্রয়োজন, ঠিক তখনই তার উদয় হয়। মিলাতে কষ্ট হয়। ছেলেটা খাটতে পারে খুব। কিন্তু তার লক্ষ্য কিভাবে কম খেটে বেশি আর্ণ করা যায়। এই কম খাটনি করতে গিয়ে সে যেই এফোর্টটা দেয়, সেইটা যদি কোনো চাকরী বা প্রচলিত ব্যবসার পিছনে দিতো তাহলে এতদিনে সে একটা ভালো পজিশনেই থাকতে পারতো। অনেকবার বুঝাতে চেষ্টা করেছি। বুঝবেনা। যাঃ শালা গাড়ল বলে ছেড়ে দিয়েছি

****
বৃষ্টি হবার পর কই রোমান্টিক টাইপের কিছু লেখব, তা না নিজের মেজাজ খারাপের কিছু অংশ লিখে ফেললাম...
*
মানুষের ভিতর দায়িত্ববোধ নামের জিনিসটা কবে কিভাবে জন্মাবে ভাবতেই থাকি। আর মাঝখান দিয়ে সময় যেতে থাকে। একটা সো কল্ড দায়িত্বশীল মানুষের কাছ থেকে বারবারই দায়িত্বহীনের মত আচরণ পেতে থাকলে টার দায়িত্বশীলতা নিয়ে আমার ভিতরে প্রশ্ন জাগে। সেই মানুষটার উপর কোনো কাজের ভার দিয়ে আদতেই কি রিলাই করা যাবে কি না এরকম একটা চিন্তা কাজ করতে থাকে।
ভণিতা বাদ দিয়ে আসল কথা বলি। শুক্রবার সারাদিন অফিস করে, কুষ্টিয়া ব্রাঞ্চের জন্য কিছু জিনিসপাতি কেনাকাটা করলাম। সেগুলোকে প্যাকিং করালাম, এস এ পরিবহনে বুকিং দিলাম। তারপর কুষ্টিয়া ব্রাঞ্চের দায়িত্ব(!!??) যার উপর, সেই জনাব কে সব কিছু বিস্তারিত ভাবে এস এম এস করলাম। সবশেষে এস এম এস বুঝতে যদি অসুবিধা হয় তাই ভেবে আবার ফোন করে সেটা কনফার্ম করলাম। হিসাব অনুযায়ী শনিবার দুপুর সাড়ে বারোটার ভিতর জিনিসগুলা পৌছিয়ে যাবার কথা। ধরি রাস্তাঘাটের জন্য তিন সাড়ে তিন ঘণ্টা দেরী হতে পারে। সেই হিসেবে বিকাল চারটা নাগাদ জিনিসগুলো দায়িত্ব(!!??) প্রাপ্ত অফিসারের হাতে পৌঁছুবে। সেগুলো সেট আপ করতে আরও ধরি আধ ঘণ্টা। বিকাল সাড়ে চারটা। অফিস টাইম শেষ হতে আধ ঘণ্টা বাকি। অন্ততঃ একটা ফোন দিয়ে তিরিশ সেকেন্ডেও তো বলা যায় "হ্যাঁ। জিনিসগুলো আমার হাতে এসে পৌঁছেছে।" আমাদের ভিতর সেই সংস্কৃতিটা আসলে মনেহয় এখনও গড়ে ওঠেনি। দেখি রবিবার দায়িত্ববান(!!??) জনাব কি করেন। ওহো, এর আগেও তাকে কিছু জিনিস পাঠানো হয়েছে যার প্রাপ্তিস্বীকার আমার নিজেরই ফোন করে জানতে হয়েছে, তাও এক সপ্তা পর
**
মধ্যবিত্তের আর কিছু না থাক ইগো সংক্রান্ত প্রব্লেমটা খুব চওড়া। ধরা যাক কোনো কাছের মানুষের বিয়ের অনুষ্ঠান। কিন্তু সেখানেও প্রশ্ন; ওখানে কেনো যাবো, আমাকে কি কার্ড দিয়েছে?
