মঙ্গলবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০১৩

জলপাই বনের আখ্যান

ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০১২ - ১১:৪১ পূর্বাহ্ন 

*
ধুসর গুবরেপোকাটা সেজেছিলো ফিরোজা সোনালী ডোরাকাটা রঙের সাজে।
**
জলপাই বনের স্নিগ্ধ সবুজে ঘুরতে এসেছিলো একটা নীল প্রজাপতি। সবুজগুলো আরো বেশী সবুজ হয়ছিলো সেই নীল প্রজাপতির আগমনী গানে। জলপাই বনের পাখিরা, কেউই দেখেনি গুবরেপোকার আনন্দ। শুধু রঙ মাতাল বসন্ত তার দারুচিনিগন্ধী হাওয়া ছড়িয়ে দিয়েছিলো এদিক ওদিক।
***
কৃষ্ণপক্ষের ক্ষয়াটে চাঁদের আলো ঈর্ষায় খয়েরী হয়ে যায়। জলপাই পাতাগুলি জড়োসড়ো হয়ে ওঠে সেই খয়েরী চাঁদের ঈর্ষায়। মৃদু আলোমাখা পথ ধরে ফিরে যেতে থাকে আনন্দের দল, আর অস্ত্র সজ্জিত বিষাদেরা এক এক করে দখল নিতে থাকে দারুচিনীগন্ধী হাওয়ার।
****
কাঠবাদামের হাল্কা সবুজ পাতাগুলোয় জমা হওয়া শিশিরবিন্দুরা একটা দু'টো করে ঝরে পড়তে থাকে লালচে ধুসর মেঠোপথে। বিষাদের দল শিশিরবিন্দুর ছোঁয়ায় বদলে যায় বিষণ্ণতায়। চাঁদের খয়েরী আলো ধীরে ধীরে গাঢ় থেকে গাঢ়তর হয়। গাঢ়তর থেকে গাঢ়তম হয়। একসময় বুকভরা ঘনঘোর খয়েরী ঈর্ষা নিয়ে ডুবে যায় চাঁদ। রাত ঢেকে যায় অন্ধকারে।
*****
ঠিক, রাত তিনটা বেজে চব্বিশ মিনিটে খয়েরী ঈর্ষান্বিত চাঁদ চেপে ধরে গুবরেপোকার নাকমুখ।
******
জলপাই বনের আখ্যান, সমাপ্ত হবার একটা অনিবার্য কারণ আঁকা হয়ে গিয়েছিলো সেই সময়ের অনেক আগে থেকেই...

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন