মে ১১, ২০১০ - ২:১০ অপরাহ্ন
রৌদ্রের গান শুনে ঘুমিয়ে পড়ে বাসন্তী ফুলের সুঘ্রাণ..
ভেজা দুপুরের স্বপ্ন, ছায়াচিত্র আঁকে এলোমেলো সাপের কক্ষপথে...
গোপন জিহ্বার ঘাসদল, চেটে নেয় অসমকামী পশুদের নগ্ন বাহুমূল...
আর বিবর্ধিত জোছনারা জমা হতে থাকে ক্যামেরার শীতল ডিসপ্লে জুড়ে
ওদিকে
পদাতিক মেঘেদের মহড়ায় ঘরময় উড়তে থাকে মনখারাপের ছেঁড়া পাতা
এবং অসতর্ক সময়ের রক্তবীজ...
অস্তগামী চাঁদের সাদা জোছনা ছড়িয়ে পড়ে সবুজ চাদরে/ আলো অন্ধকার আটকা পড়ে মীনচোখ বৃত্তে/ মাৎসন্যায় ঘটে যায় রক্তমাখা তীর সঞ্চালনে/ সবাই বন্দী রয় বৃত্তে...
মঙ্গলবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০১৩
আত্মমগ্ন কথামালা (অসতর্ক রক্তবীজ)
এলোমেলো মুক্তগদ্য
এপ্রিল ২৬, ২০১০ - ১২:০৪ অপরাহ্ন
।।
*
গদ্য কেনো বন্দী হয়ে থাকবে? তার ডানাগুলো তো কেটে নেয়া হয়নি? তাকে তো কোনো খাঁচায় আটকে রাখা হয়নি? তাহলে কেনো থাকবে সে বন্দী হয়ে? স্বাধীন গদ্যরা ডানা মেলুক চাঁদের অপর পৃষ্ঠায়। হেঁটে বেড়াক বৃহঃস্পতির সবচে বড় উপগ্রহে, জমাট বরফের হ্রদে।
**
যত গাঢ় হ'তে থাকে অন্ধকার, ততই খুলে যেতে থাকে রাতের গভীরে ঢুকবার দরজাগুলো। একেকটা দরজা পার হ'লে দেখা যায় অন্ধকারের বহুবর্ণিল রূপ। চাঁদের রুক্ষ দৃষ্টিতেও নেমে আসতে থাকে কোমলতা। বৃষ্টি ঝরে, বৃষ্টি ঝরে। চাঁদ ও মানুষের যুগলবন্দী মনে।
***
সন্ধ্যা চুপিচুপি হেঁটেছিলো রাতের অভিসারে। আর তাই চাঁদগুলো লাল হয়েছিলো লজ্জায়। দুপেয়ে জীবেরা এমন দেখেই অভ্যস্ত, তাই তারা নিজেদের কাজেই ব্যাস্ত ছিলো। সেজন্য অনায়াস নির্লিপ্ততায় ঝরে গেলো একাধিক শিশুর কুমারীত্ব।
****
অর্জুণ ও কৃষ্ণরা শেষপর্যন্ত বিজয়ীর বেশে ফুলের মালা-টালা গলায় পড়ে ফিরে আসে। মৃত আত্মীয়দের শোক চেপে প্রজারাও তাদের নামে জয়ধ্বণি দিতে বাধ্য হয়। মুলতঃ শ্রেষ্ঠ তীরন্দাজের সাথে স্বর্গের শ্রেষ্ঠ অধিবাসীরাও সদ্ভাব রাখতে আগ্রহী, তবেই না নশ্বর ধরায় তাদের সাম্রাজ্য চালানো কন্টক মুক্ত থাকবে।
*****
একটু বাতাস হলেই ধুলো ওড়ে। দৃষ্টি খানিকটা ঝাপসা হয়ে আসে। বাতাস কমলে ধুলোরা থিতিয়ে আসে বিভিন্ন টেবিল আর লেখার উপর। হাতে ময়লা লাগার ভয়ে ধুলোও মোছা হয়না, লেখার চরিত্ররাও আর জেগে ওঠেনা।
******
খানিকটা অহংকার কেনো জানি জমে আছে মনের পিরিচে। ফেলে দেই, দিচ্ছি করে ফেলে দেওয়াও হচ্ছে না। আবার ঠিক এড়িয়েও যাওয়া যাচ্ছে না। কিভাবে যে জমা হ'লো তার হদিসও পাওয়া যাচ্ছে না। ধুর! নিজের উপরই বিরক্ত লাগছে।