কার্ড দেয়ার পর; এত দেরী করে কার্ড কেন দিলো? আসলে আমার উপস্থিতির কোনো গুরুত্ব নেই ওদের কাছে।
যাওয়ার ডিসিশন নেবার পর; এত আগে কেনো যাবো? ওরাতো শুধু বিয়েতে যাবার জন্য কার্ড দিয়েছে, গায়ে হলুদের কথাতো বলেনি, অ্যাটলিস্ট মুখেও বলতে পারতো।
শালার মিডিলক্লাস সেন্টু
***
এক বন্ধু। যে আমার এক বিশাল বিপদের সময় নিস্বার্থ ভাবে হেল্প করেছে। সেই তাকেই এখন চিনতে কষ্ট হয়। ছয়মাসে-বছরে কোনো যোগাযোগ নেই। যখন তার নিজের কোনো কার্যসিদ্ধির প্রয়োজন, ঠিক তখনই তার উদয় হয়। মিলাতে কষ্ট হয়। ছেলেটা খাটতে পারে খুব। কিন্তু তার লক্ষ্য কিভাবে কম খেটে বেশি আর্ণ করা যায়। এই কম খাটনি করতে গিয়ে সে যেই এফোর্টটা দেয়, সেইটা যদি কোনো চাকরী বা প্রচলিত ব্যবসার পিছনে দিতো তাহলে এতদিনে সে একটা ভালো পজিশনেই থাকতে পারতো। অনেকবার বুঝাতে চেষ্টা করেছি। বুঝবেনা। যাঃ শালা গাড়ল বলে ছেড়ে দিয়েছি
****
বৃষ্টি হবার পর কই রোমান্টিক টাইপের কিছু লেখব, তা না নিজের মেজাজ খারাপের কিছু অংশ লিখে ফেললাম...
ভিন্নধর্মী লাইভ প্রোগ্রামে স্বাগতম
মার্চ ২৯, ২০১১ - ১১:৪১ অপরাহ্ন
অনেক পরিশ্রম করে একটা লাইভ প্রোগামের সেট তৈরী করেছি।
বিশ বাই বিশের একটা ঘর, মৃদু নীলচে আলোয় আলোকিত
ধবধবে সাদা একটা বিছানা ছাড়া আর কোনো আসবাব নেই
বিছানার উপর, পাখির পালক ভরা নরোম দু'টো বালিশ
মেঝেতে তিন গ্লাস বরফ শীতল পানি, দু'টো সিগারেট আর একটা লাইটার
ঘরের এক কোনে থাকা স্পিকার থেকে মোলায়েম ভেসে আসছে চৌরাসিয়ার বাঁশির সুর।
"ঘুম"
ভিন্নধর্মী কিন্তু সর্বাধিক সম্প্রচারিত লাইভ প্রোগ্রামে আপনাদের স্বাগতম।
অনেক পরিশ্রম করে একটা লাইভ প্রোগামের সেট তৈরী করেছি।
বিশ বাই বিশের একটা ঘর, মৃদু নীলচে আলোয় আলোকিত
ধবধবে সাদা একটা বিছানা ছাড়া আর কোনো আসবাব নেই
বিছানার উপর, পাখির পালক ভরা নরোম দু'টো বালিশ
মেঝেতে তিন গ্লাস বরফ শীতল পানি, দু'টো সিগারেট আর একটা লাইটার
ঘরের এক কোনে থাকা স্পিকার থেকে মোলায়েম ভেসে আসছে চৌরাসিয়ার বাঁশির সুর।
"ঘুম"
ভিন্নধর্মী কিন্তু সর্বাধিক সম্প্রচারিত লাইভ প্রোগ্রামে আপনাদের স্বাগতম।
নৈর্ব্যক্তিক সময়ের শব্দ
মার্চ ৯, ২০১১ - ১১:২৭ অপরাহ্ন
কয়েকটা টেলিফোন বেজে উঠেছিল কোথাও
আর, রাতজাগা ঘুমেদের আস্ফালনে চাপা পড়ছিলো
বিবিধ আগুনের তাপ
ত্রিধাবিভক্ত জিহ্বা নিয়ে উল্লসিত সাধুগোত্র
অন্যের রক্তে পানপাত্র ভরে নিচ্ছে অবিরাম
পাথর চোখের কার্নিশে ঘর বাঁধা প্রজাপতি, তোমরা উড়ে চলে যাও
এখানে স্বপ্নের বলি দেয়া হবে কিছুক্ষণ পর
বেজে উঠবে বিকলাঙ্গ নর্তকীর কাঁচের চুড়ি
হাড়ের গভীরে হেঁটে যাওয়া ঘুন পোকা, তুমি কেঁদে উঠোনা
এখনি প্রস্তুত করা হবে রাজকীয় সিংহাসন
অভিষেক হবে ক্লীব জনকের যৌনাচার
কর্মীরা ফিরে চলে গেছে মেঠোপথ অসমাপ্ত রেখে
দায়ভার... একা, অবিরাম সময়ের ।
কয়েকটা টেলিফোন বেজে উঠেছিল কোথাও
আর, রাতজাগা ঘুমেদের আস্ফালনে চাপা পড়ছিলো
বিবিধ আগুনের তাপ
ত্রিধাবিভক্ত জিহ্বা নিয়ে উল্লসিত সাধুগোত্র
অন্যের রক্তে পানপাত্র ভরে নিচ্ছে অবিরাম
পাথর চোখের কার্নিশে ঘর বাঁধা প্রজাপতি, তোমরা উড়ে চলে যাও
এখানে স্বপ্নের বলি দেয়া হবে কিছুক্ষণ পর
বেজে উঠবে বিকলাঙ্গ নর্তকীর কাঁচের চুড়ি
হাড়ের গভীরে হেঁটে যাওয়া ঘুন পোকা, তুমি কেঁদে উঠোনা
এখনি প্রস্তুত করা হবে রাজকীয় সিংহাসন
অভিষেক হবে ক্লীব জনকের যৌনাচার
কর্মীরা ফিরে চলে গেছে মেঠোপথ অসমাপ্ত রেখে
দায়ভার... একা, অবিরাম সময়ের ।
মেহেরজানঃ একাধিক বিয়েপাগলের সমাহার ও একটি প্রেমের ফোক ফ্যান্টাসি (মুক্তিযুদ্ধের গোলমরিচের গুড়া ফ্রি)
জানুয়ারী ২৮, ২০১১ - ১১:২৫ পূর্বাহ্ন
পরিচালকের দাবী এইটা একটা ফোক ফ্যান্টাসী।
.
তইলে আমরা সিনেমার ভিত্রে ঢুকনের আগে টিপিকাল ফোক ফ্যান্টাসীগুলানের মোটামুটি টেমপ্লেটটা দেইখা লই-
১. নায়কের বাপ অত্যাচারী সামন্ত প্রভু।
২. নায়কে আদর্শবাদী, প্রজাগো উপ্রে বাপের অত্যাচারে ত্যাক্ত; চান্স পাইলেই বাপের বিরোধীতা করে।
৩. নায়কে নাইকারে বাপের পুষা গুন্ডাগো আক্রমণের থিকা বাঁচায়। ফলশ্রুতিতে নাইকার লগে পেরেম।
৪. নাইকার বাপ/চাচা এলাকার প্রজাগো লিডার টাইপের, যার নায়কের বাপের লগে বনেনা। আবার সেয় অই অত্যাচারের এগেইন্সটেও অ্যাকশনে যাইবার চায় না তার ফলোয়ারগো কথা ভাইবা।
৫. দুই মুরুব্বীরে ফাকি দিয়া বিদ্রোহী নায়কের লগে নাইকার আগানে বাগানে পেরেম চলে। তাতে হেল্প করে এক/দুইজন ভাঁড় টাইপের লোক। যেইটা আবার নাইকার “জেনুইন” প্রেমিকের চউখে ধরা পইরা যায়।
৬. নাইকার সখি টাইপের কেউ একজন থাকে, যার উপ্রে নায়কের বাপের পাইক পেয়াদা কুনো না কুনো ভাবে জবর্দস্তি করে। আর এই জবর্দস্তির লাইগা সেই সখি নায়কের বাপের পাইক পেয়াদার উপ্রে চেইতা ফায়ার, পাইলেই ছিড়া ফেলে এরাম।
৭. এলাকায় গ্যাঞ্জাম বাধে/প্রজারা জাইগা উঠে, নাইকার বাপ/চাচার মিত্যু ঘটে, নায়কে প্রজাদের লগে মিল্যা বাপের বিরুদ্ধে খাড়ায়।
৮. শ্যাষে গিয়া নায়ক নাইকার মিল। নায়কের বাপের মিত্যু/ পরাজয়/ নিজের ভুল স্বীকার।
.
