শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৩

ঘোর

স্পর্শঘোর...
তোমাকে কখনো শাড়িতে দেখিনি আমি, শুধু ছবি ছাড়া। কতোবার ভেবেছি বলব একদিন শাড়ি পরতে, বুকের দুরুদুরু ছন্দ ছাপিয়ে ঠোঁট পর্যন্ত পৌঁছুতে পারেনি শব্দ গুলো। একদিন আসইনা ... পেয়াজখসী আঁচল জড়ানো তোমাকে দেখি প্রাণ ভরে। হয়তো সেদিন ভুলকরে ছুঁয়ে দেবো তোমার হাত কিংবা শাড়ির আঁচল। স্পর্শঘোর জমা হবে স্মৃতির একান্ত সিন্দুকে...

শব্দঘোর...
তোমার আঁচলে আঁকা স্পর্শঘোর ছবি হয়ে গেলে, বসে থাকি নীরবে। ছবিটায় শব্দ ছোঁয়ালেই হয়ে উঠবে কবিতা, আর তুমি কবিতাটা একবার পড়লেই হয়ে যাবে গান। কিছু কিছু গান, কেন জানি বসে যায় বুকের ভেতর। রোদ গলে পড়া দুপুরে সেই গান শুনলেই বৃষ্টি নামে মনের নিকোনো উঠোনে। ঝিলিমিলি সেই উঠোনে তোমার উচ্চারিত শব্দগুলো বৃষ্টি হয়ে ঝরে। শব্দঘোরে ডুবে যায় চরাচর...

সময়ঘোর...
শব্দ ঘোরের বৃষ্টি সময়ের দেয়ালে আঁকিবুঁকি কাটে। উচ্ছল হয়ে রঙধনুর পিচকারী নিয়ে আকাশে উড়ে বেড়ায় রঙীন পাখির ঝাঁক। কিচিরমিচির গানগুলো একে একে রিকশার টুনটুন ঘন্টায় নেচে নেচে বেড়ায়। তোমার চোখে ছায়া পড়ে, তোমার চোখে আলো জ্বলে, তোমার নাকফুলে ঠিকরে যায় ঘন্টা মিনিট সেকেন্ড।  আমি সেইসব আলোছায়া সময়ঘোর নিয়ে হেটে যাই মজে ওঠা সরকারি খালের কিনার ধরে, নির্বিকার...

ভ্রান্তিঘোর...
সময়ঘোরের পথ বেয়ে সকাল আড়মোড়া ভাঙে। দেয়ালে লেগে থাকা সাময়িক শ্যাওলার খবর জানা হয় তোমার, জানা হয় আমারও। দুএক টুকরো ভ্রান্তিধুসর মেঘ জড়ো হয় সীমাহারা আকাশের আনাচে কানাচে। রঙধনু রঙ চাপা পড়তে থাকে  ভ্রান্তিঘোরের বিকেলে...

প্রতীক্ষা ঘোর
নগরের ভ্রান্তিঘোর ভরা সন্ধ্যাগুলো ফ্লাইওভার থেকে ফেরার পথে গাঢ় হয়ে উঠতে থাকে। বুকের ভেতরের দগদগে ক্ষত ঢাকতেই ঘুরে ফিরি বিবিধ শুড়িখানায়। নিজেকে লুকিয়ে ফেলতে চাই অন্য ধরনের ঘোরের ভিতরে। গ্লাসের পর গ্লাস নি:শেষ করি। কোনো নিদানে পাই না। সকাল দুপুর বিকাল সন্ধ্যা রাত ভোর... সারাসময় জুড়েই ডুবে থাকি তোমায় ভেবে... স্পর্শঘোরে... শব্দঘোরে... সময়ঘোরে... ভ্রান্তিঘোরে এবং সর্বোপরি প্রতীক্ষাঘোরে...

তুমি কি আমার ঘোর গুলোর দিকে তাকাবে তোমার মায়াবী চোখ দুটো তুলে? বুঝবে কি আমার ভালোবাসায় ঘোরগ্রস্ত হবার সুর...

সোমবার, ২২ জুলাই, ২০১৩

স্ক্রিবলস- ২২৭১৩

পিন গাঁথা ওড়নাটা ছুঁয়ে যাবার,
শরীরের মৃদু ঘ্রাণ চুরি করার অসভ্য ইচ্ছেতে
মাতাল বাতাসের আনাগোনা আজ তোমার আশেপাশে খুব...

অস্থির মাদল বেজেছে দূর কোনো গাঁয়ে সারাদিন আজ
বেজেছে আমার বুকেও...

আধেক চাঁদের লোভে
মেঘদল, দিয়েছে পাড়ি আজ বহু ক্রোশ পথ...

গহীন আলোর স্পর্শে ছায়ারা হারিয়েছে আজ
তোমারই চোখের তারায়...