।।
*
গদ্য কেনো বন্দী হয়ে থাকবে? তার ডানাগুলো তো কেটে নেয়া হয়নি? তাকে তো কোনো খাঁচায় আটকে রাখা হয়নি? তাহলে কেনো থাকবে সে বন্দী হয়ে? স্বাধীন গদ্যরা ডানা মেলুক চাঁদের অপর পৃষ্ঠায়। হেঁটে বেড়াক বৃহঃস্পতির সবচে বড় উপগ্রহে, জমাট বরফের হ্রদে।
**
যত গাঢ় হ'তে থাকে অন্ধকার, ততই খুলে যেতে থাকে রাতের গভীরে ঢুকবার দরজাগুলো। একেকটা দরজা পার হ'লে দেখা যায় অন্ধকারের বহুবর্ণিল রূপ। চাঁদের রুক্ষ দৃষ্টিতেও নেমে আসতে থাকে কোমলতা। বৃষ্টি ঝরে, বৃষ্টি ঝরে। চাঁদ ও মানুষের যুগলবন্দী মনে।
***
সন্ধ্যা চুপিচুপি হেঁটেছিলো রাতের অভিসারে। আর তাই চাঁদগুলো লাল হয়েছিলো লজ্জায়। দুপেয়ে জীবেরা এমন দেখেই অভ্যস্ত, তাই তারা নিজেদের কাজেই ব্যাস্ত ছিলো। সেজন্য অনায়াস নির্লিপ্ততায় ঝরে গেলো একাধিক শিশুর কুমারীত্ব।
****
অর্জুণ ও কৃষ্ণরা শেষপর্যন্ত বিজয়ীর বেশে ফুলের মালা-টালা গলায় পড়ে ফিরে আসে। মৃত আত্মীয়দের শোক চেপে প্রজারাও তাদের নামে জয়ধ্বণি দিতে বাধ্য হয়। মুলতঃ শ্রেষ্ঠ তীরন্দাজের সাথে স্বর্গের শ্রেষ্ঠ অধিবাসীরাও সদ্ভাব রাখতে আগ্রহী, তবেই না নশ্বর ধরায় তাদের সাম্রাজ্য চালানো কন্টক মুক্ত থাকবে।
*****
একটু বাতাস হলেই ধুলো ওড়ে। দৃষ্টি খানিকটা ঝাপসা হয়ে আসে। বাতাস কমলে ধুলোরা থিতিয়ে আসে বিভিন্ন টেবিল আর লেখার উপর। হাতে ময়লা লাগার ভয়ে ধুলোও মোছা হয়না, লেখার চরিত্ররাও আর জেগে ওঠেনা।
******
খানিকটা অহংকার কেনো জানি জমে আছে মনের পিরিচে। ফেলে দেই, দিচ্ছি করে ফেলে দেওয়াও হচ্ছে না। আবার ঠিক এড়িয়েও যাওয়া যাচ্ছে না। কিভাবে যে জমা হ'লো তার হদিসও পাওয়া যাচ্ছে না। ধুর! নিজের উপরই বিরক্ত লাগছে।
লেখাটার বিভাগ:
গদ্য,
গল্প,
মুক্তগদ্য,
সাহিত্যচর্চা
সোমবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০১৩
*
ছন্দবদ্ধ কার্ণিশ বেয়ে নেমে আসে হলদে রোদ। ঘাম জমে ওঠে শরীর সমতল জুড়ে। ঘোলাটে মনের আনাচ কানাচে ঘাসের বসবাস, কিছুটা আলোড়িত হয়।
ছন্দবদ্ধ কার্ণিশ বেয়ে নেমে আসে হলদে রোদ। ঘাম জমে ওঠে শরীর সমতল জুড়ে। ঘোলাটে মনের আনাচ কানাচে ঘাসের বসবাস, কিছুটা আলোড়িত হয়।
মুক্তগদ্য- পাপের পাপেট শো
সাধারনতঃ যা হয়ে থাকে, মৃত জোনাকীর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। শুধু তার পাখায় লেপ্টে থাকা পাপের ব্যসার্ধ মাপতে গিয়ে কম্পাস গলদঘর্ম হয়ে উঠেছে বারবার। কারণ? কম্পাসে বাঁধা সুতোগুলোর নিয়ন্ত্রণ ছিলো লক্ষীপেঁচার চোখের গভীর তলদেশে।