.
.
ব্লগে ব্লগে আলুচনার মাথায় থাকা “মেহেরজান” সিনেমাটা দেখতে গিয়া ৭নং পয়েন্টের অপভ্রংশ আর ৮নং পয়েন্ট পুরাই বাদ দেওয়া একটা সিনেমা দেখলাম।
.
এইখানে পরিচালকে ফোক ফ্যান্টাসীরে একটু উপ্রের লেভেলের দর্শকের কাছে পৌছানির লাইগা অন্য রকম একটা ফ্লেভার এড করছে। সেইটা হইলো আমাদের “মুক্তিযুদ্ধ”। তয় তরকারীতে লবন বেশি হইলে যেরাম বিস্বাদ হয়া যায়, সেরামই পরিচালক ছাগ্লামী টাইপের চউখ দিয়া মুক্তিযুদ্ধের লবন টেস্ট করতে গিয়া বিস্বাদ কৈরা ফেলছে। মুক্তিযুদ্ধের টাইমের কিছুই এই সিনামায় ফুটায়া তুলতে পারে নাই পরিচালকে।
.
আমার নিজের কাছে সবচাইতে ইরিটেটিং পার্ট হৈলো সিনামার নাইকার এক দলত্যাগী পাকি মতান্তরে বেলুচ সৈনিকের প্রেমে নাজেল হওয়া। আরো বড় ব্লান্ডার করছে পাকি সৈন্যরেই সবচাইতে বেশি মানবিক গুনের ধারক হিসাবে আর মুক্তিযোদ্ধাগোরে যুদ্ধবিমুখ বা যুদ্ধের ভিত্রে থাইকা অন্য ফায়দা লুটনের ধান্দায় থাকা মানুষ হিসাবে দেখানির চেষ্টা কৈরা।
.
আমার কথা হইলো হালায় ফ্যান্টাসীই যখন কর্বি তখন ভালা মতই কর। পাকি/বেলুচরে দিয়া মুক্তিযুদ্ধ করা। নায়ক নাইকার হ্যাপি এন্ডিং না দেখাইতে চাস তো হেরে মাইরাও ফালা। তা না কৈরা তার ফ্যান্টাসীর দৌড় থাইমা গেসে নায়কেরে পলাইয়া যাওন আর নাইকার একা জীবন যাপনে। শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধের সিনামা নামটারে জায়েজ করনের লাইগা, আর কিছু পাবলিক সিম্প্যাথি ক্রিয়েট করনের লাইগা ফর্নাথিং সিনামার ভিতরে ১৯৭১ আর একজন যুদ্ধশিশুরে আইনা ফালায়া দিসে।। মানি, সিনামায় বাস্তবের বাইরেও অনেক কিছু বানানি জিনিস থাকে। কিন্তু আমাগো মুক্তিযুদ্ধটাতো বানানি কিছু না।
.