শুক্রবার, ৫ জুলাই, ২০১৩

মুক্তগদ্যঃ বিস্মৃত যুবকের এলোমেলো স্মৃতি, এলোমেলো দাগ

খাতা খুলে লিখে রাখি দাগ, বিফল সন্ধ্যার আঁধার, বিপর্যস্ত বিকেল আর দুপুরের মেঘদল। রিকশার টুনটুন শব্দে বৃষ্টি নেমে আসে মসৃণ হাতিরঝিলে। রাস্তা ও এলোমেলো ব্রীজের রেলিংয়ে। প্রিজম কেটে বেরিয়ে আসা রঙধনু দেখে যুবকেরও শখ হয় মাতাল হবার। পায়ে পায়ে হেঁটে যায় শুঁড়িখানার পথ ধরে, সোডিয়াম সোনালী আলোয় দেখে রঙ মাখা নাগরিক সেলিব্রিটি।
সেই বিকেলগুলো কেনো জানি রয়েই যায়। ঘরের কোনে জমে থাকা ধুলোয়, সেলাই খুলে যাওয়া জুতোর আরামে। সময়! আহা সময়!! কে বলে তুমি অনবদ্য চিকিৎসক? তোমার হেরে যাওয়া দেখতে দেখতে মাতাল যুবকের চোখের কোনে অশ্রু জমে। ধোঁয়ায় মাখিয়ে উড়িয়ে দিই বিবর্ণ সময়ের গল্প।
পথে পথে সরোদের সুর। ব্যস্ততম সকালের রোদ নিমেষে বদলে যায় গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে। ছাতা হাতে কাউকে দেখে যুবকের হৃদয় কাঁপে। মিলিয়ে ফেলে ওড়না ও জামার রঙের বিভ্রমে। ইচ্ছে করে নেমে যাই, কথা বলি, হেঁটে চলি পাশাপাশি। ব্যস্ততার ডামাডোলে হারিয়ে যায় সরোদের সুর। বুকপকেটে কিংবা ব্যাকপকেটে জমা হতে থাকে বিষাদের ধুসর পাখি।
পার্কে বসে থাকা যুবকের চোখ পড়ে থাকে লাল ইটের ব্র্যাকেটে চলে যাওয়া আঁকাবাঁকা কংক্রিটের পথে। চা'এর কাপে চুমুক গুলো পথ ভুলে যায়, শীতল থেকে শীতলতর হয়ে যায় কাপ ছেড়ে উড়ে যাওয়া ধোঁয়ারা। কংক্রিট পথে হেঁটে যাওয়া পা দেখতে দেখতে ছায়াছবির চরিত্র জীবন্ত হয়। ভুলে যাই কিংবা মনে করি সেলুলয়েডের ছবি।
দু'টো স্বপ্নের মধ্যে যেই দূরত্ব, তাকে ভুলে থাকা হয়না যুবকের। একের পর এক স্বপ্নগুলোর দূরত্ব বাড়ে। যুবক ডুবে যায় সোনালী পাখির গান আর সবুজ ফুলের ধোঁয়ায়। দেয়ালে দেয়ালে ছায়াদের আনাগোনা বাড়ে। মানুষগুলো ঝাপসা হতে থাকে দিনের পর দিন। ভুলে যেতে থাকি সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা, রাত আর ভোরের পার্থক্য...

বুধবার, ২২ মে, ২০১৩

স্ক্রিবলস- ২২৫১৩

যৎসামান্য সন্ধ্যা গুলো ফুরিয়ে গেলে
মুঠোফোনে স্তব্ধতা বড় বেশী কানে বাজে।
ফেলে আসা সময়ের চিরকুট
হানা দেয় রাতের তরল আঁধারে
এবং দিনের দগ্ধ তাপপ্রবাহে...

রবিবার, ১৯ মে, ২০১৩

স্ক্রিবলস- ১৬৫১৩ এবং ১৯৫১৩


পাখি উড়ে গেলে; পাতারা বিষণ্ণ হয়ে যায়
জোনাকীর মত। মেঘের দেয়ালে আঁকে জলের জানালা।
স্মৃতিভ্রষ্ট রাতের আকাশে আকাশে ফোটে লক্ষ কোটি অপরাজিতার নীল...


~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

গহীন রাতের বুকে শহর জেগে ওঠে,
বেদনার সবটুকু নীল নিয়ে জেগে থাকে কিছু
জানালার কাঁচ।
অচেনা বাগানে ভাসা কামীনীর ঘ্রাণে,
দুধাশাদা বুকে, 
হামাগুড়ি দিয়ে আসে শঙ্খচুড় সাপ...

রবিবার, ১২ মে, ২০১৩

স্ক্রিবলস- ১২৫১৩

প্রিয় বৃষ্টির ফোঁটারা
ঝরে যেওনা মেঘের কার্ণিশ থেকে
মেঘেদের ভালবাসা নিয়ে ঘর বাঁধো কালো আকাশের বুকে

বৃহস্পতিবার, ৯ মে, ২০১৩

স্ক্রিবলস- ৯৫১৩

আমাদের মেঘলা সকাল আর বৃষ্টিভেজা দুপুর গুলোর ছবি
আঁকা থাকুক রাজপথে, রিকশার চাকায় চাকায়।
 

আমাদের ঘুম ঘুম ঠোঁট আর চকিত চুমুর ঘ্রাণ
উড়ে যাক মেঘদলের খেয়ালী চলার পথে।
 

আমাদের কাঁপা কাঁপা আঙুলের স্পর্শ আর স্মৃতির খড়কুটো
পুড়ে যাক কালবোশেখীর উদ্দাম বজ্রপাতে।
 

বেঁচে থাক শুধু সময় আর সময়ের গান
অসময়ের খেয়ালী ধারাপাতে...