পেঁচাটা উড়ে বেড়াচ্ছিলো, সতর্ক। ঘাসের আড়ালে ঘুরে বেড়ানো ইঁদুরের খোঁজে ব্যস্ত ছিলো হালকা বাদামী চোখ দু'টো। মাকড়সাদের নানা পাপ এবং ছড়িয়ে রাখা সুতোয় জড়িয়েছিলো আঁধার। সতর্ক পেঁচার চোখদু'টো কখন যে দখল হয়ে গেল মাকড়সার আটপায়ে নিয়ন্ত্রিত সুতোয়, সেটা জেনে ওঠা হয়নি।
পেঁচাটা উড়ে বেড়াচ্ছিলো, সতর্ক। ঘাসের আড়ালে ঘুরে বেড়ানো ইঁদুরের খোঁজে ব্যস্ত ছিলো হালকা বাদামী চোখ দু'টো। মাকড়সাদের নানা পাপ এবং ছড়িয়ে রাখা সুতোয় জড়িয়েছিলো আঁধার। সতর্ক পেঁচার চোখদু'টো কখন যে দখল হয়ে গেল মাকড়সার আটপায়ে নিয়ন্ত্রিত সুতোয়, সেটা জেনে ওঠা হয়নি।
চন্দ্রলোপা,
কত সহজ পায়ে হেঁটে পার হয়ে গেলে বারো অয়নান্ত। মনে হয় এইতো সেদিন, বাসার দরজা থেকে ফিরে এসেছিলাম বিষণ্ণ আকাশকে সঙ্গী করে। তুমি তা কোনোদিনও জানতে পারবে না।
মনে আছে? প্রথম দেখার দিনটা? তোমার শরীর জড়িয়ে ছিলো নীল ওড়না, হঠাৎ করে অপরাজিতা আমার প্রিয় ফুল হয়ে উঠলো। কালো চুলের ব্রাকেটে তোমার ডিমের মতো মুখ, সারাজীবনের জন্য আঁকা হয়ে গেলো চোখের তারায়।
কত সহজ পায়ে হেঁটে পার হয়ে গেলে বারো অয়নান্ত। মনে হয় এইতো সেদিন, বাসার দরজা থেকে ফিরে এসেছিলাম বিষণ্ণ আকাশকে সঙ্গী করে। তুমি তা কোনোদিনও জানতে পারবে না।
মনে আছে? প্রথম দেখার দিনটা? তোমার শরীর জড়িয়ে ছিলো নীল ওড়না, হঠাৎ করে অপরাজিতা আমার প্রিয় ফুল হয়ে উঠলো। কালো চুলের ব্রাকেটে তোমার ডিমের মতো মুখ, সারাজীবনের জন্য আঁকা হয়ে গেলো চোখের তারায়।
একটা পলাশ ফুলের মৃত্যু সংবাদ
একটি পলাশ ফুলের মৃত্যু ঘটেছে।
শত ক্রোশ দুর থেকে ফুলটি
এসেছিলো এই শহরের বুকে,
পাপড়ির শত-কোটি স্বপ্নেরা নিপাট ভাঁজে
জমা ছিলো বুক পকেটে।
এখন...
কিছুই আর অবশিষ্ট নেই।
বাসের চাকায় পিষে গেছে পীচ ঢালা রাজপথে।
কাল...
অথবা
পরশু...
কেউ খোঁজও করবেনা রাজপথে মিশে যাওয়া পলাশের লাল।
_________________________________________________
.
.
.
.
.
.
.
.
_________________________________________________
বাই দ্য ওয়ে :- গতরাতে রোড এ্যকসিডেন্টে মারা যাওয়া মামাতো ভাইটা যখন বেঁচে ছিলো, সবাই তাকে পলাশ নামেই চিনতো।
শত ক্রোশ দুর থেকে ফুলটি
এসেছিলো এই শহরের বুকে,
পাপড়ির শত-কোটি স্বপ্নেরা নিপাট ভাঁজে
জমা ছিলো বুক পকেটে।
এখন...
কিছুই আর অবশিষ্ট নেই।
বাসের চাকায় পিষে গেছে পীচ ঢালা রাজপথে।
কাল...
অথবা
পরশু...
কেউ খোঁজও করবেনা রাজপথে মিশে যাওয়া পলাশের লাল।
_________________________________________________
.
.
.
.
.
.
.
.
_________________________________________________
বাই দ্য ওয়ে :- গতরাতে রোড এ্যকসিডেন্টে মারা যাওয়া মামাতো ভাইটা যখন বেঁচে ছিলো, সবাই তাকে পলাশ নামেই চিনতো।
নির্লিপ্তির গভীরে ডুবে যাই
এপ্রিল ১৭, ২০১০ - ৮:২৫ অপরাহ্ন
শিশুরা নির্যাতিত হয়। কাগজে বড় বড় অক্ষরে খবর ছাপা হয়। আমি অসীম নির্লিপ্তির সাথে এড়িয়ে যাই। মানুষেরা অমানুষের মত আচরণ করে, আমি নির্লিপ্ত হাতের ইশারায় জানালার পর্দা টেনে দেই। মানুষের দুঃখ-কষ্টগুলো আমাকে আর স্পর্শ করতে পারে না। কেমন যেনো একটা কুয়াশা ঢাকা চোখে তাকিয়ে থাকি। চোখের দরজা পার করে ঘটনাগুলো মনের ঘরে পৌছুতে পারে না।
আমি কি কোন রকমের মানসিক ডিসএ্যাবিলিটিতে ভুগছি? অনেকদিন ধরেই ভেবে চলেছি...
উত্তরের আশায় নিজের স্মৃতির দিকে একটু নজর দেই...
ঘটনা-১:-
‘৮৭/৮৮ সালের কথা, হাফপ্যান্ট পড়ে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে স্কুলে যাই। খুলনার বেশিরভাগ রাস্তার পাশে দিয়েই ২/২.৫ ফুট চওড়া ড্রেন। ওই ড্রেনগুলো লাফিয়ে পার হওয়া আমাদের বয়েসীদের কাছে ছিলো বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ খেলা। যাহোক, স্কুলে যাবার পথেও এমন ড্রেনের পাশ দিয়ে যেতে হত। একেবারে স্কুলের কাছে গিয়ে ড্রেনের পানিতে কচুরীপানা জমে থাকত। মাঝে মাঝে কচুরীপানার ফুল দেখে আনন্দে মনটা ভরে উঠত। কখনো সেই ফুল তুলে স্কুলে নিয়ে যেতাম, কখনো বাসায় নিয়ে আসতাম। একদিন স্কুলে যাবার পথে সবুজ কচুরীপানার ভিতরে হালকা বেগুনী আর হলুদের মিশেল দেয়া ফুল তুলতে এগিয়ে গিয়ে বেশ ধাক্কা খেলাম। সবুজ আর বেগুনীর ব্যাকগ্রাউন্ডে হালকা গোলাপী একটা পুতুলের মত শরীর আধা-ডোবা হয়ে আছে। প্রথমে ভেবেছিলাম আসলেই বুঝি পুতুল। পরে ড্রেনের পাশে পড়ে থাকা গাছের ডাল দিয়ে খোঁচা দিয়ে দেখি শরীরটা ফুটো হয়ে ডাল ঢুকে যায়। আমার আর কচুরীপানার ফুল তোলা হয়না। স্কুল থেকে ফিরে আসার পথে ওই শিশুর শরীরটা দেখিনি। বাসায় এসে অনেককেই জিজ্ঞাসা করায় মোটামুটি যে ধারণা পেলাম, ঐ বয়সের জন্য সেটা খানিকটা ভয়াবহ। শুনেছিলাম ঐ খানে নতুন একটা মা ও শিশু ক্লিনিক হয়েছে। মৃত বাচ্চাগুলোকে ওই ড্রেনে ফেলে দেয়া হয়। এই ব্যাপারটা মাসে দুই-তিনবার দেখতাম। প্রথম দিকে যেমন উত্তেজনা হত, পরে সেটা মিইয়ে গিয়েছিল। এখনও কচুরীপানার ফুল আমি ভালোবাসি। কিন্তু তুলতে যেতে পারি না।
অনেক বড় হয়ে ওঠবার পর জেনেছিলাম, আসলে স্বাভাবিক ভাবে মৃত নবজাতকদের না, ওই ড্রেনটা ছিল এ্যাবর্শন করা শিশুদের ডাম্পিং ড্রেন।
শিশুরা নির্যাতিত হয়। কাগজে বড় বড় অক্ষরে খবর ছাপা হয়। আমি অসীম নির্লিপ্তির সাথে এড়িয়ে যাই। মানুষেরা অমানুষের মত আচরণ করে, আমি নির্লিপ্ত হাতের ইশারায় জানালার পর্দা টেনে দেই। মানুষের দুঃখ-কষ্টগুলো আমাকে আর স্পর্শ করতে পারে না। কেমন যেনো একটা কুয়াশা ঢাকা চোখে তাকিয়ে থাকি। চোখের দরজা পার করে ঘটনাগুলো মনের ঘরে পৌছুতে পারে না।
আমি কি কোন রকমের মানসিক ডিসএ্যাবিলিটিতে ভুগছি? অনেকদিন ধরেই ভেবে চলেছি...
উত্তরের আশায় নিজের স্মৃতির দিকে একটু নজর দেই...
ঘটনা-১:-
‘৮৭/৮৮ সালের কথা, হাফপ্যান্ট পড়ে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে স্কুলে যাই। খুলনার বেশিরভাগ রাস্তার পাশে দিয়েই ২/২.৫ ফুট চওড়া ড্রেন। ওই ড্রেনগুলো লাফিয়ে পার হওয়া আমাদের বয়েসীদের কাছে ছিলো বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ খেলা। যাহোক, স্কুলে যাবার পথেও এমন ড্রেনের পাশ দিয়ে যেতে হত। একেবারে স্কুলের কাছে গিয়ে ড্রেনের পানিতে কচুরীপানা জমে থাকত। মাঝে মাঝে কচুরীপানার ফুল দেখে আনন্দে মনটা ভরে উঠত। কখনো সেই ফুল তুলে স্কুলে নিয়ে যেতাম, কখনো বাসায় নিয়ে আসতাম। একদিন স্কুলে যাবার পথে সবুজ কচুরীপানার ভিতরে হালকা বেগুনী আর হলুদের মিশেল দেয়া ফুল তুলতে এগিয়ে গিয়ে বেশ ধাক্কা খেলাম। সবুজ আর বেগুনীর ব্যাকগ্রাউন্ডে হালকা গোলাপী একটা পুতুলের মত শরীর আধা-ডোবা হয়ে আছে। প্রথমে ভেবেছিলাম আসলেই বুঝি পুতুল। পরে ড্রেনের পাশে পড়ে থাকা গাছের ডাল দিয়ে খোঁচা দিয়ে দেখি শরীরটা ফুটো হয়ে ডাল ঢুকে যায়। আমার আর কচুরীপানার ফুল তোলা হয়না। স্কুল থেকে ফিরে আসার পথে ওই শিশুর শরীরটা দেখিনি। বাসায় এসে অনেককেই জিজ্ঞাসা করায় মোটামুটি যে ধারণা পেলাম, ঐ বয়সের জন্য সেটা খানিকটা ভয়াবহ। শুনেছিলাম ঐ খানে নতুন একটা মা ও শিশু ক্লিনিক হয়েছে। মৃত বাচ্চাগুলোকে ওই ড্রেনে ফেলে দেয়া হয়। এই ব্যাপারটা মাসে দুই-তিনবার দেখতাম। প্রথম দিকে যেমন উত্তেজনা হত, পরে সেটা মিইয়ে গিয়েছিল। এখনও কচুরীপানার ফুল আমি ভালোবাসি। কিন্তু তুলতে যেতে পারি না।
অনেক বড় হয়ে ওঠবার পর জেনেছিলাম, আসলে স্বাভাবিক ভাবে মৃত নবজাতকদের না, ওই ড্রেনটা ছিল এ্যাবর্শন করা শিশুদের ডাম্পিং ড্রেন।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)