পরিচালকের সাক্ষাতকারে পড়লাম সে নাকি এই সিনামা বানানির আগে প্রচুর গবেষণা ইত্যাদি কর্ছে মুক্তিযুদ্ধ, বীরাঙ্গনা, যুদ্ধশিশু লইয়া। কিন্তু সেই গবেষণার প্রডাক্ট যদি হয় এই আইটেম, তাইলে আমাগো গবেষণা ছাড়াই বানানি লুতুপুতু প্রেমের সিনামাগুলা এরচাইতে অনেক গুনে ভালা। আরো একটা জিনিস পড়লাম যে সে নাকি প্রপার প্রমাণ পায় নাই যে ঠিক কত সংখ্যক নারীর উপ্রে পাকিরা নির্যাতন কর্ছে, এই প্রসঙ্গে সে বলছে সে নাকি মাত্র ১১ জনের সাক্ষাতকার পাইছে যারা তাদের উপ্রে যৌন নির্যাতনের কথা সরাসরি বলছে। এই ১১ জনের কথার থিকা তার বিচারে বেশি মূল্যায়ন পাইলো মাত্র একটা রেফারেন্স, যেইখানে আছে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীরে আর্মি ক্যাম্প থিকা পালায়া যাইতে কোন পাকি মেজর সাহায্য কর্ছে সেইটা।
এই রেফারেন্স যদি তার কাছে বেশি মূল্যায়ন না’ই পাইতো তইলে সে এটলিস্ট মুখফুইটা যৌন নির্যাতনের কথা বলা ১১ জন বীরাঙ্গনার একজনরে লইয়াই সিনামা বানানির চেষ্টা কর্তো।
.
ওভারঅল পরিচালকের পয়লা এটেম্পট হিসাবে ফোক ফ্যান্টাসী সিনামাডি কোনোমতে চলে। কিন্তু পরিচালক এই ফ্যান্টাসির লগে মুক্তিযুদ্ধের মতো একটা ইতিহাসের সময়রে জুইড়া দিয়া জিনিস্টারে পুরাই গান্ধা একটা রূপ দিয়া ফেলছে সেই সাথে নিজের গ্রহণযোগ্যতারেও প্রশ্নবিদ্ধ কৈরা ফেলছে।
.
উপসংহারের আগে-
খাজা সাহেবের অভিনয় সবচাইতে ভালো হৈছে। বাকি বয়স্ক যারা আছিলো, তারাও উত্রায়া গেছেন। তরুন লেভেলের যারা আছিলেন তারা বর্তমানে প্রচলিত কথ্যরীতিতে কথা কইছেন। সবচে বিটকেলে লাগছে কথার ভিত্রে ঠুসঠাস ইঞ্জিরি মাইরা দেওন। আমার জানামতে অইটাইমে এরম ব্যাপকহারে ইঞ্জিরি ফুটানি একটু কমই হইতো। এইখানে আমি পরিচালকের ব্যর্থতা দেখি। আরো ব্যার্থতা দেখি চরিত্রগুলার পোশাক চয়েজে, এইখানে একটু সচেতন হইলেই ব্যাপারটা এমনে কাইচা যাইতো না।
.
পুরা সিনামায় আমার সবচাইতে প্রিয় সিন হইতেছে সেইটা, যেইটায় পাকি/বেলুচ ছাগল্ডি আরেকটা জেনুইন ব্লাকবেঙ্গল ছাগলের বাচ্চারে কোলে লইয়া আদর করে।
.
ফাইনালি সব্বাইরে কই, একটু ধৈর্য ধরেন, পাইরেটেড কপি নেটে বা ৩০টাকার ডিভিডিতে আসলে সিনামাটা দেইখেন। সেই খরচটাও বেশি হইয়া যাইবো বইলাই আমার ধারণা।
পরিচালকের দাবী এইটা একটা ফোক ফ্যান্টাসী।
.
তইলে আমরা সিনেমার ভিত্রে ঢুকনের আগে টিপিকাল ফোক ফ্যান্টাসীগুলানের মোটামুটি টেমপ্লেটটা দেইখা লই-
১. নায়কের বাপ অত্যাচারী সামন্ত প্রভু।
২. নায়কে আদর্শবাদী, প্রজাগো উপ্রে বাপের অত্যাচারে ত্যাক্ত; চান্স পাইলেই বাপের বিরোধীতা করে।
৩. নায়কে নাইকারে বাপের পুষা গুন্ডাগো আক্রমণের থিকা বাঁচায়। ফলশ্রুতিতে নাইকার লগে পেরেম।
৪. নাইকার বাপ/চাচা এলাকার প্রজাগো লিডার টাইপের, যার নায়কের বাপের লগে বনেনা। আবার সেয় অই অত্যাচারের এগেইন্সটেও অ্যাকশনে যাইবার চায় না তার ফলোয়ারগো কথা ভাইবা।
৫. দুই মুরুব্বীরে ফাকি দিয়া বিদ্রোহী নায়কের লগে নাইকার আগানে বাগানে পেরেম চলে। তাতে হেল্প করে এক/দুইজন ভাঁড় টাইপের লোক। যেইটা আবার নাইকার “জেনুইন” প্রেমিকের চউখে ধরা পইরা যায়।
৬. নাইকার সখি টাইপের কেউ একজন থাকে, যার উপ্রে নায়কের বাপের পাইক পেয়াদা কুনো না কুনো ভাবে জবর্দস্তি করে। আর এই জবর্দস্তির লাইগা সেই সখি নায়কের বাপের পাইক পেয়াদার উপ্রে চেইতা ফায়ার, পাইলেই ছিড়া ফেলে এরাম।
৭. এলাকায় গ্যাঞ্জাম বাধে/প্রজারা জাইগা উঠে, নাইকার বাপ/চাচার মিত্যু ঘটে, নায়কে প্রজাদের লগে মিল্যা বাপের বিরুদ্ধে খাড়ায়।
৮. শ্যাষে গিয়া নায়ক নাইকার মিল। নায়কের বাপের মিত্যু/ পরাজয়/ নিজের ভুল স্বীকার।
.
.
.
ব্লগে ব্লগে আলুচনার মাথায় থাকা “মেহেরজান” সিনেমাটা দেখতে গিয়া ৭নং পয়েন্টের অপভ্রংশ আর ৮নং পয়েন্ট পুরাই বাদ দেওয়া একটা সিনেমা দেখলাম।
.
এইখানে পরিচালকে ফোক ফ্যান্টাসীরে একটু উপ্রের লেভেলের দর্শকের কাছে পৌছানির লাইগা অন্য রকম একটা ফ্লেভার এড করছে। সেইটা হইলো আমাদের “মুক্তিযুদ্ধ”। তয় তরকারীতে লবন বেশি হইলে যেরাম বিস্বাদ হয়া যায়, সেরামই পরিচালক ছাগ্লামী টাইপের চউখ দিয়া মুক্তিযুদ্ধের লবন টেস্ট করতে গিয়া বিস্বাদ কৈরা ফেলছে। মুক্তিযুদ্ধের টাইমের কিছুই এই সিনামায় ফুটায়া তুলতে পারে নাই পরিচালকে।
.
আমার নিজের কাছে সবচাইতে ইরিটেটিং পার্ট হৈলো সিনামার নাইকার এক দলত্যাগী পাকি মতান্তরে বেলুচ সৈনিকের প্রেমে নাজেল হওয়া। আরো বড় ব্লান্ডার করছে পাকি সৈন্যরেই সবচাইতে বেশি মানবিক গুনের ধারক হিসাবে আর মুক্তিযোদ্ধাগোরে যুদ্ধবিমুখ বা যুদ্ধের ভিত্রে থাইকা অন্য ফায়দা লুটনের ধান্দায় থাকা মানুষ হিসাবে দেখানির চেষ্টা কৈরা।
.
আমার কথা হইলো হালায় ফ্যান্টাসীই যখন কর্বি তখন ভালা মতই কর। পাকি/বেলুচরে দিয়া মুক্তিযুদ্ধ করা। নায়ক নাইকার হ্যাপি এন্ডিং না দেখাইতে চাস তো হেরে মাইরাও ফালা। তা না কৈরা তার ফ্যান্টাসীর দৌড় থাইমা গেসে নায়কেরে পলাইয়া যাওন আর নাইকার একা জীবন যাপনে। শুধুমাত্র মুক্তিযুদ্ধের সিনামা নামটারে জায়েজ করনের লাইগা, আর কিছু পাবলিক সিম্প্যাথি ক্রিয়েট করনের লাইগা ফর্নাথিং সিনামার ভিতরে ১৯৭১ আর একজন যুদ্ধশিশুরে আইনা ফালায়া দিসে।। মানি, সিনামায় বাস্তবের বাইরেও অনেক কিছু বানানি জিনিস থাকে। কিন্তু আমাগো মুক্তিযুদ্ধটাতো বানানি কিছু না।
.
পরিচালকের সাক্ষাতকারে পড়লাম সে নাকি এই সিনামা বানানির আগে প্রচুর গবেষণা ইত্যাদি কর্ছে মুক্তিযুদ্ধ, বীরাঙ্গনা, যুদ্ধশিশু লইয়া। কিন্তু সেই গবেষণার প্রডাক্ট যদি হয় এই আইটেম, তাইলে আমাগো গবেষণা ছাড়াই বানানি লুতুপুতু প্রেমের সিনামাগুলা এরচাইতে অনেক গুনে ভালা। আরো একটা জিনিস পড়লাম যে সে নাকি প্রপার প্রমাণ পায় নাই যে ঠিক কত সংখ্যক নারীর উপ্রে পাকিরা নির্যাতন কর্ছে, এই প্রসঙ্গে সে বলছে সে নাকি মাত্র ১১ জনের সাক্ষাতকার পাইছে যারা তাদের উপ্রে যৌন নির্যাতনের কথা সরাসরি বলছে। এই ১১ জনের কথার থিকা তার বিচারে বেশি মূল্যায়ন পাইলো মাত্র একটা রেফারেন্স, যেইখানে আছে ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীরে আর্মি ক্যাম্প থিকা পালায়া যাইতে কোন পাকি মেজর সাহায্য কর্ছে সেইটা।
এই রেফারেন্স যদি তার কাছে বেশি মূল্যায়ন না’ই পাইতো তইলে সে এটলিস্ট মুখফুইটা যৌন নির্যাতনের কথা বলা ১১ জন বীরাঙ্গনার একজনরে লইয়াই সিনামা বানানির চেষ্টা কর্তো।
.
ওভারঅল পরিচালকের পয়লা এটেম্পট হিসাবে ফোক ফ্যান্টাসী সিনামাডি কোনোমতে চলে। কিন্তু পরিচালক এই ফ্যান্টাসির লগে মুক্তিযুদ্ধের মতো একটা ইতিহাসের সময়রে জুইড়া দিয়া জিনিস্টারে পুরাই গান্ধা একটা রূপ দিয়া ফেলছে সেই সাথে নিজের গ্রহণযোগ্যতারেও প্রশ্নবিদ্ধ কৈরা ফেলছে।
.
উপসংহারের আগে-
খাজা সাহেবের অভিনয় সবচাইতে ভালো হৈছে। বাকি বয়স্ক যারা আছিলো, তারাও উত্রায়া গেছেন। তরুন লেভেলের যারা আছিলেন তারা বর্তমানে প্রচলিত কথ্যরীতিতে কথা কইছেন। সবচে বিটকেলে লাগছে কথার ভিত্রে ঠুসঠাস ইঞ্জিরি মাইরা দেওন। আমার জানামতে অইটাইমে এরম ব্যাপকহারে ইঞ্জিরি ফুটানি একটু কমই হইতো। এইখানে আমি পরিচালকের ব্যর্থতা দেখি। আরো ব্যার্থতা দেখি চরিত্রগুলার পোশাক চয়েজে, এইখানে একটু সচেতন হইলেই ব্যাপারটা এমনে কাইচা যাইতো না।
.
পুরা সিনামায় আমার সবচাইতে প্রিয় সিন হইতেছে সেইটা, যেইটায় পাকি/বেলুচ ছাগল্ডি আরেকটা জেনুইন ব্লাকবেঙ্গল ছাগলের বাচ্চারে কোলে লইয়া আদর করে।
.
ফাইনালি সব্বাইরে কই, একটু ধৈর্য ধরেন, পাইরেটেড কপি নেটে বা ৩০টাকার ডিভিডিতে আসলে সিনামাটা দেইখেন। সেই খরচটাও বেশি হইয়া যাইবো বইলাই আমার ধারণা।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)